করোনায় মৃত্যুতে শতক ছাড়ালো খুলনায়

130
0
প্রতিকি ছবি

সচেতনা কমেছে নগরবাসীর 

বিশেষ প্রতিনিধি : করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে খুলনায় মৃতের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে। গত বুধবার করোনায় আক্রান্ত হয়ে নগরীর খালিশপুর শিশু পার্ক এলাকার নজরুল ইসলাম (৬০) মারা যান। ফলে বর্তমানে খুলনা জেলায় মৃতের সংখ্যা দাড়িয়েছে ১০১ জনে।
এদিকে আসছে শীতে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় দফা সংক্রমণ নিয়ে আলোচনা চলছে সবখানে। কিন্তু বিভাগীয় শহর খুলনায় সচেতনতা নেই বললেই চলে। রাস্তা, বাজার-ঘাট, অফিস পাড়ায় সামাজিক দূরত্ব কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।



খুলনা সিভিল সার্জনের অফিস থেকে জানা গেছে, গত ১০ মার্চ থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার খুলনা জেলায় ৬ হাজার ৫৭৯ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৭১০ জন হাসপাতালে ভর্তি হন। আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১০১ জন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৬ জন রোগীর শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। বর্তমানে ১১ জন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
খুলনার করোনা হাসপাতাল (ডায়াবেটিক) থেকে জানা গেছে, সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ৯২ জন রোগী মারা যান। অক্টোবর মাসে গত ২২ দিনে মারা গেছেন আরও ৯ জন। এর মধ্যে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে মারা যান ৫ জন। ৮ অক্টোবর থেকে ১৬ অক্টোবরের কেউ মারা যাননি। এটাই ছিলো গত ৪ মাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময়।
সূত্রটি জানায়, গত ১৬ অক্টোবর করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান দিঘলিয়া উপজেলার সেনহাটি গ্রামের আবদুর রহিম হাওলাদার (৮০), ১৯ অক্টোবর দৌলতপুর থানা এলাকার মানিক তলার মোশাররফ হোসেন এবং ২০ অক্টোবর নগরীর মিয়াপাড়া এলাকার রাজু আহমেদ (৫০)। গত বুধবার মারা গেছেন খালিশপুর শিশু পার্ক এলাকার নজরুল ইসলাম। তিনি ২০ অক্টোবর করোনা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। পরপর ৩ দিন ৩ জন মারা যাওয়ায় কিছুটা আতংকিত অন্য রোগীরা। সরকারিভাবে ২৪ ঘণ্টার ফলাফল প্রকাশ হয়। এজন্য মৃতের তথ্যও একদিন পরে পাওয়া যায়।



এ ব্যাপারে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ মুন্সি রেজা সেকেন্দার বলেন, স্বল্প সামর্থের মধ্যে সর্বোচ্চ সেবা দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসক, নার্স ও সেবাকর্মীরা দিনরাত বিরামহীন পরিশ্রম করেছে।
এদিকে আগামী মাস থেকে ফের করোনার প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ার আশংকা করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে এনিয়ে প্রচার-প্রচারণাও চালানো হচ্ছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা দিন দিন কমছে। নগরীর জনসমাগম হয় এমন স্থানগুলোতে শারিরীক দূরত্ব মানা হয় না। মাস্ক ব্যবহার করা হয় না বেশিরভাগ স্থানে।
খুলনার সিভিল সার্জন ডাঃ সুজাত আহমেদ বলেন, প্রথম দফা সংক্রমণ প্রতিরোধ এবং ভাইরাসমোকাবেলায় চিকিৎসকরা দিনরাত বিরামহীন পরিশ্রম করেছে। যার কারণে করোনা মোকাবেলায় খুলনা জেলা সফল হয়েছে। ভবিষ্যতে যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আমরা প্রস্তুত রয়েছি। তবে সবার আগে মানুষকে সচেতন হতে হবে। প্রতিরোধ করতে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।