বছরে ৮ কোটি টাকার রাজস্ব আয়, সংস্কার বা নির্মাণে অনীহা

৩৭ বছরের জরাজীর্ণ ভবনে ঝুঁকিতে সাব রেজিষ্ট্রি অফিস

সর্বশেষ আপডেটঃ

মোঃ এরশাদ হোসেন রনি, মোংলা : মোংলায় ৩৭ বছরের পুরানো জরাজীর্ণ ভবনে চলছে সাব রেজিষ্ট্রি (ভূমি নিবন্ধন) অফিসের কাজকর্ম। এ ভবনটির অর্ধেক অংশ মাটির নিচে চলে গেছে। দেয়াল ও ছাদের পলেস্তারা খসে খসে পড়ছে। জীবনর ঝুঁকি নিয়ে সেখানে চালানো হচ্ছে অফিসের কার্যক্রম। এমতাবস্থায় যে কোন মুহুর্তে ভবনটি ধ্বসে পড়ে ব্যাপক ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশংকা রয়েছে।

উপজেলা সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসের দেয়া তথ্যে জানা যায়, বর্তমানে যে ভবনটিতে সাবরেজিষ্ট্রি অফিসের কার্যক্রম চলছে সেই ভবনটি ১৯৮৪ সালে নির্মিত হয়। এরপর ১৯৮৬ সালে ভবনটিতে উপজেলা মুন্সেফ কোর্ট বা আদালত হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ১৯৯১ সালে উপজেলা মুন্সেফ কোর্ট আদালত ব্যবস্থা বিলুপ্ত হলে ভবনটি অব্যবহৃত ও পরিত্যাক্ত অবস্থায় থাকে। পরবর্তীতে ১৯৯৪ সালে ওই ভবনেই উপজেলা সাবরেজিষ্ট্রি অফিসের কার্যক্রম শুরু হয়।

এই অফিসে বর্তমানে ১৭ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। এছাড়া ৩১ জন সনদপ্রাপ্ত দলিল লেখক ও প্রায় ২শ জনের মত দলিল লেখকের সহকারী রয়েছে। প্রতিদিন শতশত লোক জমি রেজিষ্ট্রি সংক্রান্ত কাজে এই অফিসে যাতায়াত করেন।

সরেজমিনে রেজিষ্ট্রি অফিসে গিয়ে দেখা যায়, ভবনটির চারিদিকের দেয়াল খসে খসে পড়ছে। সামনের মাঠটিতে ৪ বার বালু দিয়ে ভরাট করায় ভবনটি প্রায় ৬ ফুট বালুর নিচে চলে গেছে। ভবনের চারিদিকের দেয়ালে অসংখ্য ফাটল। লবণ অধ্যুষিত এলাকা হওয়ার কারণে দেয়ালে নোনাও ধরেছে। আর এরমধ্যেই চলছে ভূমি নিবন্ধনের সকল কার্যক্রম।

মোংলা দলিল লেখক সমিতির সাবেক সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রতি বছর এই ভবনটি থেকে প্রায় ৮ কোটি টাকার রাজস্ব সরকারী কোষাগারে জমা হলেও জরাজীর্ণ ভবনটির সংস্কারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোন মাথাব্যাথা নেই। ভবনটির অর্ধেকেরও বেশি অংশ মাটির নিচে দেবে যাওয়ায় বর্ষাকালে ভবনটিতে পানি প্রবেশ করে রেকর্ডরুমে রক্ষিত গুরুত্তপূর্ণ ও মূল্যবান দলিলপত্র নষ্ট হয়ে আসছে। খুব দ্রুত এই ভবন সংস্কার করা না হলে এটিতে আর কার্যক্রম চালানো সম্ভব হবে না।

সেখানে জমি দলিল করতে আসা মিঠাখালী গ্রামের খোকন শেখ, চাঁদপাই গ্রামের গোলাম মোড়ল, সাহেবের মেঠ গ্রামের আলমগীর শেখ বলেন, সাব রেজিষ্ট্রি অফিসে আসার জন্য কোন রাস্তা না থাকায় কাঁদা পানি ডিঙ্গিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সেবাপ্রার্থীদের অফিসে যাতায়াত করতে হয়। বর্তমানে খুবই ঝুঁকিপূর্ন অবস্থায় রয়েছে ভবনটি। এটি যে কোন সময় ধ্বসে পড়ে ব্যাপক প্রাণহানী হতে পারে বলে আশংঙ্কা রয়েছে। দলিল লেখক মুরাদ শেখ, গৌতম রায় বলেন, আমরা অফিসে আসলে সারাক্ষণ আতংকের মধ্যে থাকি যে প্রাণ নিয়ে বাড়ী ফিরতে পারবো কিনা। ইতিপূর্বে ভবনের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে সেবাপ্রার্থীসহ অফিসের কয়েকজন আহত হয়েছেম। দ্রুত ভবনটি ভেঙ্গে নতুন আরেকটি ভবন নির্মাণের দাবী জানান তারা।

এ ব্যাপারে মোংলা উপজেলা চেয়ারম্যান আবু তাহের হাওলাদার বলেন , সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিলে উপজেলা পরিষদ থেকে ভবনের জন্য জায়গা বরাদ্দ দেয়া হবে। আর খুব দ্রুত এ বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করা দরকার।

মোংলা উপজেলা সাব রেজিষ্টার জুবায়ের হোসেন বলেন, তিনি যোগদানের পর কয়েকবার ভবনটিতে মেরামত করেছেন। কিন্তু কিছুদিন পরেই তা আবারও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে তিনিসহ কর্মকর্তা -কর্মচারী ও সেবাপ্রার্থীদের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন রয়েছেন। তিনি আরো বলেন, এ ব্যাপারে বেশ কয়েকবার উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরও কোন প্রতিকার পাননি।

(ঊষার আলো-এমএনএস)