যশোরের কেশবপুরে ৯৮ মন্ডপে দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে

সর্বশেষ আপডেটঃ
পরেশ দেবনাথ, কেশবপুর (যশোর) : সনাতন ধর্মাবিলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দূর্গাউৎসব পালিত হবে আগামী ১১ অক্টোবর হতে। আর মাত্র ক’দিন পরেই শারদোৎসব। এই দুর্গাপুজাকে সামনে রেখে সারাদেশের মতো যশোরের কেশবপুরে প্রতিমা শিল্পীরা ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছেন। কেশবপুর উপজেলায় এ বছর ৯৮টি পুজো মণ্ডপে পুজার প্রস্তুতি প্রায় শেষের পথে।
এরমধ্যে কেশবপুর পৌরসভায় ৮টি, ত্রিমোহিনী ইউনিয়নের ১টি, সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নের ১৩টি, মজিদপুর ইউনিয়নের ৭টি, বিদ্যানন্দকাঠী ইউনিয়নের ৬টি, মঙ্গলকোট ইউনিয়নের ৪টি, কেশবপুর সদর ইউনিয়নের ৭টি, পাঁজিয়া ইউনিয়নের ৯টি, সুফলাকাঠী ইউনিয়নের ১১টি, গৌরিঘোনা ইউনিয়নের ১১টি, সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের ১১টি, হাসানপুর ইউনিয়নের ১১টি মন্ডপে চলছে পুজার প্রস্তুতি। প্রতিমাগুলোতে মাটি লেপনের কাজ শেষ হয়ে রং-তুলির কাজ আরম্ভ হয়েছে। এ বছর করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে গত বছরের মত সরকারি নির্দেশনা মেনেই চলছে পুজোর কাজ। তবে গত বছরের থেকে এ বছর কেশবপুরে পুজার সংখ্যা বেড়েছে।
কেশবপুরের মঙ্গলকোট বাজার সার্বজনীন দূর্গা মন্দিরের পৃষ্ঠপোষক আশুতোষ হালদার বলেন, মন্দিরে প্রতিমাতে মাটি লেপনের কাজ শেষ হয়ে রং-তুলির কাজ চলছে।
কেশবপুর পূজা উদযাপন পরিষদের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক গৌতম রায় বলেন, কেশবপুর উপজেলায় মোট ৯৮টি মণ্ডপে পুজোর প্রস্তুতি চলছে। ১১ অক্টোবর ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে কেশবপুরে মণ্ডপগুলিতে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে গতবারের মত পাঁচ দিনব্যাপী শারদীয় উৎসব পালন করবো। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়ার কারণে আমরা বড় দুশ্চিন্তায় ছিলাম। ঈশ্বরের কৃপায় করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যু কমায় পূজার আয়োজন বেশ চলছে। শারদীয়া দুর্গা উৎসব যাতে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয় সে জন্য প্রশাসনের কাছে সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছি।
কেশবপুর সার্বজনীন শ্রী শ্রী কালি মন্দির কমিটির সভাপতি দুলাল চন্দ্র সাহা বলেন সরকারি অনুদান হিসেবে যে ৪৮ মেট্রিক টন চাল পাওয়া গেছে তা  কেশবপুর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সিনিয়র সাংবাদিক শ্রী শ্যামল সরকার ওই চাল দ্রুত বিতরণ করবেন। তারপর জানা যাবে প্রতি মন্দিরে কি অনুদান পাওয়া যাবে। পৌরসভার মেয়র রফিকুল ইসলাম মোড়ল বলেন, পৌরসভার প্রতিটা মন্দিরে অনুদান হিসেবে নগদ অর্থ দেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)এম এম আরাফাত হোসেন জানান, অন্যান্য বছরের মত এ বছরও হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণভাবে পালন করার লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা থাকবে।
থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ বোরহান উদ্দিন বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎস শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে কেশবপুর উপজেলার সকল মন্ডপে যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আনসার ও গ্রাম পুলিশের সাথে একাধিক থানা পুলিশের মোবাইল টিম কাজ করবে।