যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার উপর ক্ষুব্ধ হল ফ্রান্স

সর্বশেষ আপডেটঃ

ঊষার আলো ডেস্ক : ত্রিদেশীয় পারমাণবিক সাবমেরিন চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে ফ্রান্সের পিঠে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেয়ান উভস লে ড্রাইয়ান। একইসাথে যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার, বিশ্বাসভঙ্গ ও দ্বিচারিতার অভিযোগ তুলেন তিনি।

আজ রোববার (১৯ সেপ্টেম্বর) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও বিবিসি এক প্রতিবেদনে এ খবর জানায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গতকাল শনিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ফ্রান্সের দু’টি টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মিত্র দেশের কাছ থেকে এমন চুক্তি অপ্রত্যাশিত উল্লেখ করে ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ত্রিদেশীয় পারমাণবিক সাবমেরিন চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে ফ্রান্সকে পেছন হতে ছুরি মারা হয়েছে। যে সমঝোতা হয়েছে সেটা মিত্র দেশ ও অংশীদারদের মধ্যে গ্রহণযোগ্য নয়। অংশীদারিত্বের ওপর এর প্রভাব পড়বে।

ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা অস্ট্রেলিয়ার সাথে বিশ্বাসের সম্পর্ক স্থাপন করেছিলাম। তবে দেশটি সেই বিশ্বাস ভেঙে দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার উদ্যোগে অকাস নামের সেই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। তার আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে অস্ট্রেলিয়াকে পারমাণবিক সাবমেরিন নির্মাণের জন্য উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সরবরাহ করা হবে।

এর ফলে অস্ট্রেলিয়ার সাথে ফ্রান্সের বহু বিলিয়ন ডলারের চুক্তি বাতিল হয়ে গেছে। ২০১৬ সালে অস্ট্রেলিয়া ও ফ্রান্সের মধ্যে ৩ হাজার ৭০০ কোটি ডলার মূল্যের একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়। যার আওতায় অস্ট্রেলিয়ার জন্য ১২টি সাবমেরিন নির্মাণের কথা ছিল। কিন্তু বিশ্লেষকরা ত্রিদেশীয় এ চুক্তিকে দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের প্রভাব মোকাবিলার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এর মধ্য দিয়ে মিত্রদের মধ্যে এক গুরুতর সংকট তৈরি হলো। পরিস্থিতি পুনর্মূল্যায়নের জন্য প্রথমবারের মতো ক্যানবেরা ও ওয়াশিংটনের রাষ্ট্রদূতদের তলব করা হয়।

উল্লেখ্য, গত বুধবার চীনকে মোকাবিলায় নতুন নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষরের ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং অস্ট্রেলিয়া।

(ঊষার আলো-এফএসপি)