UsharAlo logo
, |

লটারিতে মিলল নতুন ঠিকানা, ঝুপড়িঘর থেকে ফ্ল্যাটে উঠছে ৭৩০ পরিবার

ঊষার আলো রিপোর্ট
আগস্ট ৩, ২০২৬ ৪:২২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

শারীরিক প্রতিবন্ধী পারভীন আক্তারের আজ আনন্দের সীমা নেই। এতদিন পরিবার নিয়ে তিনি থাকতেন পলিথিনে মোড়ানো বস্তির মতো ঝুপড়িতে। রিকশাচালক স্বামী মনিরুল আলম ও দুই সন্তান নিয়ে দীর্ঘদিনের মানবেতর জীবনযাপনের শিগগিরই অবসান ঘটতে যাচ্ছে। তিনি সপরিবারে উঠতে যাচ্ছেন সব সুবিধা সংবলিত বহুতল আবাসনের একটি ফ্ল্যাটে। তাদের নতুন ঠিকানা হচ্ছে কক্সবাজারের খুরুশকুলে জলবায়ু উদ্বাস্তু পুনর্বাসন প্রকল্পের একটি আধুনিক আবাসনে।

রোববার খুরুশকুলে জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় সবার সামনে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ায় উদ্বাস্তুদের জন্য ফ্ল্যাট বরাদ্দের লটারি অনুষ্ঠিত হয়। এর মাধ্যমে ওই প্রকল্পে মনিরুল-পারভীনের মতো ৭৩০টি পরিবারের আবাসন বরাদ্দ হয়েছে।

লটারিতে নিজের ফ্ল্যাট বরাদ্দ নিশ্চিত হওয়ার পর আবেগাপ্লুত পারভীন বলেন, ‘মনে হচ্ছে আমি এই মুহূর্তে পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ।’

একই আনন্দ জেলে রেজাউল করিমের পরিবারেও। তিনি বলেন, ‘কোনোদিন কল্পনাও করিনি বহুতল ভবনে বসবাসের সুযোগ পাব। তালিকায় নিজের নাম দেখে প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারিনি।’

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এবং কক্সবাজার বিমানবন্দর সম্প্রসারণে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর নিরাপদ ও টেকসই আবাসন নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ১ হাজার ৪৫৭ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ২০২০ সালে শুরু এই প্রকল্পের নির্মাণকাজ আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, মোট ৪ হাজার ১২৮ বাস্তুচ্যুত পরিবারকে এখানে পুনর্বাসন করা হবে। এ লক্ষ্যে ১২৯টি পাঁচতলা ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ১২২টির নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। আগেই ১৯টি ভবনে ৬০০ পরিবার পুনর্বাসিত হয়েছে। এবার আরও ৭৩০টি পরিবারের জন্য ভবন ও ফ্ল্যাট নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। বাকিদের পর্যায়ক্রমে একই প্রক্রিয়ায় পুনর্বাসন করা হবে।

এই প্রকল্পে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। মসজিদ, মন্দির, সাইক্লোন শেল্টার ও মার্কেটও নির্মাণ করা হচ্ছে।

প্রকল্প পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মিরাজুল ইসলাম বলেন, গুণগত মান বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রকল্পটি সম্পন্ন করতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করছি। বাস্তুচ্যুত মানুষকে আন্তর্জাতিকমানের সুপরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধব আবাসন উপহার দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। এটি শুধু একটি আবাসন প্রকল্প নয়, তাদের জীবনে স্থায়িত্ব ও মর্যাদা ফিরিয়ে আনার একটি মানবিক উদ্যোগও।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, রোববার ৭৩০ পরিবারের জন্য ভবন ও ফ্ল্যাট নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব পরিবার এখন নিরাপদ ও উন্নত জীবনের নিশ্চয়তা পাবে। জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর সমন্বিতভাবে তাদের পুনর্বাসনে কাজ করছে।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান বলেন, প্রকল্প এলাকায় বাসিন্দাদের জন্য নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সব পক্ষের সহযোগিতায় এ এলাকাকে একটি নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল আবাসন হিসাবে গড়ে তোলা হবে।

লটারি অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন-অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ইমরান হোসাইন সজীব, ইউএনও তাহমিনা আক্তার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মশিউর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

ঊষার আলো-এসএ