যোগীপোল ইউপি নির্বাচনে মাহফুজার হ্যাট্রিক

সর্বশেষ আপডেটঃ

শেখ বদর উদ্দিন : মাহফুজা বেগম হলেন যোগীপোল ইউনিয়নের সংরক্ষিত আসনের ইউপি সদস্য (মেম্বর)। সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজন খুলনা মহানগর কমিটির সদস্য। ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩নং ওয়ার্ড নিয়ে তার নির্বাচনী এলাকা। অর্থ্যাৎ তেলিগাতী, খানাবাড়ি ও কুয়েট নিয়ে তার পথচলা। এক সন্তান আর স্বামী নিয়েই পারিবারিক জীবন। তেলিগাতী পাকার মাথায় তার স্বামীর বাড়িতেই তিনি স্ব-পরিবারেই থাকছেন। তার স্বামী আরিফুর রহমান মন্টু একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। ছেলে শেখ মহিদুর রহমান আবির এইচ এস সি পাস করে এখন কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে একটি ট্রেডে ভর্তি হয়েছেন।

এছাড়া বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য পরীক্ষা দিচ্ছে। তিনি স্বামীর প্রেরণায় প্রথম নির্বাচন করে ২০০৩ সালে। প্রথমবার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে গিয়ে তাঁর মনে অনেকটা ভয় ভয় কাজ করে। কিন্তু সকল ভয়কে পিছনে ফেলে তিনি প্রায় ২৪’শ ভোটের ব্যবধানে মহিলা মেম্বর পদে জয়ী হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী ছিলেন সাবিনা ইয়াসমিন। মেয়াদ শেষ হলেও নানা জটিলতায় (তত্ত্বাবধায়ক সরকার) ওই ইউনিয়ন পরিষদে নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন হয়নি। দ্বিতীয়বার নির্বাচন হয় ২০১১ সালে। কিন্তু নানা সমস্যার কারণে তিনি প্রায় ৩শ’ ভোট কম পেয়ে পরাজিত হন। পরাজয়কে মেনে নিয়ে তিনি তার কষ্টকে শক্তিতে পরিণত করে আবারো নির্বাচনের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করেন। সেভাবেই তিনি নির্বাচনে অংশ নেন। যথাসময়ে ২০১৬ সালে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তিনি প্রায় ১১শ’ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী ছিলেন অম্বিকারাণী মন্ডল।

তিনি মানুষের দ্বারে-দ্বারে যেভাবে ভোট চেয়েছেন সেভাবে সেবাও অব্যাহত রেখেছেন। এলাবাসীও তার সম্মান রেখেছে। সর্বশেষ ২০২১ সালের ২০ সেপ্টেম্বর নির্বাচনে প্রায় এক হাজারের বেশী ভোটের ব্যবধানে তিনি আবারো ইউপি মহিলা মেম্বর পদে বিজয়ী হন। ৭টি ওয়ার্ডে মোট ভোটার প্রায় সাড়ে ৭ হাজার। তিনি পেয়েছেন ২৪০৭ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী সাবিনা ইয়াসমিন পান ১৩শ’ ভোট। মেম্বরের নিজ বাসায় বসে নির্বাচনের ইতিহাস নিয়ে আলোচনায় এসব কথা উঠে আসে।

তিনি একজন জনপ্রতিনিধি হলেও নিজ বাড়ির সামনের সড়কটি এখনও ইটের। সাদামাঠা জীবন যাপনে অভ্যস্ত মাহফুজা বেগমের গ্রহণ যোগ্যতা এলাকায় অনেকের চেয়ে বেশী।

যোগিপোল ইউনিয়নের তেলিগাতী দক্ষিণ পাড়ার বাসিন্দা বাকি উল্লাহ ঢালী বলেন, মাহফুজা ইউপি মেম্বর হলেও এলাকায় মুরব্বীদের কাছে মেয়ে হিসেবে স্নেহেরপাত্র। মেম্বর হলেও তার কথাবার্তায় খুবই নমনীয়। মনে নেই কোন অহংকার। সবাইকে খুব সম্মান দিয়ে কথা বলে। সাদা মাঠা এই মেম্বর অধিকাংশ মানুষের কাছে খুবই প্রিয়। তিনি তাঁর মঙ্গল কামনা করেন।

(ঊষার আলো-এমএনএস)