UsharAlo logo
, |

ময়মনসিংহে ভূয়া এমপি গ্রেফতার

ঊষার আলো
জুন ২৩, ২০২১ ১১:০৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ঊষার আলো ডেস্ক : ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ভূয়া এমপিকে গ্রেফতার করেছে। চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে কথিত এমপি জহির উদ্দিন বাবুল (৫৫) ও সহযোগী গুলশান আরা খানম লাভলীকে (৪৫) আটক করে। ঢাকার ফকিরাপুলের হোটেল সেল্টারে গত ৩ বছর ধরে অবস্থান করে প্রতারণা করে যাচ্ছিলেন জহির উদ্দিন। নিজেকে এমপি পরিচয় দিয়ে প্রতারণা ও পুলিশের কাছে তদবির করতেন।
সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়ার) আসনের এমপি ও প্রধানমন্ত্রীর প্রয়াত রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমামের ছেলে তানভীর ইমাম পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তাদের নানা তদবির করতেন বাবুল। মোবাইল ফোনে বলতেন, আমি তানভীর ইমাম। সিরাজগঞ্জ-৪ উল্লাপাড়ার এমপি। আমি এইচ টি ইমামের ছেলে। গুলশান আরা খানম আমার বোন হয়। আপনারা উনার কাজটা করে দিলে খুব খুশি হব। আর তাতে পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা হতেন বিভ্রান্ত।
এছাড়া গুলশান আরা চাকরির প্রলোভনে টাকা হাতিয়ে নেওয়া ও খালি চেক নেয়ার পর তাতে টাকার অঙ্ক বসিয়ে টাকা উদ্ধারের জন্য অভিযোগ নিয়ে যেতেন বিভিন্ন দফতরে।
বুধবার (২৩ জুন) রাতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি শাহ কামাল আকন্দ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে সকালে ঢাকার ফকিরাপুল থেকে জহির উদ্দিন বাবুল ও ময়মনসিংহের সেনবাড়ি এলাকা থেকে গুলশান আরা খানমকে আটক করা হয়।
তিনি বলেন, প্রতারক শুলশান আরা খানম মাঠপর্যায়ে সহজ-সরল নারীদের ফাঁদে ফেলে তাদের আত্মীয়স্বজন ও ছেলে-মেয়েদের চাকরি দেওয়ার কথা বলে ওই কথিত এমপির সঙ্গে কথা বলিয়ে দিতেন। এতে সাধারণ মানুষ চাকরির আশায় শুলশান আরা খানমকে টাকার অঙ্ক ছাড়াই চেক প্রদান করে। পরে গুলশান আরা চেকে ইচ্ছেমতো টাকার অঙ্ক বসিয়ে উত্তোলনের জন্য সরকারি বিভিন্ন অফিসে অভিযোগ করেন। আর মো. জহির উদ্দিন বাবুল এমপি পরিচয়ে ফোন দিয়ে তদবির করতেন।
ওসি আরও বলেন, তাদের কাছ থেকে ৮টি চেক উদ্ধার করা হয়। খালি চেক নেয়া হলেও তাতে মোট টাকা ৪৪ লাখ ৩৩ হাজার টাকা উল্লেখ রয়েছে। এরা প্রতারণা করে ছয়জনের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে সাড়ে ৯ লাখ টাকা।
প্রতারণার শিকার নজরুল ইসলাম জানান, তার ভাইয়ের ছেলে ও মেয়েকে সেনাবাহিনীর সিভিলে চাকরি দেওয়ার কথা বলে গত জানুয়ারিতে ১৭ লাখ টাকা চুক্তি করে। এরপর ৬ লাখ টাকা নগদ এবং ৫টি চেক নেয়। কিন্তু চাকরি ও টাকা ফেরত না দিয়ে ব্ল্যাঙ্ক চেকে ২০ লাখ টাকা বসিয়ে উকিল নোকিশ পাঠায়। পুলিশের কাছে অভিযোগ করলে সেটি তদন্ত করতে গিয়ে চক্রটিকে আটক করে।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাঃ আহমার উজ্জামান বলেন, এই প্রতারক চক্রটি মূলত নারীদের টার্গেট করে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে চেক নিতো। পরে সেটি তাদের পাওনা টাকা বলে দাবি করে এবং না দিলে পুলিশের সহযোগিতা চাইতেন।
তিনি বলেন,এমপি পরিচয়ে প্রতারক বাবুল আমাদের কাছে ফোন দিয়ে তদবির করায় সন্দেহ হয়। পরে অনুসন্ধান করে তিনি ভুয়া নিশ্চিত হলে আটক করা হয়।
(ঊষার আলো-এমএনএস)