ভোলার দৌলতখানে ইউপি মেম্বারের হাত-পা ভেঙে দিলেন ইউএনও

সর্বশেষ আপডেটঃ

ঊষার আলো রিপোর্ট : ভোলার দৌলতখানে ভাইয়ের জন্য সুপারিশ করতে আসা এক ইউপি মেম্বারকে পিটিয়ে হাত পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে খোদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কাওছার হোসেনের বিরুদ্ধে।
এ নিয়ে এলাকায় চলছে তোলপাড়। বিচার দাবিতে ইউপি মেম্বার পরিষদ আলটিমেটাম ঘোষণা করছে। আন্দোলনে সমর্থন জানিয়েছেন উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউপি চেয়ারম্যানরাও।
সোমবার বিকাল থেকে একই দাবিতে দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে স্থানীয়রা। তারা ইউএনওর অপসারণ দাবি করেছে। মঙ্গলবারও ওই এলাকায় উত্তেজনা চরমে রয়েছে।
দৌলতখান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কাওছার হোসেন বলেন, রাত ১২টায় মাছ ধরা নিষিদ্ধ। সেই সময়ে মেঘনা নদীতে অভিযান পরিচালনা করেন তিনি। ওই সময় একটি বড় মাছ ধরা ট্রলারকে ধাওয়া করে জব্দ করা হয়। ওই ট্রলারে ইউপি মেম্বার আব্দুল মতিনের ভাই মনির ছিল। তাকে গ্রেফতার করে ঘাটে নিয়ে আসা হলে, মেম্বার মতিন লোকজন নিয়ে তাকে ছাড়িয়ে নিতে আসেন।
এ সময় পুলিশ ধাওয়া করলে, মতিন সিসি ব্লক বাঁধের ওপর পড়ে আহত হন। তাকে কেউ মারধর করেনি।
অন্যদিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধিন ভবানীপুর ইউপি মেম্বার আব্দুল মতিন বলেন, তার ভাই লক্ষ্মীপুর থেকে ট্রলারে দৌলতখানে আসছিল। ওই সময় ইউএনও কাওছার তাদেরকে আটক করেছে।
খবর পেয়ে তিনি ইউএনওকে নিজের পরিচয় দিয়ে বলেন, তার ভাই মাছ ধরতে যাননি। এমনকি ওই ট্রলারে কোনো জালও ছিল না। ইউএনও তার কথায় আরও উত্তেজিত হয়ে তার বাসার ডিউটিরত আনসারের লাঠি নিয়ে মারধর করে। তার হাত-পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম নবী নবু বলেন, বিষয়টি অমানবিক। একজন জনপ্রতিনিধিকে এভাবে নির্যাতন করার বিষয় এলাকাবাসী মেনে নিতে না পারায় বিক্ষোভ অব্যাহত রখেছে।
দৌলতখান থানার ওসি বজলার রহমান বলেন, ইউএনওর মৎস্য অভিযানে কোনো পুলিশ যায়নি। ইউএনও তার বাসায় পাহারার দায়িত্বে থাকা আনসারদের নিয়ে অভিযান পরিচালনা করেন। ওই সময় ৭ জনকে আটক করেছে। এদের মধ্যে ৬ জনই শিশু ছিল।
মেম্বার মতিনের সঙ্গে ইউএনওর ঝামেলা হয়েছে, মতিনের ভাই মনিরকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা চেয়ারম্যান মনজুর আলম খান বলেছেন, এমন ঘটনা তারাও মেনে নিতে পারছেন না। ইউএনও নিজ হাতে এভাবে লাঠি তুলে নিতে পারে না।

 

(ঊষার আলো-এম.এইচ)