সরকারি হাসপতালে করোনা রোগীর শয্যা যেন সোনার হরিণ

সর্বশেষ আপডেটঃ
  • সরকারি হাসপাতালে করোনা চিকিৎসার শয্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে না
  • বাড়তে পারে বেসরকারি হাসপাতালে করোনার চিকিৎসা

ঊষার আলো প্রতিবেদক : খুলনায় সরকারি হাসপাতালে করোনা রোগীর শয্যা যেন সোনার হরিণে পরিণত হয়েছে। গত এক মাসে করোনার চিকিৎসার জন্য সরকারি দুই হাসপাতালে নতুন করে শুরু হয়েছে করোনার চিকিৎসা। শয্যা সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে ১০০ থেকে ২৭৫-এ। তারপরও ভর্তির জন্য হাসপাতালে-হাসপাতালে ঘুরতে হচ্ছে করোনা রোগী ও স্বজনদের। রয়েছে সঠিক চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগও। তবে সব অভিযোগ অস্বীকার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। আর সংক্রমন ও মৃত্যুহারের উর্ধ্বগতি থাকলেও আপাতত সরকারিভাবে করোনা চিকিৎসার বেড সংখ্যা বৃদ্ধির পরিকল্পনা নাই বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন।

খুলনার রূপসার আব্দুল রুস্তম করোনার উপসর্গ নিয়ে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটের সামনে এভাবে বসে আছেন ভর্তির অপেক্ষায়। পাশেই বসে রয়েছে তার স্ত্রী ও ছোট কন্যা। স্ত্রী মর্জিনা বেগম জানান, দুই ঘন্টা পার হয়ে গেছে এখনও অপেক্ষা করছেন তিনি। আরও ঘন্টা খানেক পরে রুস্তমের মা এসে বলেন আগে করোনা টেস্ট করতে হবে তার পর ভর্তি।
গত তিন চার দিন ধরে প্রাইভেট ক্লিনিকে থেকে গতকাল রাতে করোনা আক্রান্ত মায়ের জন্য সরকারি হাসপাতালে সিট পেয়েছেন রাজ খান। আর গুরুতর অসুস্থ্য বাবার জন্য কোন হাসপাতালে সিট না পেয়ে বাড়ি ফিরতে হয়েছে শেখ পাড়ার রাতুলকে।
রাজ খান বলেন, তার মাতা গত ১২ দিন ধরে অসুস্থ। নগরীর একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি হয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজের করোনা ইউনিটে সিরিয়াল দিয়েছেন তিন চারদিন আগে। বুধবার (৭ জুলাই) রাতে সিট পেয়েছেন তিনি।
শেখ পাড়ার রাতুল জানান তার বাবার অবস্থা খুব বেশি ভাল না। তারা সব হাসপাতালেই গেছেন কিন্তু কোথাও সিট খালি নেই বলছে তাদের।
একই সময়ে হাসপাতাল থেকে পিতার লাশ নিয়ে যাওয়ার সময় তিন দিন ধরে আইসিইউ বেড না পাওয়ার অভিযোগ সন্তান তাপস মন্ডল ও নাতির। রয়েছে চিকিৎসকের অবর্তমানে নার্সদের সেবা না পাওয়ারও অভিযোগ।
তাপস মন্ডল জানান, তারা কুমোদ রঞ্জন মন্ডল, বাগেরহাটের মোড়লগঞ্জের ১২নং জিউধরা ইউনিয়নের তিন বার নির্বাচিত ইউপি সদস্য। তিন চার দিন আগে এসে সিট না পেয়ে ভর্তি হয়েছেন গাজি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে একদিনে এইচডিইউ বেডে বিল হয় ৩৩ হাজার টাকা। পরে এসে মেডিকেল কলেজে সিট পান। কিন্তু আইসিইউএর বেড না পাওয়ায় তার পিতার মৃত্যু হয়েছে বলে জানান তিনি।

তাপস মন্ডলের সন্তান ও মৃত কুমোদ রঞ্জন মন্ডলের নাতি জানান, এখানে নার্সদের প্রয়োজনের সময় পাওয়া যায় না। চিকিৎসক যখন থাকে তখন নার্সরা খুব এ্যাকটিভ। আর চিকিৎসক চলে গেলে তাদের পাওয়া যায় না।
তবে এসব অভিযোগ মানতে নারাজ খুলনা মেডিকেল কলেজের করোনার ইউনিটের মুখপাত্র। আর সিভিল সার্জন বলছেন আপাতত সরকারি হাসপাতালে শয্যা বৃদ্ধির কোন সম্ভাবনা নেই তাদের।
খুলনার করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে ফোকাল পার্সন, ডাঃ সুহাষ রঞ্জন হালদার বলেন, আমরা কোন রোগীদের ফেরত পাঠাচ্ছি না। নার্সদের ব্যাপারে তাদের অভিযোগও সত্য নয় বলছেন তিনি।
একই রকম চেহারা খুলনার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ও শহীদ শেখ আবু নাসের হাসপাতালের করোনা ইউনিটের। ভর্তি হওয়ার অপেক্ষায় হাসপাতালে হাসপাতালে ঘুরতে হচ্ছে রোগী ও স্বজনদের।
তবে সিভিল সার্জন মোহাম্মদ নেওয়াজ বলছেন, সরকারিভাবে আর শয্যা বৃদ্ধির উপায় নেই। তবে বেসরকারিভাবে শয্যা বৃদ্ধি পাবে সেটি আলোচনাধীন রয়েছে।
খুলনার সরকারি তিন হাসপাতালে রোগী ধারণ ক্ষমতা রয়েছে ২৭৫টি। এর মধ্যে আইসিইউ মাত্র ৩০টি। যার বিপরীতে সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) রোগী রয়েছে ৩০৪ জন। যার মধ্যে আইসিইউতে রয়েছে ২৯জন।
(ঊষার আলো-এমএনএস)