কয়েলের আগুনে পুড়ে থেমে গেল প্রতিবন্ধী বাবরের জীবনযুদ্ধ!

সর্বশেষ আপডেটঃ
41
0
জীবন যুদ্ধে কয়েলের আগুনের কাছে হার মেনে প্রতিবন্ধী বাবরের সঙ্গে বাবরের স্মৃতি ঘেরা ঘরটিও পুড়ে ছাই.....ঊষার আলো

ঊষার আলো রিপোর্ট : নড়াইলের লোহাগড়ায় মশার কয়েলের আগুনে কেড়ে নিয়েছে শারীরিক প্রতিবন্ধী মোঃ বাবর আলীর (৪০) জীবন। শোবার ঘরেই আগুনে দগ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করছেন তিনি। জন্মগতভাবেই বাবর আলী ছিলেন শারীরিক প্রতিবন্ধী। তার ডান পা ও ডান হাত ছিল অচল। কোন রকমে কথা বলতে পারতেন।
১৯ মার্চ শুক্রবার ভোর ৪টার দিকে লোহাগড়া পৌর এলাকার রামপুর গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। তার এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে হতবাক ও বাকরুদ্ধ পরিবারের সদস্যসহ এলাকাবাসি সকলেই।
পারিবারিক সূত্র যানা যায়, লোহাগড়া পৌরসভার রামপুর গ্রামের মৃত ফকির নায়েব আলীর ৩ ছেলে ও ২ মেয়ের মধ্যে প্রতিবন্ধী বাবর আলী সবার বড়। পিতার মৃত্যুর পর ভাইয়েরাই সংসার দেখভাল করে। একা একটি টিনসেড ঘরে বসবাস করেতেন তিনি।
বৃহস্পতিবার রাত ১০ টার দিকে রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন বাবর আলী। সে ঘুম ছিল তার জীবনের শেষ ঘুম। ১৯ মার্চ শুক্রবার ভোর ৪টার দিকে ঘরে মশা তাড়াতে জ্বালানো মশার কয়েল থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। খুব দ্রুতই তা ছড়িয়ে পড়ে পুরো ঘরে। পরিবারের সদস্যরাসহ গ্রামের লোকজন আগুনের বিষয়টি টের পাবার সাথে সাথে নেভানোর চেষ্টা করে। এরই মধ্যে লোহাগড়া উপজেলার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরী হয়ে যায়। শারীরিক প্রতিবন্ধী বাবর আলীর বাঁচার আকুতি থাকলেও চলাচলে অক্ষম হওয়ায় ঘর থেকে বের হতে পারেননি। শরীরের ৯০ ভাগই আগুনে পুড়ে তার মৃত্যু হয়।
মা- দোলেনা বেগমসহ পরিবারের সদস্যরা বাকরুদ্ধ হয়ে আছে। নিহতের ভাই মোঃ বাদলসহ অন্যরা বলেছে অগ্নিকাণ্ডে ভাইয়ের জীবন গেছে। ঘরসহ আসবাবপত্র পুড়ে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৪/৫ লাখ টাকার।
লোহাগড়া উপজেলার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার মোঃ মাসুদ রানা বলেছেন, আমরা ঘটনাস্থলে পৌছে আগুন নিয়ন্ত্রণে করেছি। কিন্তু ততক্ষণে বাবর আলীর মৃত্য হয়ে যায়। মশার কয়েল থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

 

(ঊষার আলো-এম.এইচ)

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ