সড়কের ইজিবাইকের জট এখন গলার কাঁটা

সর্বশেষ আপডেটঃ

মোঃ আশিকুর রহমান : কয়েক বছরের পূর্বের দৌলতপুরের সেই খোলামেলা দূষণ আর যানজটমুক্ত শহর যেন বিলীন হতে চলেছে। এক সময়ের যানজট মুক্ত খোলামেলা রাস্তাঘাট সম্প্রতি অসংখ্যক ইজিবাইকের ট্রাফিক আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে আবাদে বিচরণ যানজট সৃষ্টিসহ দৌলতপুরবাসীর স্বাভাবিক চলাচলে ভোগান্তির কারণসহ গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই সাথে রাত একটু গভীর হলেই দিনের ভাড়া দ্বিগুন হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক যাত্রী সাধারণ।

শহরের মধ্যে ইজিবাইকের অনিয়মতান্ত্রিক যত্রতত্র পার্কিংসহ ট্রাফিক আইনের কোন তোয়াক্কা না করে অবাদে ইচ্ছা-স্বাধীন চলাচলের ব্যাপারে সুধি সমাজের ব্যক্তিবর্গ সুশৃংঙ্খল যানজট মুক্ত সড়কের আশা করলেও ইজিবাইকের যত্রতত্র পার্কিংয়ের ব্যাপারে কেন যে ট্রাফিক বিভাগের ভূমিকা নীরব তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

বাস্তব পরিদর্শনে দেখা গেছে যারা ইজিবাইক নিয়ে পুড়া শহর কাঁপিয়ে বেড়াচ্ছে বাস্তবে তাদের সড়কে কোনো গাড়ী চালানোর নিয়ম কানুন জানা নেই, নেই ট্রাফিক আইন বা সিগন্যালের জ্ঞানও। তাই সমগ্র শহর জুড়ে ইচ্ছা-স্বাধীন ওভারটেকিং, ইউটার্ন নেয়ার ফলে প্রতিদিনই ছোট বছর দূর্ঘটনা ঘটেই চলেছে। প্রতিনিয়ত এমন বিষয় ঘটে চললেও এ ব্যাপারে দফায়-দফায় ট্রাফিক বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের শরণাপন্ন হলেও আজ অব্দি কোন সমাধান মেলেনি। মেলেছে শুরু সমাধানের আশ্বাস।

মহানগরীর দৌলতপুরস্থ খুলনা-যশোর মহাসড়ক একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন সড়ক। রাজধানীসহ সারাদেশের সাথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে দেশের দক্ষিন অঞ্চলের মানুষের নিকট এই মহাসড়ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিনই শত-শত রাজধানী মুখি যাত্রী পরিবহন, ট্রাক, মালবহনকারী যানবহনসহ ছোট মাঝারী যানবহন চলাচল করে। তবে বর্তমানে অনিয়ন্ত্রিত ইজিবাইকের অনুমোদনহীন ইজিবাইক পার্কিং দৌলতপুর মহাসড়কসহ এলাকার গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক দখল করে নিয়েছে। পাশাপাশি আজ্ঞুমান রোড, দৌলতপুর ট্রাফিক মোড় সংলঘ্ন (আকাংখা টাওয়ার দশ তলার) সামনের অবৈধ ও অনিয়ন্ত্রিত ইজিবাইক পার্কিং বা স্ট্যান্ড এর ব্যাপারে একাধিকবার প্রতিবেদন করা সত্ত্বেও ট্রাফিক বিভাগ অনিয়ন্ত্রিত এই ইজিবাইকের যত্রতত্র পাকিংয়ের অন্যত্র অপসারণের ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ গ্রহনে আমলে নিচ্ছে না।

ইতিপূর্বে ট্রাফিক বিভাগের ডি.সি মোঃ রিয়াজুল ইসলামকে বিষয়টির ব্যাপারে একাধিকবার জানালেও কোন সুরাহ মেলেনি। এ সকল গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটির উপর বর্তমানে অনিয়ন্ত্রিত ইজিবাইক পার্কিংয়ে সয়লাব যার সৃষ্ট যানযটে পথচারীদের চলাচলে ব্যাপক দূর্ভোগ বেড়েছে। এ সকল স্থানে ট্রাফিক বিভাগের দায়িত্বরত উপ-পুলিশ পরিদর্শকসহ কনস্টবেল দায়িত্ব বহল থাকলেও তাদের দায়িত্ব যেন অনেকটাই নিরবতায় পরিণত হয়েছে।

উল্লেখ্য, সড়ক বিভাগের তদারকীতে আইল্যান্ডের কাজ চলাকালীন সময়ে এই সারিবদ্ধ ইজিবাইকের কারণে রাস্তার সংর্কীনতা সৃষ্টি হওয়ার দরুন চলন্ত ট্রাকের দ্বারা নির্মানাধীন আইল্যান্ডের ক্ষতিগ্রস্থ হয়। যা আজ অব্দি ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় পড়ে আছে। উল্লেখিত সকল বিষয়ে ট্রাফিক বিভাগের বর্তমান ডিপুটি কমিশনারকে অভিহিত করলে তিনি দৌলতপুরস্থ খুলনা-যশোর মহাসড়ক সহ তৎসংলঘ্ন অনুমোদনহীন ইজিবাইক পার্কিংয়ের স্থানগুলি সরেজমিনে এসে পরিদর্শনপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস প্রদান করলেও হয়তোবা সময় স্বল্পতায় তার বাস্তবায়ন সম্ভব হয়ে ওঠেনি। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা দৌলতপুরে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে গড়ে ওঠা ইজিবাইক নামক গলার গাটা অন্যত্র কোথাও সরিয়ে নিয়ে দৌলতপুর উপশহরটিকে করা হোক যানজট মুক্ত যশোর, যেখানে থাকবে নির্মল বাতাসের সুঘ্রান।

(ঊষার আলো-এমএনএস)