UsharAlo logo
, |

কক্সবাজারে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে পরপর ২ শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ!

ঊষার আলো
জুন ২৬, ২০২১ ৯:৪২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ঊষার আলো রিপোর্ট : কক্সবাজারের চকরিয়ায় ১০ম ও ৭ম শ্রেণীতে পড়ুয়া ২ শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। বাড়িতে অন্য কেউ না থাকার সুযোগে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে পরপর ২ শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করে।
এ ঘটনায় গত ২৪ জুন বৃহস্পতিবার রাতে থানায় মামলা হয়েছে। তবে ধর্ষক আবু হাসান মো. ইব্রাহিম জুয়েলকে এখনো আটক করতে পারেনি পুলিশ। ইতোমধ্যে চাঞ্চল্যকর এই জোড়া শিশু শিক্ষার্থী ধর্ষণের ঘটনার ৩ দিন পেরিয়ে গেছে। পুলিশের কাছ থেকে সঠিক তথ্য পেতেও হিমশিম খেতে হয়েছে গণমাধ্যমকর্মীদের।
ধর্ষিতার পরিবার সূত্র জানিয়েছে, অনেকটা সমবয়সী ৭ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের সময় চিৎকার দিলে ১০ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী পুলিশের জাতীয় জরুরি সেবার ৯৯৯ এ ফোন করে বিষয়টি অবগত করে। এর পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এ সময়ে পুলিশ ধর্ষিতা ২ শিক্ষার্থীকে ডাক্তারি পরীক্ষা করানোর জন্য পরিবারকে নির্দেশ দিলে তাদেরকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের ওসিসিতে ভর্তি করায় পরিবার।
এর আগে গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১০টা থেকে পরদিন বুধবার ভোররাত ৪টা পর্যন্ত উপজেলার উপকূলীয় বদরখালী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ব্লকের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের লম্বাখালী পাড়ার একটি বাড়িতে চাঞ্চল্যকর এই ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। ধর্ষণের শিকার ২ জন স্থানীয় উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
এদিকে ঘটনার পর পরই ধর্ষণে অভিযুক্ত যুবক কলেজ শিক্ষার্থী আবু হাসান মো. ইব্রাহিম জুয়েল (২১) আত্মগোপনে চলে যায়। সে একই এলাকার জয়নাল আবেদীন ওরফে জনু মাঝির ছেলে। তাকে ধরতে পুলিশ এবং অন্য একটি বাহিনীর সদস্যরা অভিযান শুরু করেছে
এদিকে এই ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে থানায় মামলা দায়ের করেন ধর্ষণের শিকার দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থীর বাবা। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ৯ (১) ধারায় মামলাটি রুজু করা হয়।
মামলার এজাহারে ঘটনার বর্ণনা অনুযায়ী, মঙ্গলবার সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থীর মা-বাবা অসুস্থ এক সন্তানকে পাশের উপজেলা মহেশখালীতে কবিরাজের কাছে নিয়ে যান চিকিৎসা করাতে। এ কারণে ৭ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীর পুরো বাড়ি ফাঁকা হয়ে পড়ে। তাই পাশের বাড়ির অনেকটা সমবয়সী ১০ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে বাড়িতে রাতে থাকার জন্য অনুরোধ করে ৭ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। এই সুযোগে যুবক ইব্রাহিম ৭ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীর বাড়িতে কৌশলে ঢুকে পড়ে। এ সময়ে ধারালো ছোরার ভয় দেখিয়ে প্রথমে দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থীর সাথে শারীরিক সম্পর্ক করে এবং ঘুমের ওষুধ খাইয়ে দেয়। এতে ১০ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ঘুমিয়ে পড়লে সেই সুযোগে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে ৭ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীকেও। এ সময়ে ৭ম শ্রেণীর ওই শিক্ষার্থী চিৎকার দিলে ১০ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীর ঘুম ভেঙে যায়। এই অবস্থায় দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী পুলিশের জাতীয় জরুরি সেবার নম্বর ৯৯৯ এ ফোন করে। পরে পুলিশ গিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। ঘটনার পর ধর্ষক আবু হাসান মো. ইব্রাহিম জুয়েল পালিয়ে আত্মগোপনে চলে যায়।
এ ব্যাপারে চকরিয়া থানার ওসি শাকের মোহাম্মদ যুবায়ের বলেছেন, ‘৯৯৯-এ ফোন করার পর পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এর পর পরিবারকে নির্দেশ দেওয়া হয় ২ শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের ওসিসিতে ভর্তি করাতে। সেখানে ভর্তি হওয়ার পর ডাক্তারি পরীক্ষার রিপোর্টে ধর্ষণের আলামত মিলেছে বলে জানা গেছে।’
এদিকে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থীর সঙ্গে পূর্ব থেকেই প্রেমের সম্পর্ক ছিল ধর্ষক আবু হাসান মো. ইব্রাহিম জুয়েলের। ধর্ষণের ঘটনার পর ধর্ষক আবু হাসান মো. ইব্রাহিম জুয়েল নিজের ফেসবুকে পর পর কয়েকটি পোস্ট দিয়েছে। সেসব পোস্টে দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থীর সঙ্গে পূর্ব থেকেই প্রেমের সম্পর্ক থাকার বিষয়টি তুলে ধরেছে। একটি পোস্টে মা-বাবার কাছে ক্ষমা চেয়ে আর না ফেরারও কথাও বলে সে।

(ঊষার আলো- এম.এইচ)