UsharAlo logo
, |

বান্ধবীকে ভিডিও কলে রেখে গলায় ফাঁস দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রীর আত্মহত্যা

ঊষার আলো
জুন ২৪, ২০২১ ১০:০১ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ঊষার আলো রিপোর্ট : রাজধানীর মালিবগের গুলবাগে বান্ধবীকে ভিডিও কলে রেখে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ শিক্ষার্থী। তার নাম রুবিনা ইয়াসমিন নদী (২১)। ২৩ জুন বুধবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটেছে। নদীর বাবা রফিকুল ইসলাম পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই)। বরগুনা জেলার বেতাগীতে বাড়ি।
বর্তমানে মালিবাগ ৩৯১ গুলবাগের ৫ম তলায় ১ বান্ধবীসহ সাবলেট থাকতো নদী। ১ ভাই ১ বোনের মধ্যে নদী ছিল বড়। ২ জনই পড়াশোনার পাশাপাশি আমজারা নামে একটি বোরকা কম্পানিতে চাকরি করতেন।
তার রুমমেট বান্ধবী মারিয়াম বলেছেন, তিনি ও রুবিনা ডেফোডিল ইউনিভার্সিটিতে আইন বিভাগে পড়াশোনা করতো। সেখানে একই বিভাগের সায়েম নামে ১ শিক্ষার্থীর সঙ্গে সম্পর্ক হয় নদীর। তারা বিয়ে করে ২০১৯ সালে। বিয়ের ৩ মাসের মাথায় বনিবনা না হওয়ায় তাদের ডিভোর্স হয়। ছেলের চরিত্রগত সমস্যা ছিল বলে পরে জানতে পারে নদী।
নদীর খালাতো বোন শরিফা সুলতানা বলেছে, সায়েমের সঙ্গে ছাড়াছাড়ির পরও বিভিন্ন সময় নদীর বান্ধবী মারিয়ামের ফোনে তাদের বিশেষ মুহূর্তের ছবি, ভিডিও পাঠাতো। মারিয়াম তা নদীকে দেখাতো। পরে তা ডিলিট করে দিয়েছিল। এসব নিয়ে নদী মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন।
শরিফা সুলতানার দাবি, ওই ছেলের এসব আচরণের কারণেই নদী আত্মহত্যা করেছে।
মারিয়ম বলেন, নদী এদিন কাজে না গেলেও তিনি নিজে কাজে চলে যান। বিকাল ৩টার সময়ে নদী তাকে ফোন করে। নদী তাকে বলে, ‘আমার ভালো লাগছে না, তুই দ্রুত চলে আয়, আমি মরে যাব।’
মারিয়ম বলে, কিছু সময় পরে নদী তাকে ভিডিও কল দেন। নদী তখন ফ্যানের সঙ্গে ওড়না বাঁধছিল। এটা দেখেই তিনি দ্রুত অফিস থেকে বেরিয়ে যান। বাসায় গিয়ে দেখতে পান, ঘরের ভেতর দিয়ে দরজা বন্ধ। ডাকাডাকি করে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে আশপাশের লোকজনকে খবর দেন। তারা এলে তাদের সহযোগিতায় ছিটকানি ভাঙে। তখন তারা নদীকে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না বাঁধা ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। তারা সেখান থেকে উদ্ধার করে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. বাচ্চু মিয়া বলেছেন, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি মর্গে রাখা হয়েছে।

(ঊষার আলো- এম.এইচ)