সরকার বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার করে জাতিকে কলঙ্গ মুক্ত করেছে : এমপি বাবু

সর্বশেষ আপডেটঃ

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি : পাইকগাছা-কয়রার সংসদ সদস্য আক্তারুজ্জামান বাবু বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে আমরা বাংলাদেশ পেতাম না। বঙ্গবন্ধু ছোট বেলা থেকেই অধিকার আদায়ের জন্য সংগ্রাম করেছেন। বাঙালি জাতির স্বাধীনতা ও মুক্তির জন্য ক্ষণজন্মা এ মহাপুরুষ খোকা থেকে শেখ মুজিব, শেখ মুজিব থেকে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গবন্ধু থেকে জাতির জনক হয়ে ওঠেন। মাত্র ৫৫ বছরের জীবনে বঙ্গবন্ধু আমাদের দিয়ে গেছেন একটি স্বাধীন দেশ, একটি স্বাধীন ভূ-খন্ড ও লাল সবুজ পতাকা।

তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু শুধু দেশকে স্বাধীন করেই ক্ষান্ত হননি। দেশের মানুষ যাতে সুখে-শান্তিতে থাকে এ জন্য তিনি একটি সুখী সমৃদ্ধিশালী সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন দেখে ছিলেন এবং সেই লক্ষ্যে যখন কাজ শুরু করেন তখন জিয়াউর রহমানের মদদে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে বঙ্গবন্ধু নাম মুছে দিতে এবং অসাম্প্রদায়িক মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে নস্যাত করতে ৭৫’র ১৫ আগস্ট স্ব-পরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছিল। স্বাধীনতা বিরোধী উত্তরসূরী জামায়াত-বিএনপি ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের পথ রুদ্ধ করে রেখে ছিল। সেদিন তারা বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশ এবং দেশের বাইরে বিভিন্নভাবে প্রতিষ্ঠিত করার মাধ্যমে পুরস্কৃত করেছিল। বর্তমান সরকার বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার করে জাতিকে কলঙ্গ মুক্ত করেছে। বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডে যারা জড়িত ছিল, যাদের প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ মদদ ছিল, যারা বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে বিশ্বাস ঘাতকতা করেছে তাদের কারো স্বাভাবিক মৃত্যু হয়নি। এটাই সৃষ্টিকর্তার বিচার।

এমপি বাবু বলেন, বঙ্গবন্ধু আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন। আর অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য সংগ্রাম করে যাচ্ছেন তারই যোগ্য উত্তরসূরী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হলে সমাজ থেকে দুর্নীতি দূর করতে হবে। সবাইকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করে অনিয়ম, দুর্নীতি ও মাদক মুক্ত সমাজ গড়ার অঙ্গিকার করতে হবে। তিনি রোববার সকালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে পাইকগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আনোয়ার ইকবাল মন্টুর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ সদস্য শেখ কামরুল হাসান টিপুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য শেখ মনিরুল ইসলাম ও শেখ আনিছুর রহমান মুক্ত।

সভায় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সমীরন সাধু, যুগ্ম সম্পাদক আনন্দ মোহন বিশ্বাস, আওয়ামী লীগনেতা বিজন বিহারী সরকার, জি এম ইকরামুল ইসলাম, এসএম রেজাউল হক, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শিহাব উদ্দীন ফিরোজ বুলু, পৌর আ’লীগের সদস্য সচিব হেমেশ চন্দ্র মন্ডল, মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী মাসুমা আক্তার, উপজেলা কৃষকলীগের আহবায়ক এড. শেখ আব্দুর রশিদ, সদস্য সচিব প্রভাষক ময়নুল ইসলাম, উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি এস এম শামছুর রহমান, আরশাদ আলী বিশ্বাস, বিজন বিহারী সরকার, স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি তৃপ্তি রঞ্জন সেন, যুবলীগ নেতা গৌরাঙ্গ মন্ডল, এম এম আজিজুল হাকিম, শেখ জিয়াদুল ইসলাম, এড. শেখ আবুল কালাম আজাদ, জগদীশ রায়, গাজী মিজানুর রহমান মিজান, নাজমা কামাল, শেখ জুলি, রুপা আক্তার, প্রভাষক বজলুর রহমান, বাশারুল ইসলাম বাচ্চু, উজ্জ্বল মন্ডল, পরেশ মন্ডল, জেলা ছাত্রলীগ নেতা পার্থ প্রতীম চক্রবর্তী, উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক তানজিম মোস্তাফিজ বাচ্চু, পৌর ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক রায়হান পারভেজ রনি। দোয়া অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মাওঃ রাইসুল ইসলাম। এর আগে দলীয় কার্যালয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ম্যুরাল এর উদ্বোধন করা হয়।

(ঊষার আলো-এমএনএস)