মনিরামপুরে ভ্যানচালকদের দুর্দিন

সর্বশেষ আপডেটঃ

মোঃ মেহেদী হাসান, মণিরামপুর : যশোরের মনিরামপুরে প্রশাসনের ঘোষিত লকডাউন চলছে গত দুই সপ্তাহ। লকডাউনে আয় হারিয়ে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। বিশেষ করে আয় না থাকায় হাহাকার ভেড়েছে ভ্যানচালকদের পরিবারে। দিনভর রাস্তায় থেকে খালি পকেটে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে তাদের। তারপর পুলিশের হয়রানিতো রয়েছে। এমন দুর্দিনে দিন কাটলেও সরকারি কোন সহায়তা জুটছে না তাদের। রোববার (৪ জুলাই) এই প্রতিবেদকের সাথে নিজেদের কষ্টের কথা শেয়ার করেছেন কয়েকজন ভ্যানচালক। তাদের অভিযোগ, ভ্যানে যাত্রী নিয়ে বাজারে উঠতে দিচ্ছেনা পুলিশ। চাবি নিয়ে আটকে রাখছে। হাসপাতালে রোগী বা তাদের স্বজনদের দিয়ে ফিরে আসার সময়ও থামিয়ে চাবি নিয়ে নিচ্ছে। বাজারে না উঠতে পারলে ভাড়া হয়না। উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের ভ্যানচালক মিজানুর রহমান বলেন, পিতা-মাতাসহ সংসারে খাওয়ার লোক সাতজন। প্রতিদিন ৩০০-৪০০ টাকা খরচ। গত ১৫ দিন ধরে দিনে ১০০ টাকা আয় হচ্ছেনা। দুইদিন ধরে বাজার করতে পারছি না। প্রশাসনের ভয়ে লুকিয়ে গাড়ি চালাচ্ছি। খুব কষ্টে দিন যাচ্ছে। মাহমুদকাটি গ্রামের ইমরান হোসেন বলেন, দিতে ৩০-৪০ টাকা আয় হচ্ছে। মনিরামপুর বাজারে না উঠতি পারলি ভাড়া হয় না। মোড়ে মোড়ে পুলিশ পাহারায়। বাজারে উঠলে চাবি নিয়ে নেচ্ছে। রোববার (৪জুন) সকালে গোহাটা মোড়ে আমার চাবি নিয়ে আধঘন্টা পর ফেরত দেছে পুলিশ। আমাদের কেউ কিছু দেয় না। একই গ্রামের ভ্যানচালক তসলিম হোসেন বলেন, লকডাউনে রাস্তায় ভাড়া নেই। তারপরও পেটের দায়ে বের হই। শনিবার মণিরামপুর বাজারে চাবি নিয়ে গেছে। অনেক অনুরোধে আধাঘন্টা পর ফেরত দেছে। আজ ভয়ে ভ্যান বের করিনি। সম্প্রতি মণিরামপুর বাজারের গোহাটামোড়ে ডিউটিরত এএসআই শাহ আলমের সাথে কথা হয়। তিনি বলেন, আমরা নির্দেশনামত কাজ করছি। কোন ভ্যানচালক সমস্যা খুলে বললে তার বিষয়টি মানবিকভাবে দেখছি। মনিরামপুরে প্রতি ইউনিয়নে ৫০০ দুস্থ লোককে ৫০০ করে টাকা দিচ্ছে সরকারি। সেই তালিকায় উপার্জন হারা এসব ভ্যানচালকরা পড়েনি বলে জানা গেছে।
মনিরামপুর উপজেলা চেয়ারম্যান নাজমা খানম বলেন, সরকার ভ্যানচালকসহ দুস্থদের ত্রাণ দিচ্ছেন। ভোটার আইডি সাথে নিয়ে নিজ নিজ ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের কাছে গেলে তারা ত্রাণ সহায়তা পাবে।
(ঊষার আলো-এমএনএস)