যমুনায় পানি বৃদ্ধিতে তীব্র ভাঙন

সর্বশেষ আপডেটঃ

ঊষার আলো ডেস্ক : ‘আমরা খাবারও চাই না, ত্রাণ চাই না। স্থায়ী বেড়িবাঁধ চাই। বেড়িবাঁধ হলে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারব। ভাঙতে ভাঙতে এ পর্যন্ত এক মিলোমিটার দূরে এসেছি। পাঁচবার বাড়ি ভাঙায় সর্বশান্ত হয়েছি। এখনও ভাঙনের হুমকিতে রয়েছি। এবার ভেঙে গেলে নদীতে ভেসে যাওয়া ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই। এখনো সরকারি বা বেসরকারি কোনো সহযোগিতা পাইনি।’ এভাইে কথা গুলো বলছিলেন সদর উপজেলার কাকুয়া ইউনিয়নের চরপৌলি গ্রামের খালেক চাঁন।
শুধু খালেক চাঁন নয়, যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় টাঙ্গাইলের তিন উপজেলায় তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের তীব্রতা বেশি হওয়ায় মানুষজন তার ঘরবাড়ি, প্রয়োজনীয় জিনিস-পত্র সরিয়ে নেয়ার সুযোগও পাচ্ছে না। ঘর বাড়ি হারিয়ে সর্বশান্ত হয়ে পড়ছেন নদীর পাড়ের মানুষ। সরকারি ও বেসরকারি কোনো প্রকার ত্রাণ সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ ভাঙন কবলিত অসহায় মানুষদের।
বর্ষার শুরুতেই টাঙ্গাইলে যমুনা নদীর পানি প্রতিদিনই অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গেই দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন। ইতোমধ্যেই টাঙ্গাইল সদর উপজেলার চর পৌলী, কাকুয়া, হুগড়া, মাহমুদনগর কালিহাতি উপজেলার বেলটিয়াবাড়ি ও নাগরপুর উপজেলার সলিমাবাদ এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে।
গত এক সপ্তাহে প্রায় দেড় শতাধিক ঘর বাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। অনেকে ঘর বাড়ি সরিয়ে নেয়ার সুযোগটুকু পাচ্ছে না। এসব ভাঙন কবলিত মানুষ জন ঘর বাড়ি ও ফসলি জমি হারিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে।
এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক চর পৌলী এলাকায় মাত্র ৩০০ মিটার এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে তা কোনো কাজে আসছে না। কাজের গুণগত মান ও অপিরিকল্পিতভাবে কাজ করায় যেখানে জিওব্যাগ ফেলা হয়েছে, সেখানেও ভেঙে যাচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয় এলাকাবাসীর।
এলাকাবাসী শুকুর মাহমুদ বলেন, ‘গত বছর এক সঙ্গে ২২টি বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এ বছর ভাঙন শুরু হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে শুকনো মৌসুমে কাজ করলে আমাদের আর আতঙ্কে রাত কাটাতে হতো না। আমাদের মতো আলীপুর, বেলটিয়া, পৌলি, কাকুয়া, পানাকুড়া, রাঙাচিরা এলাকার হাজার হাজার মানুষ ভাঙন আতঙ্কে রাতে ঘুমাতে পারে না। পানি উন্নয়নের বোর্ড নিচে কোনো বস্তা না দিয়ে উপরে দেখানোর জন্য বস্তা দিচ্ছে। তাতে কোনো কাজই হবে না। নিচ থেকেই তো ধসে যায়।’
আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘নদী ভাঙনে অসহায় হয়ে পড়েছি। চারবার বাড়ি ভাঙার কবলে পড়েছি। ভাঙন কবলিত এলাকার মানুষ আমরা ত্রাণ চাই না, বাঁধ চাই, মাথা গোজার ঠাঁই চাই।’
মারুফ হাসান বলেন, ‘৪০ শতাংশের জায়গায় বাবা আমাকে বাড়ি করে দিয়েছিল। সেটিও যমুনা গিলে খেয়েছে। আমাদের মতো শত শত মানুষ অসহায় হয়ে পড়েছে। আমাদের সীমাহীন ক্ষতি হয়েছে।’
কাকুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, ‘সদর উপজেলার পশ্চিম ও উত্তর শেষ সীমানা এই ইউনিয়ন। ইউনিয়নে প্রায় অর্ধেক গ্রাম ভেঙে গেছে। ১৮টি গ্রামের মধ্যে এখন মাত্র ৯টি গ্রাম আছে। যতটুকুও আছে সেখানেও যমুনার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ভাঙতে শুরু করেছে। গত এক সপ্তাহে প্রায় দেড় শতাধিক বাড়ি নদীর গর্ভে বিলীন হয়েছে। ইতোপূর্বে স্কুল ও খেলার মাঠও বিলীন হয়েছে। জিও ব্যাগ ফেলানো হয়েছে। তবে স্থায়ী বাঁধের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।’
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘ভাঙন প্রতিরোধে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধে কাজ করা হচ্ছে। স্থায়ী বাঁধ করতে কিছুটা সময় লাগবে।’
(ঊষার আলো-এমএনএস)