মণিরামপুরে শিক্ষকের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন

সর্বশেষ আপডেটঃ

মোঃ মেহেদী হাসান, মণিরামপুর : যশোরের মনিরামপুরে পরকীয়ায় বাধা হওয়ায় স্ত্রী ও শিশু মেয়েকে শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে মণিরামপুরের মশিয়াহাটি ডিগ্রি কলেজের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক কণার মন্ডলের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত শিক্ষকের ফাঁসি ও চাকরিচ্যুতির দাবিতে এবার মনিরামপুরের মশিয়াহাটি এলাকায় মানববন্ধন করেছেন নিহত গৃহবধূর স্বজনরা। শুক্রবারের (১৩ আগষ্ট) মানববন্ধনে নিহতের পরিবার ছাড়াও বিভিন্নস্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের শতশত লোক অংশ নেন। এর আগে একই দাবিতে গত বুধবার (১১ আগষ্ট) অভয়নগরের নওয়াপাড়ায় মানববন্ধন করেন নিহতের পরিবার। ওই সময় তারা ইউএনও বরাবর স্মারকলিপি দেন। এরপর বৃহস্পতিবার (১২ আগষ্ট) বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ যশোর জেলা শাখার পক্ষ থেকে ডিসি ও এসপি বরাবর স্মারকলিপি দেয়া হয়।

শুক্রবারের ঘন্টাব্যাপী চলা মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, অভয়নগরের পায়ারা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগনেতা বাপ্পি মন্ডল, নিষ্কৃতি মন্ডল, কমলেশ মন্ডল, সনাতন মন্ডল, পায়রা ইউপি সদস্য সাইফুল আলম, শিক্ষক শীতল কান্তি প্রমুখ। নিহতের পরিবার ও বক্তাদের অভিযোগ, কণারের পরকীয়ার বিষয়টি তার স্ত্রী প্রিয়া জেনে যান। এই নিয়ে পারিবারিক দ্বন্দেদ্বর সৃষ্টি হয়। নিজের পথ পরিষ্কার করতে কণার পরিকল্পিতভাবে অন্ত:সত্ত্ববা স্ত্রী ও তিন বছরের মেয়ে কথাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। বিষয়টিকে আত্মহত্যা সাজাতে পরে গলায় রশি জড়িয়ে লাশ দুটো ঝুলিয়ে রাখেন তিনি।

অভিযুক্ত কণার উপজেলার সুজাতপুর গ্রামের ননি মন্ডলের ছেলে। অভয়নগরের দত্তগাতী গ্রামের ভগিরথ মন্ডলের মেয়ে পিয়া মন্ডলকে বিয়ে করে কুলটিয়া এলাকায় ফালগুন মন্ডলের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন তিনি। ওই বাসা থেকে গত শনিবার তিন বছরের মেয়েসহ প্রিয়ার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেন পুলিশ। এদিকে স্ত্রী-মেয়েকে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে শ্যালক চন্দন মন্ডলের করা মামলায় জেল হাজতে রয়েছেন কণার।

মণিরামপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শিকদার মতিয়ার রহমান বলেন, মানববন্ধনের বিষয়টি শুনেছি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত এই ব্যাপারে কিছু বলতে চাই না।

(ঊষার আলো-এমএনএস)