মোংলায় ছেলের সংবাদ সম্মেলন

মায়ের সম্পদ থেকে একমাত্র সন্তানকে বঞ্চিত করা হয়েছে

সর্বশেষ আপডেটঃ

আরিফুর রহমান, বাগেরহাট : বাগেরহাটের মোংলাবন্দরে অফিস সহায়ক হিসাবে কর্মরত মায়ের মৃত্যুর পর প্রভিভেন্ট ফান্ড ও গ্র্যাচুইটিসহ সকল সম্পদ থেকে একমাত্র সন্তানকে বঞ্চিত করা হয়েছে। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের কয়েকজন অসাধু কর্মকর্তার অনৈতিক যোগসাজশে বেচে থাকা নানী ও মামারা সকল অর্থ তুলে নিয়ে গেছে। এ ঘটনায় বাগেরহাট জেলা যুগ্ম জজ আদালতে ছেলে সাগর শেখের মামলা চলমান রয়েছে। বাগেরহাট সদর উপজেলার কাড়াপাড়া ইউনিয়নের মগরা এলাকার হেমায়েত শেখের ছেলে সাগর শেখ মায়ের মৃত্যুর পর একমাত্র সন্তান ও ওয়ারেশ হিসাবে মৃত মায়ের অনুকুলে প্রাপ্ত অর্থ সম্পদ থেকে বঞ্চিত হওয়ার বিষয়ে সোমবার (৩০ আগস্ট) দুপুরে বাগেরহাট প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলন করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য ও সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলা হয়, আমার গর্ভধারিনি মাতা হাছিনা বেগম মোংলা বন্দরের অফিস সহায়ক হিসাবে কর্মরত থাকিয়া গত ২০১৯ সালের ২ ফেব্রুয়ারি খুলনা গাজী মেডিকেলে মারা যান। রামপাল উপজেলার কুমলাই গাববুনিয়া গ্রামে আমার নানা বাড়িতে মায়ের দাফন হয়। মৃত্যুকালে মা হাছিনা বেগম ওয়ারেশ হিসাবে একমাত্র পুত্র আমাকে ও আমার নানী মোমেনা বেগমকে রেখে যান।মায়ের মৃত্যুর পর কর্মস্থলের প্রভিভেন্ট ফান্ড ও গ্র্যাচুইটিসহ সকল পাওনা সুকৌশলে আমার নানী ও মামারা আমাকে অস্বীকার করে কাগজপত্র জাল করে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারির অনৈতিক সহযোগিতায় তুলে নিয়ে গেছে। মায়ের পাওনা অর্থ নানী-মামারা তুলে নেয়ার চেষ্টা করাকালে জানতে পেরে আমি মোংলা বন্দরে গিয়ে অফিস কর্তৃপক্ষের কাছে বাধা দেই। কিন্তু তারা আমার আবেদন-নিবেদনকে কোন গুরুত্ব না দিয়ে আমাকে বিতাড়িত করে। উপায়ন্তর না পেয়ে আমি ১৯২৫ সালের উত্তরাধিকার আইনের ৩৭২ ধারা মতে ২০১৯ সালের ১৪ অক্টোবর বাগেরহাট যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মোকদ্দমা করি।

আমার আইনজীবির সহযোগিতায় মামলা, আপত্তি ও আদেশের অবিকল কপিসহ আমি নিজেই মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক প্রশাসন বরাবরে গত ২১/০১/২০২০ তারিখ আবেদন করি। যাতে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আমার মায়ের পাওনা যেন পরিশোধ না করা হয়। আমার শিশুকালে আমার পিতা হেমায়েত সেখের সাথে আমার মায়ের বিবাহ বিচ্ছেদ হওয়ায় আমার মায়ের অন্যত্র বিবাহ হয়। সেখানে কোন সন্তান হয়নি। এসব কারন দেখিয়ে অর্থলোভি নানী ও মামারা আমি আমার মায়ের সন্তান না বলে জাল কাগজপত্র দাখিল করে। পরে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের লাইসেন্স পরিদর্শক ও সিবিএ সাধারন সম্পাদক মোঃ ফিরোজ, হিসাব রক্ষক (মবক) ও সিবিএ যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মতিয়ার রহমান সাকিব ও মবক এটিআই এবং সিবিএর কার্যকরি সভাপতি মোঃ মুশফিকুর রহমানকে প্রাপ্ত অর্থের ভাগ দিয়ে মায়ের পাওনা তুলে নিয়ে যায়। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ আদালতের নির্দেশনাও মানে নাই। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা ২০১৯ সালের ২৩ ডিসেম্বর আমাকে নোটিশ করে অফিসে যেতে বলে। অথচ, ২৩ ডিসেম্বরই নোটিশটি ডাকযোগে আমাকে প্রেরন করে। যা আমি ডাকঘরের মাধ্যমে ২৫ ডিসেম্বর পাই। এমতাবস্থায় আমি দিশেহারা হয়ে পড়ি বিষয়টি আমার আত্মীয় স্বজনকে জানিয়ে ২০২০ এর ১২ জানুয়ারি আমি মোংলা বন্দর অফিসে যাই এবং নিরুৎসাহিত হয়ে ফিরে আসি।

(ঊষার আলো-এমএনএস)