ভেনামী চিংড়িতে সম্ভাবনা দেখছেন খুলনার ব্যবসায়ীরা

সর্বশেষ আপডেটঃ

ঊষার আলো প্রতিবেদক : ভিয়েতনামী জাতের ‌’ভেনামী’ চিংড়ির উজ্জ্বল ভবিষ্যতের সম্ভাবনা উঁকি দিচ্ছে। উচ্চ ফলনশীল, উৎপাদন খরচ কম, সস্তা ও সহজলভ্য এবং খেতে সুস্বাদু হওয়ায় এশিয়ার ১৫ দেশে এখন এর অবাধ বিচরণ। বিশ্বের পুরো চিংড়ির বাজারই এখন ‘ভেনামী’র দখলে। তবে, একমাত্র ‘বাংলাদেশ’ বাদে বাকি ১৪টি দেশেই এর উৎপাদন হচ্ছে বাণিজ্যিকভাবে। কিন্তু আমরা পিছিয়ে, কেবল পরীক্ষামূলক উৎপাদনেই সময় পার। তবে, দেশে এই মুহূর্তেই ‘ভেনামী’ চিংড়িকে বাণিজ্যিক উৎপাদন তথা উন্মুক্তকরণ সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। চিংড়ি চাষি ও রপ্তানিকারকরা বলছেন, দেশে বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম খাত চিংড়ি শিল্পকে টিকিয়ে রাখার স্বার্থে ‘ভেনামী’ চাষের কোনো বিকল্প নেই। একমাত্র ‘ভেনামী’ই পারে দেশের চিংড়ি শিল্পের সম্প্রসারণ করে বিশ্ববাজার ধরে রাখতে। অন্যথায় ধারাবাহিক অবনতিতে ‘খাদের কিনারে’ এসে কোনো রকমে টিকে থাকা এ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখা আরও কঠিন হয়ে পড়বে। এ কারণে দ্রুত একটি সহজ নীতির মাধ্যমে বাণিজ্যিকভাবে ‘ভেনামী’ চিংড়ি চাষকে উন্মুক্ত করে রপ্তানির পদক্ষেপ নিতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুড এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট এস. হুমায়ুন কবীর বলেন, কাঁচামালের (চিংড়ি) অভাবে ইতিমধ্যেই দেশের ১০৫টি হিমায়িত মৎস্য প্রক্রিয়াজাত ও রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কোনো রকমে চালু আছে মাত্র ২৮টি। বাকি ৭৭টিই বন্ধ হয়ে গেছে। তাই এ শিল্পকে মাথা উঁচু করে ঘুরে দাঁড়াতে হলে ভেনামী চাষ করে চিংড়ির উৎপাদন বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই।
বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশন এক পরিসংখ্যানে উল্লেখ করেছে, বাংলাদেশে বাগদা চিংড়ির গড় উৎপাদন হেক্টর প্রতি ৩৪১ কেজি। সেখানে প্রতিবেশী দেশ ভারতে ‘ভেনামী’ চিংড়ির হেক্টর প্রতি গড় উৎপাদন ৭ হাজার ১০২ কেজি। অর্থাৎ বাগদার তুলনায় ‘ভেনামী’র উৎপাদন হেক্টর প্রতি ৬ হাজার ৭৬১ কেজি বেশি। যার প্রমাণ মিলেছে খুলনায় প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলকভাবে চাষকৃত ‘ভেনামী’র উৎপাদনে। তবে, নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে উৎপাদন কিছুটা বাধাগ্রস্ত হলেও দেশে ‘ভেনামী’ সম্ভাবনার হাতছানি দিচ্ছে বলেই মনে করছে চিংড়ি রপ্তানিকারকদের বৃহৎ এ প্রতিষ্ঠানটি।
খুলনা ফিস ইন্সপেকশন ও কোয়াালিটি কন্ট্রোল ডিপার্টমেন্টের ডেপুটি ডিরেক্টর মিজানুর রহমান বলেন, ভেনামী চিংড়ির গ্রোথ ও ফার্টিলিটি রেট খুবই আশাব্যঞ্জক। এই চিংড়ির উৎপাদন সময় কাল ১২০ দিন। যার মধ্যে প্রথম ৬০ দিন যে পরিমাণ বৃদ্ধি হয় পরবর্তী ৬০ দিনে তার ৩ গুণের বেশি বৃদ্ধি হয়।
চিংড়ি বিশেষজ্ঞ প্রফুল্ল সরকার, উপ-পরিচালক (অব. মৎস্য পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ) জানান, প্রতি সপ্তাহে চিংড়ির বৃদ্ধি এবং রোগবালাই অনুসন্ধানে নমুনা পরীক্ষা করা হয়। চলতি বছর তাপমাত্রা বেশি থাকায় কিছুটা শঙ্কা থাকলেও নিয়মিত পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে এই চিংড়ির রোগ প্রতিরোধ এবং জীবনধারণ ক্ষমতা বাগদা চিংড়ির তুলনায় অনেক বেশি।
(ঊষার আলো-এমএনএস)