UsharAlo logo
, |

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে ভারতীয় আদালত

ঊষার আলো রিপোর্ট
আগস্ট ১৬, ২০২৬ ৪:৫৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে সরকারের অব্যাহত দাবির প্রেক্ষাপটে ভারতের শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ ধরনের প্রত্যর্পণ অনুরোধ ভারতীয় বিচার বিভাগের সামনে উপস্থাপন করতে হবে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতই নেবে।

এ বিষয়ে রাজনৈতিক বা কূটনৈতিকভাবে কোনো একক সিদ্ধান্ত হবে না। একই সঙ্গে ঢাকার এ কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসতে উভয় দেশের মধ্যে কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা চলছে।

ভারতের শীর্ষ পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে জানিয়েছেন, কাউকে প্রত্যর্পণ করার সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক বিবেচনার বিষয় নয়, এটি সম্পূর্ণ আদালতের এখতিয়ার। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতে এটি প্রমাণ করতে হবে যে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, তা ভারতীয় আইনের অধীনেও অপরাধ হিসেবে গণ্য কি না। পাশাপাশি বিষয়টি ভারত ও বাংলাদেশের বর্তমান দ্বিপক্ষীয় কূটনৈতিক সম্পর্কের সঙ্গে সরাসরি জড়িত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রতিবেদনে অন্য এক কর্মকর্তার বরাতে জানানো হয়েছে, শেখ হাসিনা নিজেই আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। গত ৫ আগস্ট এক সংবাদ সম্মেলনে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ও বিজয়ের মাসকে স্মরণ করে তিনি ডিসেম্বরেই দেশে ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর থেকে শেখ হাসিনা নয়াদিল্লির একটি গোপন স্থানে আশ্রয়ে রয়েছেন। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) থেকে তার বিরুদ্ধে রায় দেওয়া হয় এবং দল হিসেবে আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা আসে। ঢাকা মূলত আইসিটির ওই রায়কে ভিত্তি ধরেই প্রত্যর্পণের দাবি জানিয়ে আসছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টদের দাবি, ভারতীয় আদালতে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া শুরু হলে তারা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় দেওয়া ওই রায়কে চ্যালেঞ্জ করবেন।

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ২০১৩ সালে স্বাক্ষরিত প্রত্যর্পণ চুক্তির নিয়মানুযায়ী, প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত বিষয়গুলো পর্যালোচনার পর প্রয়োজনে তদন্তের জন্য একজন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হতে পারে। তদন্ত শেষে যদি প্রতীয়মান হয় যে অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রাথমিক তথ্যপ্রমাণ নেই, তবে আদালত অভিযুক্তকে খালাসও দিতে পারে। তবে ভারত কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই বিষয়টি নিরসনে আগ্রহী।

ঊষার আলো-এসএ