৩৩৩-এ অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে অসহায়ের আকুতি

সর্বশেষ আপডেটঃ

ঊষার আলো ডেস্ক : করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকার ঘোষিত কঠোর লকডাউন যত দীর্ঘায়িত হচ্ছে ততই অর্থ ও খাদ্য সংকটে পড়ছে নিম্ন আয়ের মানুষ। ইতোমধ্যে করোনা মহামারির কারণে চাকরি হারিয়ে বেকার হয়ে পড়েছেন অনেকে। দিনমজুররাও কাজ না পেয়ে পার করছেন দুঃসহ দিন। দেশে দিন দিনই বাড়ছে নতুন দরিদ্রের সংখ্যা। সবচেয়ে বেশি বেকায়দায় পড়েছে মধ্যবিত্তরা। করোনার জাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে অনাহারে দিন কাটাচ্ছে অনেকে। এ অবস্থায় একমুঠো খাবারের আশায় জাতীয় হেল্পলাইন ৩৩৩ নম্বরে কল দিয়ে খাদ্য সহায়তা চাওয়া মানুষের আকুতি বেড়ে গেছে অস্বাভাবিক হারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, সাধারণত ৩৩৩ নম্বরে প্রতিদিন গড়ে ৩০ হাজার কল এলেও বর্তমান কঠোর লকডাউন চলাকালে প্রতিদিন গড়ে লাখের বেশি কল আসছে। যার বেশির ভাগই খাদ্য
সহায়তা ও করোনা সম্পর্কিত বিষয়। তবে, যারাই খাদ্য সহায়তা চেয়ে কল দিচ্ছেন, তাদের সমস্যার কথা শোনার পর স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে (ইউএনও) বিষয়টি জানানো হচ্ছে। ইউএনও যদি উপযুক্ত মনে করেন, তাহলে ত্রাণ পৌঁছে দিচ্ছেন। কেউ ফোন দেয়ার পর ত্রাণ পেয়েছে কিনা সে বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছে ৩৩৩ কর্তৃপক্ষ। তবে, ফলোআপ কলে ৯০ শতাংশের বেশি সময় ইউএনওরা ত্রাণ দেয়ার কথা জানালেও, সহায়তা চাওয়া ব্যক্তি তা অস্বীকার করছেন বলে জানিয়েছে দায়িত্বশীল একটি সূত্র।
প্রাপ্ত তথ্য মতে, গত ২৫ এপ্রিল থেকে গত ৫ জুলাই পর্যন্ত ৩৩৩ নম্বরে খাদ্য সহায়তা চেয়ে মোট ১৯ লাখ ৯ হাজার ২১৪টি কল আসে। কল সেন্টারের এজেন্টরা প্রাথমিকভাবে ৩ লাখ ৯৫ হাজার ৪৪৯ জনকে বাছাই করেন। পরে অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে এর মধ্য থেকে ১ লাখ ৫১ হাজার ৪৬০ জন সাহায্যপ্রার্থীর তালিকা ইউএনওদের কাছে পাঠানো হয়। এই তালিকা থেকে যাচাই-বাছাই শেষে মোট ৫৯ হাজার ১৬৪টি পরিবারকে সহায়তা দেয়া হয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। আর গত ১ জুলাই থেকে কঠোর লকডাউন শুরু হওয়ার পর থেকে গত ৫ জুলাই পর্যন্ত খাদ্য সহায়তা চেয়ে কল করেছে ১ লাখ ৭০ হাজার ৯৮৪ জন। এই হার যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি। এদের মধ্য থেকে কল সেন্টারের এজেন্টরা প্রাথমিকভাবে ২১ হাজার ৯৬৮ জনকে বাছাই করেন। পরে অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে ১৩ হাজার ১৫১ জনের তালিকা ইউএনওদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই (অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন) কর্মসূচির অধীনে চলা ৩৩৩ হেল্পলাইন প্রকল্পের কমিউনিকেশনস এন্ড মিডিয়া আউচরিচ কনসালট্যান্ট আদনান ফয়সল বলেন, ২০১৮ সালে চালু হওয়ার পর থেকে চলতি বছরের ৫ জুলাই পর্যন্ত তিন বছরে জাতীয় হেল্পলাইন ৩৩৩ নম্বরে সাড়ে ৩ কোটির বেশি ফোন কল নাগরিকদের কাছ থেকে গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২২ হাজারের বেশি বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, সরকারি কর্মকর্তাদের তথ্য প্রদান ও নাগরিক সেবার পদ্ধতি সম্পর্কে তথ্য প্রদানসহ বিভিন্ন তথ্য দেয়া হয়েছে। মোট ফোন কলের মধ্যে ৫৫ লাখের বেশি কল এসেছে শুধু করোনাবিষয়ক। স্বেচ্ছাসেবী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমে টেলিমেডিসিন সেবা দেয়া হয়েছে প্রায় ৫ লাখ নাগরিককে। এছাড়াও প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং অন্যান্য জরুরি পরিস্থিতিতেও প্ল্যাটফর্মটিতে নাগরিকদের ফোনকলের সংখ্যা বেড়ে যায়। করোনাকালীন পূর্বে প্রতিদিন গড়ে ৩০ হাজারের মতো কল আসত কিন্তু করোনাকালীন এই হেল্পলাইনটিকে টোল ফ্রি করে দেয়ার ফলে এখন প্রতিদিন লক্ষাধিক কল আসছে।
করোনাকালীন ত্রাণ সাহায্য চেয়ে কল এসেছে ১৯ লাখের বেশি, এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপের জন্য এসব তথ্য মাঠ প্রশাসনের কাছে পৌঁছানো হয়েছে। মধ্যবিত্ত মানুষ তাদের কষ্টের কথা কারো কাছে বলতে পারে না; তারা ফোনের মাধ্যমে তাদের অসহায়ত্বের কথা হেল্পলাইন ৩৩৩ নম্বরে কল করে জানাচ্ছে। আমরা তাদের তথ্য মাঠ প্রশাসনের কাছে পাঠাচ্ছি এবং তারা যাচাই-বাছাই করে ত্রাণ পৌঁছে দিচ্ছেন। তবে কিছুসংখ্যক অবাঞ্ছিত কলের কারণে প্রায়ই এইসব সেবা প্রদানে ব্যাঘাত ঘটছে। বর্তমানে হেল্পলাইন এজেন্ট এবং মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় আমরা সেবা প্রদান করছি। ভবিষ্যতে এই সেবার মান আরো বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান আদনান ফয়সল।
(ঊষার আলো-এমএনএস)