‘জাতীয় শহিদ সেনা দিবস’ উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার মহাখালীর রাওয়া (রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন) হেলমেট হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কথা বলেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের সতর্ক করে দিচ্ছি, পরে বলবেন যে-আমি সতর্ক করিনি। আপনারা যদি নিজেদের মধ্যে ভেদাভেদ ভুলে একসঙ্গে কাজ না করতে পারেন, নিজেরা যদি কাদা ছোড়াছুড়ি করেন, মারামারি-কাটাকাটি করেন, এই দেশ এবং জাতির স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হবে। আমি আজকে বলে দিলাম। নইলে আপনারা বলবেন যে আমি আপনাদের সতর্ক করিনি। আমি সতর্ক করে দিচ্ছি আপনাদের। এই দেশ আমাদের সবার। আমরা সবাই সুখে-শান্তিতে থাকতে চাই। আমরা চাই না হানাহানি, কাটাকাটি-মারামারি।’
সেনাপ্রধানের এসব কথার ওপর ভিত্তি করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সাবেক প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান।
মঙ্গলবার রাতে দেওয়া ফেসবুকে স্ট্যাটাসে সাবেক প্রেস সচিব লিখেছেন, জেনারেল ওয়াকার কথা মোটামুটি ভালোই বলেছেন। তবে তিনি সেনাপ্রধান। তার নিছক ভালো কথার কোনো দামই নেই, যদি তা ‘ব্যাক্ড বাই অ্যাকশন’ না হয়। নৈরাজ্য দূর করে দ্রুত ‘অর্ডার’ বা স্বাভাবিক অবস্থা ফেরাতে এবং জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠায় ড. ইউনূস সরকারকে আরও সহায়তা করুন।
‘প্রয়োজনীয় সংস্কার ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে তাদেরকে সবল, সক্রিয় ও সফল করুন’ উল্লেখ করে তিনি আরও লেখেন, জাতির এ ক্রান্তিলগ্নে সেনাপ্রধানকে পপুলিস্ট হবার চাইতে জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় অটল দৃঢ়তা প্রদর্শন করতে হবে। তাতে তাৎক্ষণিকভাবে সমালোচনা হতে পারে; সংকীর্ণরা নিন্দাবাদ ও কুৎসা রটাতে পারে কিন্তু দিন শেষে নন্দিত হবে সঠিক পথে থাকা ভূমিকাই।
মারুফ কামাল খান লেখেন, ঘাতক ফ্যাসিবাদী রেজিম অপসারণে এবং আরও প্রাণহানি এড়াতে সশস্ত্রবাহিনীর চূড়ান্ত অবস্থান সঠিক ছিল। ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান রুখতেও তাদেরকে অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করতে হবে। অবস্থান নিতে হবে জনগণের পক্ষে। ইউ হ্যাভ টু স্ট্যান্ড অন দা রাইট সাইড অব হিস্টোরি।
ঊষার আলো-এসএ