UsharAlo logo
, |

রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে ট্রাম্পের নতুন সিদ্ধান্ত

ঊষার আলো ডেস্ক
অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ৩:৫৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

রাশিয়ার রপ্তানি সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক শিথিলের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আরও সময় প্রয়োজন।

স্থানীয় সময় শনিবার (১৭ অক্টোবর) রুবিও বলেন, রাশিয়ার ওপর যেসব নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক ট্রাম্প শিথিল করেছেন, সেগুলোর অর্থনৈতিক প্রভাব মূল্যায়নের জন্য তিনি ৬০ দিন সময় নেবেন।

ফ্লোরিডার পাম বিচে নিজের মালিকানাধীন মার-এ-লাগো ক্লাবে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আপনারা অনেকেই এখনো জানেন না আমার সিদ্ধান্ত কী। তবে আমরা বিষয়টি ঠিক করে ফেলব এবং আপনারাও তা জানতে পারবেন।’

নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে রাশিয়ার ওপর বিধিনিষেধ শিথিল করলেন ট্রাম্প। এর মধ্যেই উচ্চ জ্বালানি মূল্যের কারণে ট্রাম্প চাপের মুখে রয়েছেন, বিশেষ করে ইরান যুদ্ধের ফলে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।

শুক্রবার ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে ‘গ্রাহাম অ্যাক্টের’ আওতায় থাকা গুরুত্বপূর্ণ নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক শিথিল করেন। অথচ ইউক্রেনে যুদ্ধের কারণে মস্কোর ওপর চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে আইনপ্রণেতাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে গত মাসেই তিনি এই আইনে স্বাক্ষর করেছিলেন।

রুশ পণ্যের ওপর শুল্ক এবং রাশিয়া থেকে তেল ও গ্যাস ক্রয়কারী দেশগুলোর ওপর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কার্যকরের কথা ছিল। শুক্রবারের আদেশে এই শিথিলতা কতদিন স্থায়ী হবে তা উল্লেখ করা না হলেও রুবিও জানিয়েছেন, ট্রাম্প ৬০ দিনের পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

উজবেকিস্তান সফরের উদ্দেশ্যে বিমানে ওঠার আগে রুবিও সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ৬০ দিনের এই সময়টি নিতে চেয়েছেন, যাতে নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক আরোপ করলে বিশ্ব অর্থনীতি এবং এমনকি মার্কিন অর্থনীতির ওপর কী প্রভাব পড়বে, তা বিশ্লেষণ করা যায়।’

ডিজেল সরবরাহ

রুবিও রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি চুক্তির পক্ষেও সাফাই গেয়েছেন। এই চুক্তির লক্ষ্য হলো বিশ্ববাজারে ডিজেল সরবরাহ বৃদ্ধি করা, যাতে জ্বালানির উচ্চমূল্য কিছুটা সহনীয় পর্যায়ে আনা যায়। কারণ ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাত এবং জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নের কারণে তেলের দাম বেড়ে গেছে।

ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই চুক্তির আওতায় রাশিয়া প্রাথমিকভাবে ৩ লাখ টনেরও বেশি ডিজেল যুক্তরাষ্ট্রে সরবরাহ করবে। এরপর নভেম্বর মাস ও তার পরবর্তী সময়ে আরও চালান আসবে।

রুবিও বলেন, ‘এই ডিজেল কোনো না কোনোভাবে বিক্রি হবেই। মূল পার্থক্য হলো, এর কতটা অংশ যুক্তরাষ্ট্র পাবে।’

রুবিও আরও বলেন, ডিজেল সংক্রান্ত এই চুক্তি এবং নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার বিষয়টি মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেনের সংঘাত সামলানোর জটিলতাকে তুলে ধরে—যে সংঘাতগুলো বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে ব্যাহত করেছে।

ঊষার আলো-এসএ