খুলনায় অবাধে চলছে চিংড়িতে অপদ্রব্য পুশ

53
0
Push

ধ্রুব আহমদ: খুলনার ডিপোগুলোতে ব্যাপকহারে বেড়েছে চিংড়িতে অপদ্রব্য পুশ। খামারীদের থেকে চিংড়ি সংগ্রহ করে অসাধু ডিপো ব্যবসায়ীরা এসব চিংড়িতে অপদ্রব্য পুশ অব্যাহত রেখেছে। মাঝে মাঝে প্রশাসনের অভিযান চললেও তা থেমে নেই। তবে ডিপো মালিকরা বলছে, কোম্পানী থেকে লোকসান গোনার ভয়েই ডিপো মালিকরা এ ধরণের উপায় অব্যহত রেখেছে।
চিংড়ি ব্যবসার সাথে জড়িত সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, চিংড়ি চাষীরা খামার বা ঘেরে থেকে মাছ উঠিয়ে ডিপোতে বিক্রি করেন। ডিপো মালিকরা নির্ধারিত বাজার দরে সেগুলো কিনে নেন। চাষীদের থেকে কেজি প্রতি ১শ’ গ্রাম করে বেশি নেয় (পাকি) ডিপো মালিকরা। চাষিরা বাকিতে কখনও এসব চিংড়ি বিক্রি করেন না। ডিপো মালিকরা সেগুলো আবার প্রসেস করে অথবা সাধারণ অবস্থায় চিংড়ি প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানার মালিক বা কোম্পানীতে বিক্রি করেন। ডিপো মালিকরা এসব চিংড়ি কোম্পানীর নিকট বাকিতেই বিক্রি করেন। কোম্পানীর নিকট বছরের পর বছর বড় অংকের টাকা ফেলে রাখতে বাধ্য হন তারা। বাকি এবং বকেয়ার হিসেব থাকায় ডিপো মালিকরা বেপরোয়াভাবে চিংড়িতে অপদ্রব্য পুশ করে যাচ্ছেন। এছাড়াও কোম্পানীগুলোর সাথে চুক্তি থাকায় কিছু মৌসুমী ব্যবসায়ী চিংড়িতে পুশ কওে লাভবান হতে চাচ্ছে।




সূত্রটি জানিয়েছে, বকেয়ার সাথে সাথে কিছু কিছু কোম্পানী ওজন পরিমান যন্ত্রে কারচুপি করে থাকে। সেখানে প্রতি কেজিতে ৫০ থেকে ১শ’ গ্রাম করে বেশি আদায় করে। যার ফলে চাষির কাছ থেকে বেশি নিয়েও ডিপো মালিকরা মালের পরিমাপে সমন্বয় করতে পারেন না। এ সমস্যা এড়াতেও ব্যবসায়ীরা পুশ কার্যক্রম অব্যহত রেখেছে। এসব অপদ্রব্য পুশ করা চিংড়ি হাতে গোনা কয়েকটি কোম্পানী ক্রয় করে থাকে।
চলতি মাসের গেল ৮ তারিখে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার খর্ণিয়া বাজার এলাকার দু’টি চিংড়ি ডিপোতে অভিযান চালিয়ে র‌্যাব ৫শ’ কেজি অপদ্রব্য পুশ করা চিংড়ি নষ্ট করেছে। এসময় ডিপো মালিকদের জরিমানাও করা হয়।
ডুমুরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সঞ্জীব কুমার দাশ বলেন, আমরা বিভিন্ন সময় অভিযান পরিচালনা করি। তবে গ্রামাঞ্চলে অভিযান চালালেও অনেক সময় টের পেয়ে ডিপো মালিকরা সেগুলো সরিয়ে ফেলে। ফলে হাতেনাতে ধরা সম্ভব হয় না।
সূত্রটি আরও জানিয়েছে, খুলনার নতুন বাজার ও রূপসা উপজেলা মিলে প্রায় ৫শ’ ডিপো রয়েছে। প্রায় প্রতিটি ডিপোতেই গলদা আর বাগদা চিংড়িতে অপদ্রব্য পুশ করা হয়। অপদ্রব্যের মধ্যে রয়েছে ফিটকিরির পানি, ভাতের মাড়, সাগু, এরারুট, লোহা বা সীসার গুলি, মার্বেল কুচি, ম্যাজিক বল, জেলিসহ বিভিন্ন পদার্থ। যেগুলো মানবদেহের জন্যও ক্ষতিকর।
খুলনার মৎস্য পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে অন্ততঃ ১০০টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। প্রায় ২ হাজার কেজি চিংড়ি নষ্ট করা হয়েছে। জরিমানাও করা হয়েছে ১০ লাখ টাকার বেশি। এতকিছুর পরও থেমে নেই অপদ্রব্য পুশ। যে কারণে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম অর্থনৈতিক খাত চিংড়িশিল্প হুমকির মুখে পড়েছে। গলদা ও বাগদা চিংড়ি দিনদিন বিদেশের বাজার হারাচ্ছে।




রূপসা চিংড়ি বনিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু আহাদ হাফিজ বলেন, মৌসুমী ব্যবসায়ীরাই এ কাজ করছে। খোঁজ নিয়ে দেখেন যারা অভিযানে ধরা পড়ছে তারা কেউ স্থায়ী ব্যবসায়ী কিনা। কোম্পানী গুলো এসব চিংড়ি নেয়া বন্ধ করলেই তো অপদ্রব্য পুশ বন্ধ হয়। সেটাতো তারা করছে না।
খুলনা কার্যালয়ের মৎস্য পরিদর্শক ও মান নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা লিপটন সরদার বলেন, বিদেশের বাজার অব্যহত রাখতে হলে মানসম্মত চিংড়ি রপ্তানীর বিকল্প নেই। পুশ বিরোধী আমাদের নিয়মিত অভিযান চলছে। আগামীতে কেউ পুশ করা চিংড়িসহ ধরা পড়লে তাকে জরিমানার পাশাপাশি কারাদন্ডও দেওয়া হবে।
বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্ট অ্যাসোসিয়শনের সহ-সভাপতি শেখ মো: আব্দুল বাকি বলেন, পুশ প্রতিরোধে আমাদের আলাদা টিম কাজ করে। এ ধরনের কর্মকান্ড ধরা পড়লেই মৎস্য মান নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তাদের খবর দেয়া হয়। পাশাপাশি এর আর্থিক ক্ষতির দিকগুলোও তুলে ধরে সচেতনতাও করা হয়।