মহাসচিব নিয়োগে জাপায় অস্থিরতা

সর্বশেষ আপডেটঃ

ঊষার আলো রিপোর্ট : করোনায় আক্রান্ত হয়ে জাতীয় পার্টির মহাসচিব জিয়া উদ্দিন আহমেদ বাবলুর মৃত্যুর পর নতুন মহাসচিব নিয়োগ নিয়ে অস্থিরতার সৃষ্টি হয়েছে দলে। দলীয় চেয়ারম্যান জি এম কাদের এখনও নিয়োগ দেননি কাউকে। তবে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ও অতিরিক্ত মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারীকে মহাসচিব নিয়োগ দেয়া হচ্ছে মর্মে খবর ছড়িয়ে পড়ায় সোমবার (৪ অক্টোবর) দলের কয়েকজন শীর্ষ নেতা নিজেদের মধ্যে বৈঠক করেছেন। রাজধানীর কলাবাগানে সেই বৈঠকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা। বৈঠকে দলের সিনিয়র নেতারা বলেছেন, পাটোয়ারীকে মহাসচিব নিয়োগ দেয়া হলে আবারও ভাঙ্গনের কবলে পড়বে দল।

দলের নতুন মহাসচিব নিয়োগে জি এম কাদেরকে ছাড়াই সোমবার বৈঠকে বসেন পার্টির কয়েকজন সিনিয়র নেতা। ধানমন্ডির কলাবাগানের সুলতানা টাওয়ারে এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার, কাজী ফিরোজ রশিদ, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, মজিবুল হক চুন্নু, প্রেসিডিয়াম সদস্য মশিউর রহমান রাঙ্গা, সাহিদুর রহমান টেপা, শফিকুল ইসলাম সেন্টু, উপদেষ্টা জহিরুল আলম রুবেল।

জাতীয় পার্টির সিনিয়র নেতাদের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলের সাবেক মহাসচিব ও বর্তমান সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মশিউর রহমান রাঙ্গা। তিনি বলেন, ‘দলের যারা কো চেয়ারম্যান, তারা খবর পেয়েছেন, সোমবার দলের মহাসচিব নিয়োগ দেয়া হবে। সে জন্য আজকে কাজী ফিরোজ রশিদ সাহেবেরে ওখানে দলের অনেকেই গিয়েছেন। আমাকেও ডেকেছেন, আমিও গিয়েছি।

মহাসচিব চূড়ান্ত হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কলাবাগান থেকে পার্টি অফিসে এসে শুনলাম উনি (চেয়ারম্যান) নাকি মহাসচিব দেন নি। মহাসচিব চূড়ান্ত করেননি। দলের একটি সংরক্ষিত মহিলা আসনে মনোনয়ন দিয়েছেন। উনার ওয়াইফ (চেয়ারম্যানের স্ত্রী) কে দিয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘উনারা (কো-চেয়ারম্যান) শুনেছেন, ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারীকে মহাসচিব নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। আমি যেহেতু আগে মহাসচিব ছিলাম, আমাদের এ বিষয়ে ওনারা জিজ্ঞাসা করলেন। তবে দেখলাম, যে ওনাকে (শামীম হায়দার পাটোয়ারী) কেউ চায় না। ২-৩ বছর হলো উনি দলে এসেছেন। যেহেতু মহাসচিব দলের একটি প্রতিষ্ঠান, আমাদের সিনিয়র নেতাদের অভিমত যে, মিটিং করেই এই সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত।’

রাঙ্গা বলেন, ‘দলের একজন কো-চেয়ারম্যান চেয়ারম্যানকে জানিয়েছেন আপনি যদি ওনাকে (শামীম হায়দার পাটোয়ারী) মহাসচিব করেন, স্টপ ইট। না হলে আমরা আপনার বিরুদ্ধে অবস্থান নেব, দল আলাদা করে ফেলব।’

এ বিষয়ে দলের কো-চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশিদ বলেন, ‘পাটোয়ারীকে মহাসচিব বানালে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা কেউ তা গ্রহণ করবে না। সে কালকে আইছে দলে। একটা জুনিয়ার ছেলেকে মহাসচিব বানাবে এটা কি খেলার কথা নাকি? এটা রাজনৈতিক দল। এ ধরনের কেউ কোনো দিন হয় নাই। দল তাহলে আবার ভাঙ্গনের মুখে পড়বে।’

পাটোয়ারীকে মহাসচিব পদে নিয়োগের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়ে গেছে কিনা জানতে চাইলে ফিরোজ রশীদ বলেন, ‘আমরা শুনতেছি, আমরা নিষেধ করতেছি, এ সমস্ত কৌশল করবেন না। নানা ধরনের আজে-বাজে কথা শুনি তার সম্পর্কে। এ সমস্ত করলে কিন্তু দলের সমস্ত সিনিয়র নেতারা, সমস্ত জেলা কিন্তু বিদ্রহ করবে।’

তিনি বলেন, ‘যাকেই করবে, আলাপ-আলোচনা করে একজন সিনিয়র নেতাকে মহাসচিব করবে। আমাদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নাই। যদি বলে রাঙ্গাকে করব, হাওলাদারকে করব, চুন্নুকে করব, আমরা একমত। শুধু পাটোয়ারী হইতে পারবে না। ও অনেক জুনিয়র।

‘আর একটা বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। দলের সংসদীয় দলের সিদ্ধান্ত মোবাবেক সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য বানাতে হবে। উনি দলের সংসদ সদস্যদের মিটিং ডাকবেন, তারপর আমরা সিদ্ধান্ত দেব। যাকেই বানাক, একটা সিসটেম অনুযায়ী বানাতে হবে।’

জাতীয় পার্টির গঠনতন্ত্র অনুসারে দলের চেয়ারম্যানকে দলের মহাসচিব নিয়োগ দেয়ার ক্ষমতা দেয়া রয়েছে। তবে দলের সিনিয়র নেতাদের বক্তব্য হচ্ছে, তাদের জিজ্ঞাসা না করে যেন দলের মহাসচিব না দেন দলের চেয়ারম্যান।

(ঊষার আলো-এমএনএস)