হতাশার ঘোর; করোনায় ভালো নেই সাউন্ড-লাইটিং ব্যবসায়ীরা

সর্বশেষ আপডেটঃ

ঊষার আলো প্রতিবেদক : এক সময়ে নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে করে চরম ব্যস্ততায় সময় পার করেছে দৌলতপুর সাউন্ড সিস্টেম আর লাইটিং পেশার সাথে জড়িত ব্যবসায়ীরা। দৌলতপুরবাসী অনেকটাই সাংস্কৃতিকমনা। এতদাঞ্চলে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংঠনের নিত্য নৈমিত্তিক অনুষ্ঠানাদী লেগেই থাকতো। সামাজিক অনুষ্ঠানাদীর মধ্যে বিয়ে, সুন্নতে খাতনা, জন্মদিন, ধর্মীয় অনুষ্ঠান ওয়াজ মাহফিল, রাজনৈতিক অনুষ্ঠানাদীর মধ্যে মিটিং মিছিল, জনসমাবেশ, সভা- সেমিনার, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অফিস আদালতের নানা দিবসসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের আচার অনুষ্ঠানে সাউন্ড সিস্টেম ও লাইটিংয়ের বিকল্প যেন কিছুই ছিলনা। তবে সম্প্রতিকালে করোনা সংক্রমন বৃদ্ধির কারণে এ সকল প্রকার সামাজিক, রাজনৈতিক সভা, ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদী বাতিল করার নির্দেশনা আরোপ করেছে সরকার। তাছাড়া প্রায় দেড় বছরের অধিক সময়ে করোনার আবির্ভাব আর দীর্ঘ লকডাউনসহ জরুরী অবস্থার কারণে সাড়া নেই দৌলতপুরে সাউন্ড সিস্টেম আর লাইটিং ব্যবসায়।
করোনা নামক প্রাণঘাতি ব্যাধির প্রভাবে নগরীর দৌলতপুরের সাউন্ড আর লাইটিং ব্যবসায়ীরা সর্বশান্ত প্রায়। যেহেতু সরকারি নির্দেশনা কোন অবস্তাতেই জনসমাগম করা যাবে না, আর সামাজিক নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে চলতে নির্দেশনার কারণে সমাজের সচেতন মহলও এই করোনা সংকটকালীন মুহুর্তে কোন প্রকার সামাজিক অনুষ্ঠান জাঁক জমকভাবে করতে অনাগ্রহ প্রকাশ করছে। যে কারণে সামাজিক, রাজনৈতিক বা সাংস্কৃতিক কোন প্রকার অনুষ্ঠানের কাংক্ষিত সাড়া না মেলায় এই ব্যবসায় ঘোর হতাশা নেমে এসেছে। ঘর ভর্তি লাইটিং সামগ্রী আর সাউন্ড ইনস্টুলমেন্ট থাকলেও ব্যবসায়ী সারাদিনের অধিকাংশ সময় বসে অসল সময় পার করছেন। দৌলতপুরে অতি আদী ব্যবসায়ী রেডিও মাইক হাউজ, মিলু মাইক এন্ড সাউন্ড সিস্টেম, লাইট হাউজ সাউন্ড সিস্টেম, রাজা সাউন্ড এবং ইমরান লাইটিং। করোনার প্রার্দুভাবে এ সকল প্রতিষ্ঠানের মালিকেরা নামে মাত্র দোকান খুলে অলস সময় পার করছে। দোকান ও গোডাউনে পড়ে থাকা তাদের ইলেকট্রনিক সামগ্রীতে মরিচা ধরছে। আয় না থাকায় কর্মচারীদের বিদায় করেছেন অনেকে। মাসের পর মাস বসে-বসে অবধি দোকান ভাড়া গুনতে হচ্ছে। ভবিষ্যতের কথা ভেবে কোনো কূলকিনারা পাচ্ছেন না এসব ব্যবসায়ীরা। দৌলতপুর লাইট হাউজ সাউন্ড সিস্টেমের মালিক রনি জানান, করোনার প্রভাবে ব্যবসা প্রায় গোটাতে বসেছে। করোনার কারণে সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানাদী বন্ধ থাকায় উপার্যনের পথ সম্পূর্ন বন্ধ হয়ে গেছে। সাউন্ডের মালামাল কিনে ক্যাশটাকা আটকে পরে আছে। রেডিও হাউজের মালিক রানা জানান, করোনা আমাদের ব্যবসায় ধ্বস ফেলে দিয়েছে। করোনা প্রভাবে আমরা শেষ হয়ে গেছি, অবস্থা এতটাই শোচনীয় যে বলে বোঝানো যাবে না। দোকানে লাখ টাকার মাইক, সাউন্ড সিস্টেম, লাইটিং সামগ্রী রয়েছে। এসবের কোনো চাহিদা নেই বর্তমানে করোনার কারণে। এমন একই কথা বলেছেন রাজা, মিলু ও ইমরান লাইটিংয়ের মালিক ইমরান। সবমিলিয়ে ভালো নেই দৌলতপুরের সাউন্ড লাইটিং ব্যবসার জড়িত ব্যবসায়ীরা। তাদের চোখে মুখে একটাই কথা সুস্থ এ পৃথিবী আগের মতোই সুস্থ হয়ে উঠুক। আর পৃথিবী হতে চিরতরে বিদায় হোক করোনা মহামারী। জীবন আর জীবিকার প্রয়োজনে সকলেই ছুটে চলুক স্বাভাবিক গতিতে।
(ঊষার আলো-এমএনএস)