শিল্প-শ্রমিক স্বার্থ ও গণ-বিরোধী বাজেট সম্পর্কে প্রতিবাদ সভা বাম জোটের

সর্বশেষ আপডেটঃ

ঊষার আলো রিপোর্ট : প্রস্তাবিত বাজেটের প্রতিবাদে বাম গণতান্ত্রিক জোট কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে খুলনা জেলা কমিটির এক প্রতিবাদ সভা বৃহস্পতিবার (১০ জুন) বিকেল সাড়ে ৫টায় সিপিবি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। বাম গণতান্ত্রিক জোট ও গণসংহতি আন্দোলন খুলনা জেলা সমন্বয়ক মুনীর চৌধুরী সোহেলের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) কেন্দ্রীয় সদস্য ও জেলা সভাপতি ডাঃ মনোজ দাশ, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় সদস্য ও জেলা সভাপতি মোজাম্মেল হক খান, সাধারণ সম্পাদক গাজী নওশের আলী, সিপিবি মহানগর সভাপতি এইচ এম শাহাদাৎ, বাসদ জেলা সদস্য আবদুল করীম, কোহিনুর আক্তার কণা, ইলিয়াস আকন, হারুনুর রশীদ, গণসংহতি আন্দোলন জেলা সদস্য এস আর বিপ্লব, সেলিম বকুল প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, ২০২১-২২ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেট শিল্প ও শ্রমিক স্বার্থ বিরোধী। তাঁরা বলেন, এই বাজেটে আমলা, ধনী ও বড় বড় ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা করা হয়েছে। খুলনাসহ সারাদেশে বন্ধকৃত রাষ্ট্রীয় পাটকল ও চিনিকল পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ বাজেটে অনুপস্থিত। দীর্ঘমেয়াদী করোনা ভাইরাসের আঘাত মোকাবিলায় বাজেটে উল্লেখযোগ্য কোন দিকনির্দেশনা নেই। কোন বরাদ্দও নেই। ধনী তোষণ, কর্পোরেট কর কমানো, কালো টাকা ও অপ্রদর্শিত টাকাকে সাদা করার সুযোগ দেয়াসহ আমলা-ধনীদের খুশি করার উপরই বেশী গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের ওপর ভ্যাট-ট্যাক্স বৃদ্ধি করে তাদেরকে আরো অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল করা হচ্ছে। নেতৃবৃন্দ বলেন, ভ্যাট-ট্যাক্সসহ পরোক্ষ করের বোঝা বৃদ্ধি করে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়ানো হচ্ছে। ৪২ শতাংশ কর্মসংস্থান-খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্র কৃষিখাত ও ১৭ কোটি মানুষের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা বরাবরের ন্যায় উপেক্ষিত। বন্ধকৃত ২৫টি পাটকল চালু, আধুনিকায়ন, বদলী-দৈনিকভিত্তিক ও নাম বিভ্রাট সংশোধনপূর্বক স্থায়ী পাটকল শ্রমিকদের সমুদয় বকেয়া পাওনা পরিশোধের জন্য কোন বরাদ্দের কথা অনুপস্থিত। নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, করোনায় নতুন করে কর্মহীন হয়ে পড়া আড়াই কোটি মানুষ, ৪২ শতাংশ দারিদ্রসীমার নীচে চলে যাওয়াসহ অসংগঠিত খাতে সাড়ে ৫ কোটি শ্রমজীবীর জন্য সুরক্ষা ব্যবস্থা ও গ্রাম-শহরের শ্রমজীবী-মধ্যবিত্ত জনগণের জন্য রেশনসহ খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বরাদ্ধ ঘোষিত বাজেটে নেই। বিশাল আকার বাজেটে চাতুর্যপূর্ণ কথামালার ফুলঝুরিতে জনগণের মৌলিক বিষয় সুকৌশলে আড়াল করার প্রয়াস মাত্র। শিল্প-শ্রমিক স্বার্থ ও গণ-বিরোধী বাজেট প্রত্যাখ্যান করে ১৭ কোটি মানুষের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, শিল্প, কৃষি, সামাজিক নিরাপত্তা, কর্মসংস্থানসহ জনস্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে এবং সকল মানুষকে টিকার আওতায় আনার রোডম্যাপও বাজেটে ঘোষণা করার আহবান জানান নেতৃবৃন্দ।

(ঊষার আলো-এমএনএস)