চুয়াডাঙ্গায় বিদ্যুতস্পৃষ্ট হয়ে এক নারীর মৃত্যু

সর্বশেষ আপডেটঃ
33
0

ঊষার আলো ডেস্ক : চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নাসরিন বেগম (৩০) নামের দুই সন্তানের জননীর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৪ মে) রাত সাড়ে নয়টায় পরিবারের সদস্যরা নাসরিন বেগমকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত নাসরিন বেগম দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা থানার দক্ষিণচাঁদপুর গ্রামের শাপলাপার্কপাড়ার সেলিম হোসেনে স্ত্রী।
জানা যায়, দুই ছেলে ও স্বাামী বিকেল থেকেই দর্শনা বাজারে অবস্থিত তাঁদের হোটেলে ছিলো। ঘটনার সময় নাসরিন বেগম বাড়িতে একাই ছিলেন। মঙ্গলবার (৪ মে) বিকেলে তাদের ঘরের বৈদ্যুতক বাল্বের হোল্ডারে ত্রুটি দেখা দেয়। বাড়িতে কেউ না থাকায় সন্ধ্যায় নাসরিন নিজেই একটি ইন্সু্লেটর (প্লাসটিকের খাপ) ছাড়া লোহার প্লায়ার্স দিয়ে তা মেরামত করতে গেলে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে নাসরিনের স্বামী হোটেল থেকে বাড়িতে এসে নাসরিনকে অন্ধকারে জড় হয়ে বসে থাকতে দেখে। নাসরিনের কোন সাড়া-শব্দ না পাওয়ায় ও তার বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার বিষয়টি বুঝতে পেরে স্থানীয় ব্যক্তিদের সহায়তায় তাকে দ্রুত চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেয়। এসময় সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাসরিনকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত নাসরিনের বড় ছেলে নাসিম (১৫) বলে, মা বাড়িতে একা ছিলো, আমি বাবা ও ছোট ভাই নিজেদের হোটেলে ছিলাম। বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ইফতার বিক্রি শেষে বাবা বাড়িতে যায়। বাবায় প্রথম মাকে ঘড়ের মধ্যে চুপ করে বসে থাকতে দেখে। আমি নিজেই বাড়ির ছোট ছোট ইলেকট্রিক কাজ নিজেই করি। মা সব সময় আমাকে সাবধানে কাজ করতে বলে কিন্তু আমি বাড়িতে না থাকায় মা লাইটের হোল্ডারের তার জুরতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছে।
সেলিম হোসেন বলেন, সন্ধ্যায় হোটেলের বেচা কেনা শেষে আমি বাড়িতে যায়। বাড়ি যেয়ে ঘর অন্ধকার দেখে স্ত্রী নাসরিনকে ডাকা-ডাকি কারি। কোন শাড়া না পেয়ে মোবাইলের টর্চ অন করে ঘরের মধ্যে ঢুকেই দেখি নাসরিন জড় হয়ে বসে আছে। তাঁর হাতের কাছে খাপ ছাড়া প্লায়ার্স পড়ে ছিল। এসময় পরিবারের অন্যান্যরা ঘরে এলে নাসরিন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েছে বুঝতে পেরে দ্রুত তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে আসি। ডাক্তার হাত চোখ দেখে নাসরিন মারা গেছে বলে জানায়।
সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মাহাবুবুর রহমান বলেন, রাত সাড়ে আটটার দিকে পরিবারের সদস্যরা নাসরিনকে জররি বিভাগে নেয়। পরিবারের সদস্যদের থেকে জানতে পারি তিনি বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়েছিলেন। আমি তাঁকে মৃত অবস্থায় পেয়েছি, হাসপাতালে নেওয়ার পূর্বেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহাবুবুর রহমান কাজল বলেন, নাসরিন নামের এক নারীর বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যুর বিষয়ে জানতে পেরে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। ঘরের বৈদ্রুতিক বাল্বের তাঁর ইন্সুলেটর ছাড়া প্লায়ার্স দিয়ে জুড়তে গেলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ না থাকায় ও তাঁদের লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়ায় লাশ দাফনের অনুমতি দেয়া হয়।

(ঊষার আলো-এমএনএস)

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ