ঊষার আলো রিপোর্ট : গত ২৪ ঘন্টায় খুলনার ২ হাসপাতালে করোনায় আরও ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ১৩০ শয্যার খুলনা করোনা ডেডিকেট হাসপাতালে ৬ জন এবং গাজী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৫ জন মারা গেছে। তবে, এসময়ের মধ্যে খুলনা জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটে কোনো রোগীর মৃত্যু হয়নি।
আজ ২৮ জুন সোমবার সকালে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের মুখপাত্ররা এ তথ্য তথ্য নিশ্চিত করেন।
খুলনা করোনা ডেডিকেট হাসপাতালে মৃত ব্যক্তিরা হলেন খুলনার মৌলভীপাড়ার ফেরদৌসী ইসলাম (৫৮) ও নাইলী (৬৭), খুলনার খানজাহান আলী থানা এলাকার আকলিমা (৩৫), খুলনার ডুমুরিয়ার আম্বিয়া (৩৫), সাতক্ষীরার তালার মো. সিফাতুল্লাহ্ (৮৫) এবং বাগেরহাটের মংলার প্রদীপ কুমার (৬৩)।
খুলনা করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালের ফোকাল পার্সন ডা. সুহাস রঞ্জন হালদার বলেন, খুলনা করোনা ডেডিকেট হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। তারা হাসপাতালের রেড জোনে চিকিৎসাধীন ছিল। হাসপাতালটিতে সোমবার সকাল পর্যন্ত ১৬৯ জন চিকিৎসাধীন রয়েছে। এরমধ্যে রেড জোনে ৯৯ জন, ইয়ালো জোনে ২৫ জন, আইসিইউতে ১৯ জন এবং এইচডিইউতে ২০ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ভর্তি হয়েছে ৪১জন। আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৩৪ জন।
অন্যদিকে, খুলনার গাজী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার সকালে হাসপাতালের স্বত্ত্বাধিকারী ডা. গাজী মিজানুর রহমান এ তথ্য জানিয়েছে।
তিনি বলেছেন, সোমবার সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত তার হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ৯৮ জন রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন। গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছে ২৬ জন আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১৩ জন। আইসিইউতে রয়েছে ৪ জন আর এইচডিইউতে আছে ৯ জন।
মৃত ব্যক্তিরা হলেন খুলনার হরিণটানা এলাকার এমএ হাশেম (৬৮), খুলনার বটিয়াঘাটার জেবুন্নেসা (৬৭), বাগেরহাট সদরের লাউপোল এলাকার নারায়ন (৭১), গোপালগঞ্জের আড়পাড়ার সুফিয়া বেগম (৪৫), নড়াইল লোহাগড়ার কতাকল এলাকার আব্দুর রহমান (৬০)।
খুলনা জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটের মুখপাত্র ডা. কাজী আবু রাশেদ বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে কোনো রোগীর মৃত্যু হয়নি। চিকিৎসাধীন রয়েছে ৬৭ জন, তার মধ্যে ৩৩ জন পুরুষ ও ৩৪ জন মহিলা। গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছে আরও ৯ জন।
অপরদিকে, খুলনা মেডিক্যাল কলেজের উপাধ্যক্ষ ডা. মেহেদী নেওয়াজ বলেছেন, ২৭ জুন রোববার রাতে খুলনা মেডিক্যাল কলেজের পিসিআর ল্যাবে ১৮৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। যা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার প্রায় ৪০ শতাংশ। এর আগে শনিবার খুমেক ল্যাবে শনাক্তের হার ছিল ৫০ শতাংশ, শুক্রবার ৩৭.৯০ শতাংশ, বৃহস্পতিবার ৫১.৫৫ শতাংশ, বুধবার ৩৪ শতাংশ, মঙ্গলবার ৪০ শতাংশ, আর সোমবার ছিল ৩১ শতাংশ।
তিনি আরও বলেছেন, খুমেকের পিসিআর মেশিনে রোববার মোট ৪৬৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ১৮৪ জনের করোনা রিপোর্ট পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। যার মধ্যে খুলনার ৩৩০ জনের নমুনা পরীক্ষায় নতুন করে ১৩২ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া বাগেরহাটে ৪০ জন, যশোরে ৩ জন, সাতক্ষীরায় ৩ জন, নড়াইলের ১ জন, পিরোজপুরের ১ জন, গোপালগঞ্জ ৩ জন ও ঢাকার ১ জনের করোনা শনাক্ত হয়।
(ঊষার আলো- এম.এইচ)
