স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ

বিকল্প ব্যবস্থা না করে ব্যাটারিচালিত যানবাহন উচ্ছেদের ঘোষণা বাতিলের দাবি

সর্বশেষ আপডেটঃ

ঊষার আলো রিপোর্ট : বিকল্প ব্যবস্থা না করে ব্যাটারি রিকশা, ইজিবাইকসহ ব্যাটারিচালিত যানবাহন উচ্ছেদ না করার এবং সারা দেশের ৫০ লাখ চালক ও তাদের উপর নির্ভরশীল আড়াই কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষার দাবিতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রোববার (১১ জুলাই) দুপুর দেড়টায় খুলনা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ করেছে রিকশা, ব্যাটারি রিকশা ও ইজিবাইক চালক সংগ্রাম পরিষদ, খুলনা জেলা শাখা।
উল্লেখ্য, গত ২০ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সড়ক পরিবহণ টাস্কফোর্সের সভায় সারাদেশে ব্যাটারি রিকশা ও ভ্যান চলাচল বন্ধ এবং পর্যায়ক্রমে ইজিবাইক, নছিমন, করিমন ও ভটভটিকে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, সারাদেশে প্রায় ৫০ লাখ শ্রমিক ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজিবাইক ও ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে এবং এটা সাধারণ মানুষের একমাত্র বাহন। এসব রিকশা, ভ্যান ও ইজিবাইক যাত্রী পরিবহণ, পণ্য পরিবহণ এমনকি রোগী পরিবহণের ক্ষেত্রে দেশের সর্বত্র ব্যবহৃত হয়। বিদ্যুৎ চালিত বলে এসব বাহন শব্দ দূষণ বা পরিবেশ দূষণ করে না। ছোট ছোট গলি পথে চলাচল করতে পারে এবং ভাড়া কম বলে এসব বাহন দ্রুত সারাদেশে প্রয়োজনীয় ও জনপ্রিয়তায় পরিণত হয়েছে। ইতোপূর্বে বিভিন্ন সময়ে ব্যাটারিচালিত যানবাহণের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে তার যে কোনো বিকল্প নেই তা বলা হয়েছে। বাংলাদেশে বৈধভাবে ব্যাটারি ও মটর আমদানি ও তৈরী হয়। ব্যবসায়ীরা তা বিক্রী করেন, মিস্ত্রীরা এই ব্যাটারি ও মটর লাগিয়ে রিকশা তৈরি করেন। রিকশা চালানোর মত কষ্টকর ও অমানবিক শ্রমের কাজ আর নেই। ব্যাটারি লাগানোর কারণে চালকদের কিছুটা শারীরিক শ্রম লাঘব হয়, ফলে এ রিকশা সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকে তার শেষ সম্বল বিক্রী করে বা ঋণ নিয়ে রিকশা কিনে জীবিকা নির্বাহের ব্যবস্থা করেছে। বর্তমানে করোনা মহামারীতে অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের কারণে মানুষ কাজ হারিয়ে বেকার হচ্ছে। করোনার প্রথম ধাক্কায় নতুন করে ২ কোটি ৪৫ লাখ মানুষ দরিদ্র হয়েছে। এই সময়ে রিকশা বন্ধ করে দিলে আরও ৫০ লাখ মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়বে। পরিবহণের সাথে যুক্ত আড়াই কোটি মানুষ ও তাদের পরিবার-পরিজনের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে এবং তারাও নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাবে। এজন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর নিকট (১) সারাদেশে ব্যাটারি রিকশা ও ভ্যান চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার (২) প্রকৌশলী, পরিবহণ বিশেষজ্ঞ, বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় অভিজ্ঞ মেকানিকদের নিয়োগ করে ব্যাটারি চালিত যানবাহণের যথোপযুক্ত নকশা ও নিরাপদ ব্রেক পদ্ধতি নিশ্চিত করে এবং নীতিমালা প্রণয়ন করে ব্যাটারি রিকশার লাইসেন্স প্রদান (৩) বিকল্প ব্যবস্থা বা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা ছাড়া রিকশা, ব্যাটারি চালিত রিকশা, ইজিবাইক উচ্ছেদ ও হয়রাণি বন্ধ ও (৪) প্রতিটি সড়ক-মহাসড়কে রিকশা, ইজিবাইকসহ স্বল্পগতির যানবাহণ চলাচলের স্বার্থে পৃথক লেন, সার্ভিস রোড নির্মাণ করার ৪ দফা দাবি পেশ করা হয়।
এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টা ও বাসদ খুলনা জেলা সমন্বয়ক জনার্দন দত্ত নাণ্টু, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট খুলনা জেলা সভাপতি আব্দুল করিম, কোষাধ্যক্ষ কোহিনুর আক্তার কণা, সংগঠক আলমগীর হোসেন বাবু, ইলিয়াস আকন, আব্দুল হাই, মোঃ সাইফুল্লাহ, মোঃ বাবুল, মোঃ রকিব শরীফ, মোঃ রশীদ, মোঃ ইব্রাহিম, মোঃ শহিদ প্রমুখ।
(ঊষার আলো-এমএনএস)