সংখ্যাগরিষ্ঠতার দম্ভে অন্যায় চাপালে পরিণতি শুভ হবে না — মিয়া গোলাম পরওয়ার
খুলনায় শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের উদ্যোগে আয়োজিত ঈদ প্রীতি সমাবেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার সরকারকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার দম্ভে জনগণের ওপর অন্যায় সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিলে তার পরিণতি শুভ হবে না।
তিনি অভিযোগ করেন, একই প্রক্রিয়ায় গণভোট ও সংসদ নির্বাচন আয়োজন করে একটিকে বৈধ এবং অন্যটিকে অবৈধ বলা হচ্ছে—যা বিবেকবিরোধী ও প্রতারণার শামিল। তিনি বলেন, অতীতে কর্তৃত্ববাদী শাসকরা সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে জনগণকে দমন করতে চাইলেও শেষ পর্যন্ত টিকতে পারেনি।
খুলনা মহানগর শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের আয়োজনে নগরীর খালিশপুর থানাধীন বিআইডিসি রোডস্থ শ্রমিক কল্যাণ ট্রাস্ট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সরকারের প্রতি সরাসরি বার্তা দিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনের পূর্ণ দায় সরকারের। সংকট দীর্ঘায়িত হলে তার দায়ও সরকারকেই বহন করতে হবে। দেশকে সংঘাতের দিকে ঠেলে না দিয়ে পরিস্থিতি সমাধানের আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মহানগর সভাপতি আজিজুল ইসলাম ফারাজী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মাস্টার শফিকুল আলম, খুলনা মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমীর অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান, সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল এমপি এবং হিন্দু কমিটির সভাপতি বাবু কৃষ্ণ নন্দী।
মহানগর সাধারণ সম্পাদক ডা. সাইফুজ্জামানের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন অধ্যাপক নজিবুর রহমান, প্রিন্সিপাল শেখ জাহাঙ্গীর আলম, খান গোলাম রসুল, আব্দুল্লাহ আল মামুন, জাহাঙ্গীর কবীর, মুনসুর আলম চৌধুরী, সিদ্দিকুর রহমানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
বিরোধী দল হিসেবে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াতে ইসলামী কোনো বিশৃঙ্খলা বা সন্ত্রাসের রাজনীতি সমর্থন করে না। তবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে তারা আপসহীন থাকবে। ধর্মীয় উদ্ধৃতি টেনে তিনি বলেন, “সৎ কাজে সহযোগিতা করব, অন্যায়ের প্রতিবাদ করব।”
আগামী ২৯ তারিখে সংসদের অধিবেশন শুরুর প্রেক্ষাপটে তিনি সতর্ক করে বলেন, সংসদ যেন সংবিধান, আইন ও কার্যপ্রণালী বিধির বাইরে না যায়। অন্যথায় নতুন করে রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, বিপুল সংখ্যক আসন নিয়ে জামায়াতে ইসলামী বর্তমানে বিরোধী দলে রয়েছে এবং ড. শফিকুর রহমান বিরোধী দলীয় নেতার দায়িত্ব পালন করছেন, যা দেশের রাজনীতিতে নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে। জুলাই সনদ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, এটি উপেক্ষা করা মানে জনগণের রায় অস্বীকার করা।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি বাবু কৃষ্ণ নন্দী বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে ১১ দলীয় জোট আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে। তিনি ভারতের সাম্প্রতিক বক্তব্য নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
আসন্ন সংসদ অধিবেশনকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিরোধী দলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমানের নির্দেশনা বাস্তবায়নে নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকতে হবে। এ সময় নেতাকর্মীরা ‘ইনশাআল্লাহ’ বলে সাড়া দেন।
এছাড়া তিনি তারেক রহমান-এর প্রতিও আহ্বান জানিয়ে বলেন, দ্রুত জুলাই সনদ বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় সৃষ্ট রাজনৈতিক পরিস্থিতির দায় নিতে হবে সংশ্লিষ্টদের।
ঊআ-রহ
