লিটন হত্যায় দু’জনের স্বীকারোক্তি; পাঁচজন দু’দিনের রিমাণ্ডে

সর্বশেষ আপডেটঃ
39
0
ছবি: ভিকটিম চায়ের দোকানদার মো: লিটন।

ঊষার আলো প্রতিবেদক : নগরীর খালিশপুর থানায় দায়ের করা চায়ের দোকানী লিটন হত্যা মামলার দু’ আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে। সোমবার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ড. আতিকুস সামাদের আদালতে আসামিরা এ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। জবানবন্দি শেষে তাদের দু’ জনকে করাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে আদালত মামলার অপর পাঁচ আসামিকে ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন- নগরীর বাস্তুহারা ১২ নং রোডের বাবুল শেখের ভাড়াটিয়া বাবু শেখের ছেলে রাজু ও উত্তর কাশিপুর বাইতিপাড়া রেল লাইন এলাকার লোকমান শেখের ছেলে আসলাম।
অপরদিকে, এ হত্যা মামলায় অপর পাঁচ আসামিকে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে গতকাল আদালতে প্রেরণ করলে শুনানী শেষে আদালত তাদের প্রত্যেককে দু’ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তারা হলো আলামিন, আব্দুল্লাহ, হেলাল, মাহির ও আশিকুর রহমান।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা খালিশপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) নিমাই চন্দ্র কুন্ডু জানান, গ্রেপ্তারকৃত রাজু ও আসলাম স্বেচ্ছায় আদালতে স্বীকারোক্তি দিতে চাইলে গতকাল তাদের আদালতে উপস্থিত করা হয়। হত্যাকান্ডে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা তারা উভয়ে আদালতে স্বীকার করেছে। পূর্বশত্রুতার জের ধরে তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। সুরতহাল করার সময় লিটনের শরীরে দু’শত আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। হত্যায় ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তবে কতটি তা তিনি তদন্তের স্বার্থে বলতে নারাজ।
নিহত লিটনের ছোট ভাই আল আমিন জানান, মাদক বিক্রির প্রতিবাদ করার জন্যই তাকে প্রাণ দিতে হলো। ভাইয়া ইতোপূর্বে একজন মাদক ব্যবসায়ীকে ধরিয়ে পুলিশে দেয়। এ ঘটনায় মাদক সম্রাট আব্দুল্লাহ ক্ষিপ্ত হয়ে ভাইয়াকে একাধিকবার হুমকি দেয়।
উল্লেখ্য, ১৭ এপ্রিল দিনগত রাত ১টার দিকে লিটনকে কয়েকজন ফোন করে ডেকে নেন। এ সময় তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে লিটন ও আমিনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করেন। আমিন দৌঁড়ে লিটনের বাসার সামনে এসে পড়ে যান। এ সময় তার চিৎকারে লিটনের স্বজনরা ঘুম থেকে উঠলে তিনি ঘটনা খুলে বলেন। পরে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন লিটন রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন। তাৎক্ষণিকভাবে লিটন ও আমিনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক লিটনকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে কেএমপি’র প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ১৮ এপ্রিল রাত ১টার সময় উত্তর কাশিপুরস্থ বাইতিপাড়া কবরখানা রোড লাবু শরীফের বাড়ির সামনে পাকা রাস্তার উপর পূর্বশত্রুতার জের ধরে কাশিপুরের বাসিন্দা মোঃ সোবাহানের ছেলে মোঃ লিটন(৩৭) এবং কাশিপুরের বাসিন্দা হাসেম ব্যাপারীর ছেলে আমিন(৩৭)কে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে আহত করিলে রক্তাক্ত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভিকটিম মোঃ লিটন আনুমানিক রাত ২টার সময় মৃত্যু বরণ করে। তৎপ্রেক্ষিতে নিহতের স্ত্রী মোসা: হেলেনা বেগম বাদী হয়ে ১৯ জন আসামীসহ অজ্ঞাতনামা ১০/১২ জনকে এজহারনামীয় আসামী করে খালিশপুর থানায় অভিযোগ দাখিল করিলে উপর্যুক্ত মামলা রুজু হয়। যার নং-১৯, তাং-১৮/৪/২১ইং। ধারা-১৪৩/১৪৭/১৪৮/১৪৯/৩২৪/৩২৬/৩০৭/৩০২/৩৪ দণ্ডবিধি। সে প্রেক্ষিতে খালিশপুর থানা পুলিশ অভিযান পরিচালনা করিয়া এজহারনামীয় সাতজনকে গ্রেফতারপূর্বক আদালতে সোপর্দ করে। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন। উক্ত ঘটনায় জড়িত অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে বলে ওই বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
মামলার বাদী হেলেনা বেগম বলেন, পুলিশ গত দু’দিনে ঘটনাস্থল ও তার আশপাশ থেকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ৪/৫টি রামদা, চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল উদ্ধার করেছে।
এদিকে গতকাল আছরবাদ বাইতিপাড়া ও পোড়াবাড়ি মসজিদের লিটনের আত্নার মাগফেরাত কামনায় দোয়ার আয়োজন করা হয়।

(ঊষার আলো-এমএনএস)

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ