ঊষার আলো ডেস্ক : মাদারীপুর সদর উপজেলার দুর্গাবরদী গ্রামে পুলিশের পরিচয় দিয়ে এক মৃত স্কুল শিক্ষকের বিধবা স্ত্রীর জমি জবরদখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে এক পুলিশ পরিবারের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় বিধবা স্ত্রী মাদারীপুরের একটি আদালতে নিষেধাজ্ঞা মামলা দায়ের করার পরে এখনো কোন প্রতিকার পায়নি ভুক্তভোগী ওই অসহায় পরিবারটি।
সরেজমিনে ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, দুর্গাবরদী গ্রামের মৃত স্কুল শিক্ষক হালিম হাওলাদারের স্ত্রী ফরিদা বেগমের স্বামীর সূত্রে থেকে পাওয়া হাউসদী-দুর্গা বরদী মৌজার বিআরএস ৪০৬ খতিয়ানে ১৬৮ নং দাগের বাড়ি ২৮ শতাংশ ও ৮৭৬ নং দাগের নাল ১০৮ শতাংশ মোট ১৩৬ শতাংশ জমির মধ্যে ১২৭ সহস্রাংশে ১৮ শতাংশ এবং মামলার সাক্ষী ইদ্রিস হাওলাদার ১২৭ সহস্রাংশে ১৮ শতাংশসহ ৩৬ শতাংশ জমির রেকর্ডিং মালিক নিয়ে এখন দখলদার থাকেন। পরে শিক্ষক হালিম হাওলাদার মারা যাওয়ায় তার স্ত্রী দুই কন্যা নিয়ে অসহায় দিনযাপন করে আসছে। এরই সুযোগ নিয়ে শিক্ষক হালিম হাওলাদারের জমি মনির হাওলাদার, টিটু হাওলদার, রুবেল হাওলাদার, সুমন হাওলাদারগংরা তাদের ভাই পুলিশের এসআই মামুন হাওলাদারের প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে গত ৩ মে তারিখে স্বামীর সূত্রে পাওয়া ফরিদা বেগমের জমি দখল করে সেখানে সিমেন্টর খঁুটি ও কাঁটা তারের বেড়া দিয়ে দখল করে বসে। সেই সাথে ফরিদা বেগমকে তার জমি আর কোনদিন ভোগ দখল করতে দেবে না বলেও হুমকি দিয়েছে এমন অভিযোগ পাওয়া যায়।
এই বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ফরিদা বেগম বলেন, পুলিশ দারোগা মামুনের প্রভাব দেখিয়ে আমার স্বামীর সব সম্পত্তি ওরা দখল করছে। আমি মামলা করেও কোন সুরাহা পাচ্ছি না। শুধু জমিই নয়। হাসউদী বাজারে সরকারের কাছ থেকে জমি লিজ নিয়ে আমার স্বামী একটি দোকান ঘর নির্মাণ করে ব্যবসা করত। সে মারা যাওয়ার পরে ওই দোকানটিও ওরা দখল করে আমাদের ভাড়াটিয়া উচ্ছেদ করে ওরা নতুন ভাড়াটিয়াকে ভাড়া দিছে। আমি এখন আর কোন দোকান ঘরের ভাড়া পাই না। সরকারের কাছে আমি ন্যায় বিচার চাই।
এই বিষয়ে পুলিশ পরিচয়ের প্রভাব দেখিয়ে জমি দখলের বিষয়টি অস্বীকার করে পুলিশের এসআই মামুন হাওলদাার বলেন, আমার পুলিশ পরিচয়ের প্রভাব দেখিয়ে জমি দখল করিনি। আমার চাচী যেন কারো কাছে জমি বিক্রি করতে না পারে তাই আমরা ওই জমিতে পিলারসহ কঁাটা তাঁরের বেড়া দিয়েছি। আর দোকান ঘরের ভাড়া যদি তার লাগে, আমরা ভাড়া তাকে দেব সংসার চালাতে তবে দোকান ফিরিয়ে দেব না।
স্থানীয় দুধখালি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান হিরু খান বলেন, এই ঘটনা নিয়ে আমরা শান্তিপূর্ণ মিমাংসার চেষ্টা করেছিলাম কিন্তু মামুনদের পক্ষ রাজি না থাকায় সেটা সম্ভব হয়নি।
(ঊষার আলো-এমএনএস)
