UsharAlo logo
, |

বাইডেনের চেয়েও নিচে নামল ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা

ঊষার আলো ডেস্ক
সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ১:১২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি জনসমর্থন তার  রাজনৈতিক জীবনের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স/ইপসোস জরিপে উঠে আসা তথ্যে দেখা গেছে, ট্রাম্পের কাজের প্রতি অনুমোদন জানিয়েছেন মাত্র ৩২ শতাংশ মার্কিন নাগরিক। বিশেষ করে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের ভূমিকা এবং ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে।

চার দিন ধরে চালানো এই জরিপ শেষ হয় গতকাল রোববার (২১সেপ্টেস্বর)। এই সময়ের মধ্যে ট্রাম্প তিনটি বড় সংবাদমাধ্যমকে হোয়াইট হাউস থেকে বের করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। একই সময়ে ওয়াশিংটনের ঐতিহাসিক কেনেডি সেন্টার থেকে নিজের নাম সরানো হলে ভবনটি ভেঙে ফেলার কথাও বলেন তিনি।

গত সপ্তাহের জরিপে ট্রাম্পের অনুমোদন ছিল ৩৫ শতাংশ। অর্থাৎ এক সপ্তাহের ব্যবধানে তা আরও ৩ শতাংশীয় পয়েন্ট কমেছে। নিজ দলের রিপাবলিকানদের মধ্যেও তার প্রতি সমর্থন ৮২ শতাংশ থেকে কমে ৭৩ শতাংশে নেমেছে।

জীবনযাত্রার ব্যয়েই বড় অসন্তোষ

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয়বারের মতো হোয়াইট হাউসে ফেরার সময় ট্রাম্প মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও বিদেশি যুদ্ধ বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তার অনুমোদন ছিল ৪৭ শতাংশ।

কিন্তু নতুন জরিপে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের পদক্ষেপকে সমর্থন করেছেন মাত্র ১৭ শতাংশ মানুষ। যুক্তরাষ্ট্রের ভোটাররা বলছেন, আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

রিপাবলিকানদের মধ্যেও এ নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে। প্রথমবারের মতো ট্রাম্পের জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলার পদ্ধতি নিয়ে অসন্তুষ্ট রিপাবলিকানদের সংখ্যা সন্তুষ্টদের ছাড়িয়ে গেছে। অসন্তুষ্ট ৫১ শতাংশ, বিপরীতে সন্তুষ্ট ৪৪ শতাংশ।

ইরান যুদ্ধের প্রভাব

ফেব্রুয়ারিতে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রল ও ডিজেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাস সরবরাহের একটি বড় অংশ বিশ্ববাজার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ইরানে মার্কিন হামলাকে সমর্থন করেছেন মাত্র ৩৪ শতাংশ জরিপে অংশ নেওয়া মানুষ। অন্যদিকে ৮২ শতাংশ মনে করেন, এই সংঘাত দীর্ঘ সময় ধরে চলতে পারে। এর মধ্যে ডেমোক্র্যাটদের প্রায় ৯০ শতাংশ এবং রিপাবলিকানদের তিন-চতুর্থাংশ এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

ট্রাম্প শুরুতে বলেছিলেন, যুদ্ধ কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হবে এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঠেকাতে দেশটিতে হামলা প্রয়োজন। চলতি মাসের শুরুতে তিনি নির্বাচনের পরপরই যুদ্ধ শেষ করার প্রতিশ্রুতিও দেন। তবে ইরান এখনো পিছু হটার কোনো লক্ষণ দেখায়নি। বরং তেহরান ও তার মিত্ররা তেলের বাজারে আরও বিঘ্ন ঘটানোর হুমকি দিয়েছে।

বাইডেনের চেয়েও নিচে ট্রাম্পের অনুমোদন

নতুন জরিপে ট্রাম্পের অনুমোদনের হার তার পূর্বসূরি ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের পুরো মেয়াদের সর্বনিম্ন হারকেও ছাড়িয়ে নিচে নেমেছে। বাইডেনের সর্বনিম্ন অনুমোদন ছিল ৩৫ শতাংশ, যা ২০২৪ সালের অক্টোবরের শেষ দিকে দেখা গিয়েছিল।

তবে বিভিন্ন ইস্যুতে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন একরকম নয়। অভিবাসন নীতিতে নিজ দলের ৭৯ শতাংশ রিপাবলিকান তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। কিন্তু সব মার্কিন নাগরিককে হিসাবে নিলে এ নীতির প্রতি সমর্থন ৩৬ শতাংশ এবং বিরোধিতা ৫৫ শতাংশ।

অপরাধ দমনে ট্রাম্পের ভূমিকা অনুমোদন করেছেন ৩৫ শতাংশ মানুষ, আর ৫০ শতাংশ জানিয়েছেন তারা এতে সন্তুষ্ট নন।

মধ্যবর্তী নির্বাচনেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত

আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ আগামী দুই বছরের জন্য নির্ধারিত হবে।

রয়টার্স/ইপসোস জরিপে নিবন্ধিত ভোটারদের মধ্যে ৪৩ শতাংশ বলেছেন, তারা ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের সমর্থন করবেন। রিপাবলিকানদের পক্ষে বলেছেন ৩৫ শতাংশ। চলতি বছর রয়টার্স/ইপসোসের জরিপে ডেমোক্র্যাটদের এটি সবচেয়ে বড় ব্যবধান।

তবে এই ফলাফল জাতীয় পর্যায়ের সামগ্রিক জনমত তুলে ধরে। যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারিত হয় অঙ্গরাজ্য ও নির্বাচনী এলাকার আলাদা আলাদা প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে। ফলে জাতীয় জরিপের ফল সরাসরি প্রতিটি আসনের পরিস্থিতি তুলে ধরে না।

জরিপটি যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ১ হাজার ২৭৭ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে অনলাইনে পরিচালিত হয়েছে। এর ত্রুটির সীমা ৩ শতাংশীয় পয়েন্ট।

ঊষার আলো-এসএ