সন্তানদের শিক্ষিত করতে মরিয়া কুলি শহিদুল

সর্বশেষ আপডেটঃ

মোঃ আশিকুর রহমান : নেপোলিয়ন বোনাপার্ট বলেছিলেন “ আমাকে শিক্ষিত মা দাও, আমি তোমাকে শিক্ষিত জাতি দিব”। এই বাক্যে কুলির কাজ করে চলা জীবন সংগ্রাম যুদ্ধের সৈনিক শহিদুলের ভাগ্যে বাস্তবায়ন না হলেও বাস্তবায়ন হয়েছে তার দু’টি সন্তান আকিব আর খালিদের জীবনে। নিজে নিরক্ষর হলেও সন্তানের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে তার কোন চেষ্টার ত্রুটি রাখেননি তিনি।

নগরীর দৌলতপুরে এখন হতে প্রায় ত্রিশ বছর আগে পটুয়াখালী জেলার দুমকি থানার বড়ই চর হতে নদীর গর্ভে বিলীন হওয়া পিতৃসম্পদ হারিয়ে পিতা-মাতার হাত ধরে চলে আসে এই ছোট্ট উপ-শহর দৌলতপুরে। পিতা সেই সময়ে স্ত্রী-সন্তানদের আবাসস্থল হিসাবে পাবলায় ভাড়াবাড়ীতে ওঠেন বলে জানান শহিদুল। আর তার বাবা সংসার চালান ভ্রাম্যমান চানাচুর বিক্রি করে। পিতা-মাতার পাচ সন্তানের মধ্যে শহিদুল সবার বড়। সেই দিনের সেই ১৮ বছরের শহিদুল আজ প্রায় ৩০ বছরই কাটিয়ে দিল কুলির কাজ করে ঐতিহ্যবাহী এই প্রাচীন দৌলতপুর বাজারে। তবে নিজে নিরক্ষর হলেও সন্তানদের করে তুলেছেন সুশিক্ষায় শিক্ষিত। শহিদুল জানান, সেই শৈশবকাল হতে দৌলতপুর বাজারে এসে মাথায় বোঝা তুলে নিয়েছি। আজও চলছে জীবন সংগ্রামের সেই রেলগাড়ী।

জীবনের ওপর দিয়ে করোনার ঝড়সহ অন্যান্য ঘাত-প্রতিঘাতের মুখে পড়েও প্রতিদিনের ৩শ’ হতে ৪শ’ টাকার উপার্জনে সন্তানদের সমাজে শিক্ষিত করে তোলার চেষ্টা করেছি। বড় ছেলে বর্তমানে বিএ (সম্মান) হিসাব বিজ্ঞান বিভাগে আর ছোট ছেলে খুলনা সরকারি পলিটেকনিক্যাল কলেজে ইলেকট্রিক্যাল ডিপার্টমেন্টে ডিপ্লোমা কোর্সে লেখাপড়া করছে।

তিনি আরও জানান, করোনা দুর্যোগের মধ্যে চলতে খুবই কষ্ট হয়েছে। কারণ লকডাউনে বাজারে তেমন লোকসমাগম হয়নি। যে কারণে বেশ কর্মহীন হয়ে পড়ি। তবে কোনরুপ সাহায্য সহযোগীতা পাইনি তিনি। চাল ব্যবসায়ী মোঃ শাহিন হোসেন ও সাদ্দাম শিকদার জানান, শহিদুল ভাই খুব ভালো মানুষ। আমাদের সাথে দীর্ঘদিনের পরিচয়। তিনি একজন নামাজী এবং সরলসোজা ব্যক্তি। কোন রকম নয় ছয় বোঝেন না। আমাদের অত্যন্ত বিশ্বাস্ত একজন কাছের মানুষ শহিদুল ভাই। তাকে আমরা এতই বিশ্বাস করি যে প্রতিষ্ঠানের চাবি পর্যন্ত তার নিকট রেখে যায়। নিজে নিরক্ষর হলেও কুলির কাজ করে সন্তানের চেষ্টার ত্রুটি রাখেননি সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে। তার এই ঘাত-প্রতিঘাতের জীবনের শেষ একটাই চাওয়া সন্তানেরা যেন মানুষের মতো মানুষ হয়ে সমাজে মাথা তুলে দাড়াতে পারে, করতে পারে দেশ ও দশের সেবা। কেউ যেন বলতে না পারে বাবা কুলি ছিল তাই ছেলেরা অশিক্ষিত।

(ঊষার আলো-এমএনএস)