গরীবের সবজি এখন ধনীর খাবার টেবিলে

73
0

৫০ টাকার নিচে সবজি নেই

খুলনার কোনো কাঁচাবাজারে

বিশেষ প্রতিনিধি : ‘পুরো মাসে একদিন ইলিশ মাছ কিনেছি। ৫০০ টাকা কেজি হওয়ার পর থেকে দুই সপ্তাহে একবার গরুর গোশত খাই। কম দামি মাছের সঙ্গে শাকসবজি দিয়ে কোনো মতো দিন চালাতাম-কিন্তু এখন সেই উপায়ও নেই। বাজারে ৫০ টাকার নিচে কোনো সবজি নেই।’
সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টায় নগরীর সন্ধ্যা বাজারের ফটকে কথাগুলো বলছিলেন বেসরকারি একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রেজাউল ইসলাম।
সাংবাদিক পরিচয় শুনে তিনি আরও বললেন, করোনার কারণে বেতন ৩০ শতাংশ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখনও কম বেতন পাচ্ছি। কিন্তু চাল-ডাল সবকিছুর দাম বেড়েছে। শেষে সবজির দামও এমন বেড়েছে-যে সবজি খাওয়াও এখন বড় লোকের বিলাশী আয়োজন মনে হচ্ছে।



বাজার ঘুরে দেখা গেল, ব্যাপক হাকডাকের পর ৫ টাকা কমে ৪৫ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রি হচ্ছে। লাল শাক, ঘি কাঞ্চন এবং পালং শাকের দামও ৬০ টাকার ওপরে। মৌসুমী সবজিতে হাত দেওয়ার উপায় নেই। সিম, ফুলকপি, টমেটোর কেজি ১০০ টাকার ওপরে। এর বাইরে পটল প্রতি কেজি ৭০ টাকা, বেগুন ৮০ টাকা, লাউ ৫০ টাকা, পেপে ৬০ টাকা, ঢেড়স কুমড়ো ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। রাত ১০টা বাজলেও অধিকাংশ দোকানে সবজি অর্ধেকও বিক্রি হয়নি। দাম বাড়ার কারণ প্রসঙ্গে পুরাতন ‘গদবাঁধা’ কথা জানালেন বিক্রেতারা। পাইকারি বেশি, তাই খুচরাও বেশি।

সন্ধ্যা বাজারের বাইরে ভ্যানে করে সবজি বিক্রি করেন আরও ৫/৬ জন বিক্রেতা। তাদেরই একজন সিরাজুল ইসলাম। তিনি জানালেন, বিভিন্ন এলাকায় ভ্যানে করে সবজি করেন তিনি। কিন্তু দাম বৃদ্ধির কারণে অর্ধেক সবজিও বিক্রি করতে পারেননি। সেজন্য সন্ধ্যা বাজারের সামনে এসেছেন বিক্রির জন্য।
সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে সঙ্গে কথা বলতে বলতে ভ্যানের সামনে সবজি কিনতে আসলেন বসুপাড়া এলাকার এমদাদ হোসেন মানিক। প্রতিবেদককে তিনি জানান, সন্ধ্যার পর কিছু সময় হাটাহাটি করেন, এরপর সন্ধ্যা বাজার থেকে সবজি কিনে বাসায় ফেরেন। কিন্তু অতিরিক্ত দামের কারণে সন্ধ্যা বাজার থেকে কিছু কিনতে পারিনি। দাম কিছুটা কম হতে পারে এজন্য ভ্যানে খোঁজ নিতে এসেছেন।
তিনি বলেন, কোনো ছাড়াই সবজির দাম বেড়েছে। দাম কমানোর কোনো তৎপরতা কারও নেই। আগে গরিবরা সবজি খেয়ে দিন কাটাতো। কিন্তু গরীবের সবজিও এখন বড় লোকের খাবার টেবিলে চলে যাচ্ছে।