রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যায় একজন আটক

সর্বশেষ আপডেটঃ

ঊষার আলো রিপোর্ট : কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গাদের শীর্ষ নেতা মোহাম্মদ মুহিবুল্লাহকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় সন্দেহভাজন একজনকে আটক হয়েছে। আটক ব্যক্তির পরিচয় এখনও জানা যায়নি বলে জানিয়েছেন আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। এপিবিএন-১৪-এর অধিনায়ক পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নইমুল হক জানান, শুক্রবার (১ অক্টোবর) সকালে কুতুপালংয়ের ৬ নম্বর ক্যাম্প থেকে এপিবিএন সদস্যরা তাকে আটক করেন। তিনি জানান, আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তথ্য পাওয়ার পর বিস্তারিত জানানো হবে।

উল্লেখ্য, বুধবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে ৯টার দিকে উখিয়া কুতুপালং লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় ইস্ট-ওয়েস্ট ১ নম্বর ব্লকের অফিসে রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনার পর থেকে ক্যাম্পজুড়ে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

নিহত ৫০ বছর বয়সী মুহিবুল্লাহর বাড়ি মিয়ানমারের রাখাইনের মংডু এলাকার লংডা ছড়া গ্রামে। তিনি রোহিঙ্গাদের নিয়ে কাজ করা আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের চেয়ারম্যান ছিলেন। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমার সেনাদের হাত থেকে প্রাণে বাঁচতে মংডু টাউনশিপের সিকদার পাড়া গ্রাম থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে উখিয়া কুতুপালং লম্বাশিয়া ক্যাম্পে আসেন।

মিয়ানমারে নির্যাতনের মুখে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে কাজ করছিলেন তিনি। এটাই মুহিবুল্লাহর ‘অপরাধ’ বলে মনে করেন তার ছোট ভাই ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হাবিব উল্লাহ। যারা মুহিবুল্লাহকে হত্যা করেছে তারা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সন্ত্রাসী গ্রুপ আরএসও-এর সদস্য বলে দাবি হাবিবের।

ভাই হত্যার ঘটনায় বৃহস্পতিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে উখিয়া থানায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের নামে মামলা করেন। সেই মামলার ২৪ ঘণ্টা পেরোনোর আগেই সন্দেহভাজন একজনকে আটক করল পুলিশ।

অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জড়িতদের আটকে অভিযান চলছে বলে জানান রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দায়িত্বরত এপিবিএন অধিনায়ক নাইমুল হক। বর্তমানে ক্যাম্প এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

(ঊষার আলো-এমএনএস)