সাড়ে ৫ বছরে তিন দফা সময় বেড়েও কাজ শেষ হয়নি

50
0

ধ্রুব আহমদ : প্রকল্প গ্রহণের ৫ বছরেও শেষ হয়নি খুলনার ইনস্টিটিউট অব লাইভস্টক সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি (আইএলএসটি) নির্মান কাজ। গত সাড়ে ৫ বছরে তিন দফা সময় বাড়িয়েও শেষ করেত পারেনি কাজ। নকশা পরিবর্তন, বহুতল ভবন নির্মানে মাটির কার্যক্ষমতা না থাকায় জটিলতাসহ করোনার কারণে অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজই শেষ করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। আগামী বছরের জুন মাস পর্যন্ত আরও এক দফা সময় বেড়েছে এ প্রকল্পের। কর্তৃপক্ষ বলছে, ২০২১ সালের জুন মাস থেকে একাডেমিক কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
জেলা প্রাণি সম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের জুলাই মাসে ইনস্টিটিউট অব লাইভস্টক সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি (আইএলএসটি) একটি প্রকল্প গ্রহণ করে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। প্রাথমিকভাবে খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার শাহপুরে এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণে জায়গা বাছাই করা হয়। ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এ কাজের জন্য তিন একর জায়গা চুড়ান্ত করে। এরপর মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করে প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তর। জমি অধিগ্রহনের কাজ শেষ হয় দুই বছর আগে। যার মূল্য পরিশোধ করা হয় ৭০ লাখ ১৭ হাজার টাকা। গত সাড়ে ৫ বছরের মধ্যে ২০১৯ সালের জুন, ২০২০ সালের জুন এবং সর্বশেষ ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে। এপর্যন্ত ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৮ কোটি ৭৭ লাখ টাকায়।



সংশ্লিষ্ট সূত্রটি জানিয়েছে, প্রকল্পটি ২০১৪ সালের পয়লা জুলাই থেকে শুরুর পর জমি অধিগ্রহণ করে পাইল নির্মাণ শুরু করতেই চলে গেছে চার বছর। প্রতিষ্ঠানটি নির্মানের জন্য নির্ধারিত জায়গা পানিবদ্ধ ছিল। যার ফলে ভবন নির্মাণ করতে পারছিল না ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘদিন শুধু জমি অধিগ্রহণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল এর কার্যক্রম। ২০১৮ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে এটি নির্মানে গতি পায়।
জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা এসএম আউয়াল হক বলেন, নকশা জটিলতায় এ প্রকল্পের কাজ দীর্ঘদিন ঝুলে ছিল। পরবর্তিতে নতুন করে এর কার্যক্রম শুরু করা হয়। নির্ধারিত জায়গাটি পানি বদ্ধ ছিল। সেখানে ৫ তলা ফাউন্ডেশন দিয়ে ভবন তৈরি করা সম্ভব হচ্ছিল না। পরবর্তিতে নকশা ঢাকায় পাঠিয়ে নতুন করে তৈরি করা হয়। এসব কাজ করতে সময়ক্ষেপন হয়েছে বেশি। ইতোমধ্যে গড়ে ৮৬ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। ইন্টারনাল বেড, বিদ্যুৎ সংযোগ, টাইলস বসানো, বাউন্ডারী ওয়াল নির্মান এখনও বাকি রয়েছে। তিনি বলেন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেই একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করা যাবে। আগামী বছর এসএসসি উত্তীর্ণদের নিয়ে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করা যাবে বলে তিনি জানান।
সূত্রটি আরও জানিয়েছে, এ প্রকল্পে রয়েছে চার হাজার ছয় শ’ বর্গমিটার জমির উপর একাডেমিক ও প্রশাসনিক বহুতল ভবন নির্মাণ, চার শ’ বর্গমিটারের উপর ভেটেরিনারি ও ল্যাবরেটরিজ, পনেরশ’ বর্গমিটারের উপর অডিটোরিয়াম, ক্যাফেটরিয়া ও শিক্ষক ডরমেটরি, পাঁচশ’ বর্গ মিটারের উপর চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের ডরমেটরি, চারশ’ বর্গ মিটারের উপর ছোট ও বড় প্রাণীর জন্য ফার্ম, দুশ’ বর্গমিটারের উপর প্রিন্সিপালের বাসভবন, দু’হাজার পাঁচ শ’ ৩০ বর্গ মিটারের উপর ছাত্র এবং ১৫ শ’ ৬০ বর্গ মিটার জমির উপর ছাত্রীদের হোস্টেল নির্মাণ। এছাড়া অবশিষ্ট জায়গায় নির্মাণ করা হবে রাস্তা, ড্রেন, খেলার মাঠ, প্রদর্শনী খামার ইত্যাদি। এছাড়া ভবন নির্মাণের পাশাপাশি লাইভস্টক ডিপ্লোমা কোর্স কারিকুলাম প্রণয়ন, কারিকুলাম অনুযায়ী বই তৈরি করে প্রিন্ট করা এবং কোর্স চালুরও কার্যক্রমও রয়েছে এ প্রকল্পে।
তবে এ প্রতিষ্ঠানটি চালু করতে উপরমহলের তদারকি বৃদ্ধিও দাবি করেছেন বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির মহসচিব শেখ আশরাফ উজ জামান। তিনি বলেন, এটি চালু হলে কৃষক ও খামারীদের রোগমুক্ত, সুস্থ্য গবাদি পশু,হাঁস-মুরগী উৎপাদনে পরামর্শসহ অন্যান্য সেবা প্রদান করা সম্ভব হবে। দেশে খাদ্য নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে। তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নজর বাড়ানোর দাবি করেন।