বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, খাল খনন কর্মসূচি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই শুরু হয়েছিল। এর ফলে দেশে সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটে এবং কৃষিক্ষেত্রে বিপ্লব সাধিত হয়।
শনিবার যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার গৌরীঘোনা ইউনিয়নের বুরুলি স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে বুরুলি খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দেশব্যাপী নদী-নালা, খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে দেশে বছরে একবার ফসল উৎপাদিত হতো এবং কৃষকেরা অভাব-অনটনে দিন কাটাতেন। খাল খননের মাধ্যমে সারা বছর সেচের পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। পাশাপাশি পল্লী বিদ্যুতায়নের মাধ্যমে গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ায় সেচব্যবস্থা আরও উন্নত হয়। ফলে একই জমিতে বছরে দুই থেকে তিনবার ফসল উৎপাদন সম্ভব হয়।
তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালে কৃষকদের পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করেছিলেন। এর ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভবদহ অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। ইতোমধ্যে টেকা নদী, শ্রী নদী, হরিয়ন, খরিয়ান ও আপার ভদ্রাসহ বিভিন্ন নদী-খাল মিলিয়ে প্রায় ৮১.০৫ কিলোমিটার পুনঃখনন কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়া ২১টি খালের খনন কাজ এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে অবকাঠামো সংস্কার কার্যক্রম চলছে। আসন্ন বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে ২১টি রেগুলেটার ও ১৭টি কপাট খুলে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
যশোর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক খান সাবু, জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন আজাদ, প্রকল্প পরিচালক লে. কর্নেল মামুনুর রশীদ, কেশবপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক জুলমত আলী এবং সাংবাদিক এম. এ. হালিম।
স্বাগত বক্তব্য দেন যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী। অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেকসোনা খাতুন, যশোর প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. জাহিদ হাসান টুকুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, প্রায় সাড়ে ৯ কিলোমিটার খাল পুনঃখননে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা এবং ২০২৬ সালের জুন মাসে কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
ঊআ-রহ
