বিপদের খবরে ছুটে চলাই তার নেশা

সর্বশেষ আপডেটঃ

মোঃ মেহেদী হাসান, মণিরামপুর : কারো বিপদের কথা শুনলে ঘরে বসে থাকতে পারেন না। ছুটে যান অমনি সেখানে। দেন শোকার্তদের সান্তানা বাড়িয়ে দেন সহযোগিতার হাত। অসহায় কেউ ক্ষুদার যন্ত্রণায় ভুগছেন শুনলে হাজির হন খাদ্যসামগ্রী নিয়ে। দেখেন না দিন কি রাত। অবিরত ছুটে চলা এই নারী মণিরামপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমা খানম। ছাত্রজীবন থেকে আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে যুক্ত তিনি। ছিলেন উপজেলা কমিটিতে। পরে যুক্ত হয় জেলা যুব মহিলালীগের সহ-সভাপতি পদে। সদ্য ঘোষিত যশোর জেলা আ’লীগের কমিটিতে সদস্যপদ পেয়েছেন নাজমা খানম। আপাদমস্তক এই রাজনীতিক ২০০৯ সালে উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরপর আর পিছন ফিরতে হয়নি তাঁকে। পরের নির্বাচনে আবার একই পদে জয় পান। দাযিত্ব পালন করেছেন ভারপ্রাপ্ত উপজেলা চেয়ারম্যানের। সর্বশেষ নৌকা নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এই পদে নির্বাচিত হয়ে মানবিক হয়ে ওঠেন তিনি। জনদরদী কাজের জন্য অল্পদিনেই জয় করেন সাধারণ মানুষের মন।

শুক্রবার (৬ আগস্ট) হালসা গ্রামের দুস্থ তাজাম্মুলের অসহায়ত্বের কথা শুনে তাঁর কাছে প্যাকেটভর্তি খাবার নিয়ে হাজির হন নাজমা খানম। একই দিনে খাটুরা ওয়ার্ড আ’লীগের সভাপতি ইসহাক আলীর পিতা মোজাম মোড়লের মৃত্যুর খবরে ছুটে গেছেন। ছুটেছেন শিরালী গ্রামের প্রবীণ আ’লীগ নেতা ইবরাহীম মোড়ল এবং কাশিমনগর ইউনিয়ন আ’লীগ নেতা স্বপদ দাসের অসুস্থতার খবরেও।
মুজিববর্ষে উপজেলায় জন্মনেওয়া শিশুদের বাড়িতে গাছ ও উপহার সামগ্রী নিয়ে হাজির হয়ে আলোচনায় আসেন এই জনপ্রতিনিধি। করোনাকালীন কর্মহীন অসহায় শতশত বাড়িতে খাবার পোঁছে দিয়েছেন তিনি। ছুটে চলেছেন ঈদসামগ্রী ও শীতবস্ত্র নিয়েও। করোনা রোগীর বাড়িতে নিজে গিয়ে পৌঁছে দিয়েছেন খাদ্য। করোনা যোদ্ধাদের দিয়েছেন নানা সামগ্রী।

মনিরামপুর হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের কষ্ট লাগবে শীতাতপযন্ত্র (এসি) বসিয়েছেন নাজমা খানম। সরেজমিন খোঁজ রাখছেন এখানে ভর্তি রোগীদের। বিশেষ দিনে রোগীদের মাঝে বিতরণ করছেন খাদ্য। সরকারের অর্থায়নের পাশাপাশি নিজের খরচে জনকল্যাণমূলক এসব কাজ করেন তিনি। গেল সপ্তাহে হাকোবা গ্রামের যুবক মৃত প্রনব মন্ডলের স্ত্রী তাপসী মন্ডলের খোঁজ নিতে তাঁর বাড়ি যান নাজমা খানম। একই দিনে পাড়ালা গ্রামের মৃত রবিন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যের মৃত্যুর খবরে ছুটে যান শ্মশানে। কয়মাস আগে চালুয়াহাটি এলাকার মেডিকেলে চান্স পাওয়া আব্দুর রহিমের ভর্তির অনিশ্চয়তার কথাশুনে তাঁর বাড়িতে ছুটে যান নাজমা খানম। নগদ ১৫ হাজার টাকা ভর্তি খরচ তুলে দিয়ে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। গেল বৃহস্পতিবার উপজেলার ভবানীপুর গ্রামে ঝড়ে গাছ পড়ে নানী নাতনী নিহত হন। নিহত পারভিন বেগমের এতিম তিন মেয়ে রয়েছেন। তাদের ঘর দেয়াসহ আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন নাজমা খানম।

নাজমা খানম বলেন, জনপ্রতিনিধি হয়ে অর্থবিত্ত কামানোর চিন্তা করিনা। সাধ্যমত মানুষের সেবা করি। কারও বিপদের কথা শুনলে স্থির থাকতে পারিনা। মানুষের ভালবাসা নিয়ে তাঁদের পাশে থাকতে চাই।

(ঊষার আলো-এমএনএস)