UsharAlo logo
, |

সালিসে এনে অন্যের প্রেমিকাকে নিজেই বিয়ে করলেন বিবাহিত চেয়ারম্যান

ঊষার আলো
জুন ২৭, ২০২১ ৯:০৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ঊষার আলো রিপোর্ট : প্রেম করে ঘরছাড়া কিশোরীকে (১৪) সালিসে ডেকে এনে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নিজেই তাকে বিয়ে করেছে। ওই চেয়ারম্যান বিবাহিত। তাঁর ২ ছেলে ও মেয়ে রয়েছে। ছেলেরও বিয়ে হয়েছে। গত শুক্রবার পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কনকদিয়া ইউনিয়নে এ ঘটনাটি ঘটেছে।
সালিসে এমন ঘটনা ঘটার পর যুবক প্রেমিক আত্মহত্যার চেষ্টা করে। শুক্রবার রাত থেকে ওই যুবক বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ইউপি চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদার গত ২১ জুন অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এর আগেও তিনি চেয়ারম্যান ছিলেন।
জানা যায়, ওই কিশোরীর সঙ্গে একই ইউনিয়নের যুবকের প্রেমের সম্পর্ক হয়। কিন্তু ৩ মাস আগে কিশোরীকে উপজেলার অন্য ইউনিয়নের ১ যুবকের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয় বলে তার পরিবার দাবি করেন। তারা দাবি করেন যে শরিয়ত অনুযায়ী বিয়ে হয়েছে, কিন্তু বিয়ের কাবিন হয়নি বলে জানা যায়।
জানা গেছে, বিয়ের ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যে মেয়েটি তার কথিত স্বামীকে তালাক দিয়ে প্রেমিক যুবকের সঙ্গে ‘সংসার’ শুরু করেন।
মেয়েটির বাবার দাবি, প্রেমসংক্রান্ত বিষয়ে বিরোধের কারণে মেয়ের বিয়ে ভেঙে গেছে।
ওই ছেলের বড় ভাই দাবি করেছেন, তালাক হওয়ার পর ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী তাঁর ভাইয়ের সঙ্গে মেয়েটির বিয়ে হয়েছে। কনের বয়স কম হওয়ায় বিয়ের কাবিন হয়নি। কয়েক দিন আগে মেয়েটি তার বাবার বাড়ি যায়। তখন মেয়েটির বাবা বিয়ে মেনে নিতে অস্বীকৃতি করেন। এ নিয়ে টানাপড়েন শুরু হয়। এক পর্যায়ে ঘটনাটি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদারকে জানানো হয়। গত শুক্রবার ২ পক্ষকে চেয়ারম্যান তাঁর আয়লা বাজারের বাসায় যেতে বলে। সেখানে আলোচনার এক পর্যায়ে চেয়ারম্যান নিজেই মেয়েটিকে বিয়ে করার আগ্রহ প্রকাশ করে।
কিশোরীর প্রেমিক বলেন, সালিস বৈঠকে ডেকে নিয়ে পছন্দ হয়ে যাওয়ায় চেয়ারম্যান তাঁর কথিত স্ত্রীকে জোর করে বিয়ে করেছে। ওই যুবক বলে, ‘আমার স্ত্রীকে আমার কাছে ফিরিয়ে দিন। ওকে ছাড়া আমি বাঁচব না।’
গতকাল শনিবার বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা পি কে সাহা বলেন, ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করা যুবক বর্তমানে সুস্থ।
চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ কয়েক ব্যক্তি বলেছে, শুক্রবার জুমার পর তাঁর বাসায় ৫ লাখ টাকা কাবিনে মেয়েটিকে বিয়ে করেছে চেয়ারম্যান। এ সময়ে বাসায় তাঁর স্ত্রী ও সন্তানরা ও ছিল না। স্থানীয় আবু সাদেক নামের ১ ব্যক্তি বিয়ে পড়িয়েছে। বিয়ে রেজিস্ট্রি করে আইউব নামের স্থানীয় কাজি। বিয়ের কাবিনে কনের জন্ম তারিখ উল্লেখ করা হয় ১১ এপ্রিল ২০০৩। অর্থাৎ তার বয়স ১৮ বছর ২ মাস ১৫ দিন। মেয়েটি কনকদিয়া বালিকা বিদ্যালয়ে ৮ম শ্রেণিতে পড়াশোনা করত। স্কুলে দেওয়া জন্ম সনদে তার জন্ম তারিখ ১১ এপ্রিল ২০০৭। সে অনুযায়ী তার বয়স ১৪ বছর ২ মাস ১৫ দিন।
অবশ্য মেয়েটির বাবা কাবিনে উল্লেখ করা বয়সই তাঁর মেয়ের সঠিক বয়স বলে দাবি করেন।
শাহিন হাওলাদারের প্রথম স্ত্রী ও সন্তানরা পটুয়াখালী শহরে বসবাস করে।
দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান সাংবাদিকদের বলেছেন, মেয়েটিকে দেখে তাঁর পছন্দ হয়েছে। তাই তিনি বিয়ে করেছে। তা ছাড়া তাঁর প্রথম স্ত্রী থাকলেও আবার বিয়ের প্রয়োজন ছিল।
ইউপি চেয়ারম্যান কিশোরীকে বিয়ে করেছে এমন খবর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানার পর তিনি মেয়েটির জন্ম সনদ এবং যে স্কুলে লেখাপড়া করত ওই স্কুলের কাগজপত্র পর্যালোচনা শুরু করেছে।
ইউএনও মো. জাকির হোসেন সাংবাদিকদের বলেছেন, চেয়ারম্যানের দ্বিতীয় স্ত্রীর কাগজপত্র পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সে কিশোরী হলে অবশ্যই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

(ঊষার আলো- এম.এইচ)