সাকিব কাণ্ডে ক্রীড়াঙ্গনে উত্তাপ

সর্বশেষ আপডেটঃ
ছবিতে সাকিব কাণ্ড - সংগৃহিত

ক্রীড়া প্রতিবেদক : বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। ব্যাট-বল হাতে সমান দাপুটে। এমন যার দাপট- বির্তকও তার কম নয়। তিনি ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান। এক সপ্তাহও পার হয়নি ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ ক্রিকেটের জৈব সুরা বলয় ভেঙ্গেছেন। এজন্য কড়া সতর্কবার্তাও পেয়েছেন তিনি ও তার কাব মোহামেডান। এবার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আবাহনীর বিপে ম্যাচে সব সীমা পেরিয়ে গেলেন। প্রথমে আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট না হয়ে মেজাজ হারিয়ে স্টাম্পে লাথি, এরপর আম্পায়ারের সঙ্গে তর্কে জড়ানো এবং সর্বশেষ অদ্ভুদ আচরণে তিন স্টাম্প উপড়ে আছাড় মারা!
শুক্রবার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে আবাহনী-মোহামেডানের লিগ ম্যাচে এইসব বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন সাকিব। এখানেই শেষ নয়! বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ ঘোষণা করার পর আশালীন ভঙ্গিতে আবাহনীর ড্রেসিংরুমের দিকে তেড়ে যান এই অলরাউন্ডার।
আবাহনীর ব্যাটিংয়ের পঞ্চম ও ষষ্ঠ ওভারে অনাকাঙিক্ষত ঘটনা ঘটেছে মিরপুরে। পঞ্চম ওভারের শেষ বলে মুশফিককে আউট না দেওয়ায় স্টাম্প লাথি মেরে মাটিতে ফেলে দেন সাকিব। পরের ওভারে একবল বাকি থাকতে বৃষ্টির কারণে মাঠ কাভার দিয়ে ঢাকার নির্দেশ দেন ফিল্ড আম্পায়ার। তাতেও প্তি হয়ে তিন স্টাম্প উপড়ে আছাড় মারেন মোহামেডান অধিনায়ক। সাকিবের এমন অক্রিকেটীয় ঘটনায় সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। তাই ম্যাচ শেষ হতেই দুঃখ প্রকাশ করে মা চেয়েছেন সাকিব।

নিজের ফেসবুক পেজে সাকিব লিখেছেন, ‘প্রিয় অনুসারীরা, আমি গভীরভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। আমি আমার মেজাজ ধরে রাখতে পারিনি। ম্যাচটি যারা দেখেছেন, বিশেষ করে যারা বাড়ি থেকে ম্যাচটি দেখেছেন তাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি। আমার মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের উচিত হয়নি এভাবে প্রতিক্রিয়া জানানো। কিন্তু কখনও কখনও এমনটা হয়ে যায়। এই মানবিক ভুলের জন্য আমি দল, পরিচালনা কমিটি, টুর্নামেন্টের অফিসিয়ালস এবং সাংগঠনিক কমিটির কাছে মা চাই। আশা করি ভবিষ্যতে আর এর পুনরাবৃত্তি করবো না। ধন্যবাদ, আপনাদের ভালোবাসি।’
আবাহনীর ইনিংসে সাকিব নিজের দ্বিতীয় ওভারে দুই ও তিন নম্বর বলে এক চার ও এক ছক্কা খেয়েছিলেন। তাতেই মেজাজ হারান তিনি। পঞ্চম ওভারের ষষ্ঠ বলটি মুশফিকের পায়ে লাগলে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু দুই সেকেন্ডের ব্যবধানে রিঅ্যাকশন দেখান তিনি। পা দিয়ে স্টাম্প ভেঙে দিয়ে আম্পায়ার ইমরান পারভেজ রিপনের সঙ্গে তর্কে জড়ান। অশ্রাব্য ভাষায় কথা বলেন ওই সময়। তখন তার সতীর্থরা এগিয়ে এসে পরিস্থিতি সামলে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
ঘটনা এখানেই শেষ নয়। ষষ্ঠ ওভারে বোলিংয়ে আসেন শুভগত হোম। প্রথম দুই বলে পর পর দুই চার হজম করেন এই স্পিনার। ওভারের পঞ্চম বল শেষ হতেই বৃষ্টির কারণে ম্যাচ বন্ধ করে দেন আম্পায়াররা। সাকিব এক্সট্রা কাভার থেকে দৌড়ে এসে দুই হাতে দুই স্টাম্প তুলে আছাড় মারেন। পরিস্থিতি খারাপ হয়ে যায় আবার। ততণে অবশ্য মাঠকর্মীরা পিচ কভার দিয়ে ঢাকা শুরু করেন।
সাকিব ওখানেই থামেননি। আশালীন ভাষা ব্যবহার করতে করতে মাঠ থেকে বেরিয়ে যান। আবাহনীর ড্রেসিং রুম থেকে বেরিয়ে আসেন কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন। সাকিবকে টেনে নিজেদের ড্রেসিং রুমে নিয়ে আসার চেষ্টা করেন। ওখানে চলে দুই দলের কথার লড়াই।

সাকিবের শাস্তির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে ম্যাচ রেফারির রিপোর্টের জন্য অপো করার কথা বলেছেন ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিসের (সিসিডিএম) চেয়ারম্যান কাজী ইনাম আহমেদ। বিসিবির এই পরিচালক বলেছেন, ‘আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচে অনেক কিছুই ঘটে থাকে। আজকে এমনই ঘটনা আমরা দেখলাম। যা ফেসবুক লাইভ, ইউটিউবের মাধ্যমে সবাই দেখেছে। সাকিবের ঘটনাটি দুর্ভাগ্যজনক। আমরা আশা করি এমন ঘটনা আর ঘটবে না।’
তিনি আরও বলেছেন, ‘আপনারা জানেন এটা আইসিসির স্বীকৃত ম্যাচ। এসব দেখার জন্য আমাদের প্যানেল আছে। এটা দেখে থাকেন বিসিবির আম্পায়ার ও ম্যাচ রেফারি। তাদের রিপোর্টের ভিত্তিতে সাকিবের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’