ভরা মৌসুমেও খুলনার ইলিশে আগুন

সর্বশেষ আপডেটঃ

ঊষার আলো প্রতিবেদক : ভরা মৌসুমেও বাজারে ইলিশের সরবরাহ কম থাকায় বেড়েছে এর দাম। যার প্রভাব পড়েছে পাইকারি থেকে খুচরা বাজারে। এতে সাধারণের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে ইলিশ। আধা কেজির একটি ইলিশের দাম ৭শ’ টাকা। আর ১ কেজি ওজনের ইলিশ ১৩শ’ থেকে ১৪শ’ টাকা। ভরা মৌসুমে ইলিশের চরা দামে হতাশ ক্রেতারা। মাছ ব্যবসায়ীরা বলছেন রপ্তানির কারণে বাজারে ইলিশের সরবরাহ কম। ফলে বেড়েছে দাম।

নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, ৫০০-৬০০ গ্রামের ইলিশ ৭০০ টাকা, ৭০০ গ্রামের ৮০০ টাকা ও ১ কেজি ওজনের ইলিশ ১৩০০ থেকে ১৪০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে ভারতে ইলিশ রপ্তানি শুরু হয়েছে। আর তাতেই বাংলাদেশের বাজারে ইলিশের দাম বেড়ে গেছে। বিক্রেতারা বলছেন সামনের মাসে ইলিশ ধরা বন্ধ হবে। ফলে দাম বাড়ায় দ্বিগুণ প্রভাব পড়ছে। ইলিশ চলে যাচ্ছে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।

উল্লেখ্য, কোলকাতার বাজারে গত বৃহস্পতিবারই (২৩ সেপ্টেম্বর) উঠেছে বাংলাদেশের ইলিশ। বুধবার রাতেই বেনাপোল দিয়ে ইলিশের চালান ভারতে যায়। হাওড়াসহ পাইকারি বাজার হয়ে সেই ইলিশ এখন কোলকাতার বাজারে। আগামী ১০ অক্টোবর পর্যন্ত এই ইলিশ রপ্তানি চলবে। পূজা উপলক্ষে মোট দুই হাজার ৮০ মেট্রিক টন ইলিশ ভারতে রপ্তানি হবে। ৫২ রপ্তানিকারকের প্রত্যেকে ৪০ টন করে বেনাপোল স্থল বন্দর দিয়ে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি পেয়েছেন।

সূত্র জানায়, প্রথম চালানে ৭৮ টনের বেশি ইলিশ পাঠানো হয়েছে ভারতে। আগামী ১০ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ রপ্তানি করতে পারবেন। চুক্তি অনুযায়ী প্রতি কেজি ইলিশ তারা ১০ ডলারে রপ্তানি করছেন। বাংলাদেশ থেকে প্রধানত হাওড়া, শিয়ালদা ও পাটিয়াপুকুর পাইকারি বাজারে ইলিশ যায়। সেখান থেকে কোলকাতাসহ ভারতের বিভিন্ন খুচরা বাজারে ইলিশ বিক্রি হয়।

নগরীর মিস্ত্রিপাড়া বাজারের ইলিশ বিক্রেতা মোজাম্মেল বলেন, ‘বিদেশে যাওয়ার কারণে ইলিশের দাম এখন বাড়তি। শুক্রবার (২৪ সেপ্টেম্বর) পাইকারি আড়ত থেকে ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রামের ইলিশের মণ কিনেছি ৫০ হাজার টাকায়। গত বছরের তুলনায় যা অনেক বেশি। দাম শুনে কিনতে চাচ্ছে না বেশির ভাগ ক্রেতা।

নগরীর নিউমার্কেটের এক মাছ বিক্রেতা জানান, এলসির কারণে ইলিশের দাম বেড়ে গেছে। মোকাম থেকে ৮শ’ থেকে ৯শ’ গ্রাম সাইজের ইলিশ ৫০ হাজার টাকায় মণ ক্রয় করেছেন তিনি। যা গত বছরের তুলনায় অনেক বেশী। দাম শুনে অনেকেই মাছ কিনতে চাচ্ছে না। মোকামে এলসি ব্যবসায়ীরা উচ্চমূল্যে মাছ ক্রয় করছেন। গত দু’দিন আগেও মাছের দাম কমছিল। কিন্তু প্রতিবেশী দেশে মাছ রপ্তানির খবরে বাজার চড়া।

নগরীর ময়লাপোতা সন্ধ্যাবাজারের মাছ বিক্রেতা বলেন, ‘এবার ইলিশ গত বছরের তুলনায় অনেক কম। তারপরে আবার ভারতে রপ্তানি করা হচ্ছে। রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের লোকজন এসে আড়ত থেকে ইলিশ কিনছে বেশি দামে।’

তিনি আরও বলেন, ‘রপ্তানিকারকরা ১ কেজির ওপরের মাছ ১৪০০ টাকায় কিনছেন। তাই আমাদের মতো খুচরা বিক্রেতাদেরও বেশি দামে ইলিশ কিনতে হচ্ছে। গত বছর এ সময় ইলিশের আমদানি ছিল বেশি, দামও ছিল কম। তখন সব শ্রেণির ক্রেতারাই কিনতে পেরেছেন, এবার অনেকেই দাম বেশির কারণে কিনতে পারছেন না।’

উচ্চমূল্যে মাছ রপ্তানিকে দাম বৃদ্ধির অন্যতম কারণ বলে জানান একই বাজারের আরেক ব্যবসায়ী। তার দাবি, ‘গত বছরের তুলনায় এবার মাছের সরবরাহ পাঁচ ভাগের এক ভাগ। তার ওপর আবার ইলিশ ভারতে যাচ্ছে। তাহলে দেশের মানুষ খাবে কী?’

‘আড়তে এসে এলসি ব্যবসায়ীরা বেশি দামে মাছ কিনে নিচ্ছেন। দুই দিন আগেও মাছের দাম কম ছিল। রপ্তানির খবরে বাজার চড়েছে।’

মিস্ত্রিপাড়া বাজারের এক ক্রেতা অনামিকা বলেন, ‘বাজারে এসেছিলাম ইলিশ কিনতে। কিন্তু দাম শুনে হতাশ হয়েছি। কদিন আগেও ৫০০ গ্রাম সাইজের ইলিশ কিনেছি ৪০০ টাকায়। এখন তো সেটাই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি চাচ্ছেন। তাই ইলিশ না কিনে অন্য মাছ কিনলাম।’

খালিশপুরের সান্ধ্য বাজারের ইলিশ ব্যবসায়ী মিরাজ জানান, এবার ইলিশের সরবরাহ অনেক কম। তারপরে ভারতে মাছ রপ্তানি করা হচ্ছে। রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের নিয়োজিত সদস্যরা মোকাম থেকে মাছ ক্রয় করছে বেশী দামে। তারা এক কেজির ওপরে মাছ ১ হাজার ৪শ’ টাকায় ক্রয় করছেন। ​যে কারণে তাকেও বেশী দরে মাছ কিনতে হয়েছে। গত বছরে এ সময়ে ইলিশ মাছের আমদানি অনেক বেশি ছিল, দামও ছিল কম। ওই সময়ে ধনী-গরীব সকলে মাছ কিনে খেয়েছিল, কিন্তু এ বছর চিত্র ভিন্ন। অনেকে ইলিশ দেখে ফিরে যাচ্ছেন।

(ঊষার আলো-এমএনএস)