ঊষার আলো ডেস্ক : বাংলাদেশের কাঁকড়ার সবচেয়ে বড় বাজার চীনে আবারও রপ্তানি করা শুরু হয়েছে। মাঝে রপ্তানি বন্ধ ছিল প্রায় ৯ মাস।
মৎস্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক নিয়াজ উদ্দিন বলেন, চীনের দেওয়া বেশকিছু শর্ত পূরণের পর ফের ২ জুন থেকে নতুন করে রপ্তানি শুরু হয়েছে। নতুন করে ৫টি প্রতিষ্ঠানকে তালিকাভুক্ত করেছে চীন।
তিনি আরও জানান, রপ্তানি করা কাঁকড়া ও কুচিয়ায় সীসা ও ক্যাডমিয়াম ধরা পড়ার পরে ২০২০ সালের জুনে চীন কিছু শর্ত আরোপ করে। তখন মৎস্য অধিদপ্তরের ল্যাবরেটরি থেকে পরীক্ষা করে সার্টিফিকেট ইস্যুর মাধ্যমে রপ্তানি সচল করা হয়। পরে সেপ্টেম্বরে এক রপ্তানিকারক জাল সার্টিফিকেট দিয়ে ধরা পড়ার পর রপ্তানি আবারও বন্ধ হয়। এ জন্য বিএম ট্রেডার্সকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়।
চীনের সব শর্ত পূরণের পর নতুন করে ফের রপ্তানি শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, ঢাকার সাভার, খুলনা ও চট্টগ্রামে মৎস্য অধিদপ্তরের ৩টি ল্যাবরেটরিতে নতুন প্রযুক্তি স্থাপনের মাধ্যমে ১২/১৩টি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর এখন রপ্তানির সার্টিফিকেট দেওয়া হচ্ছে। তবে আগে চীনের এ ধরনের টেস্ট রিকোয়ারমেন্ট ছিল না। ফলে কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষার ছাড়াই যে কেউ চায়নায় কাঁকড়া বা কুচিয়া রপ্তানি করতে পারতেন। তাদের নতুন শর্ত অনুযায়ী, ইংরেজি এবং চীনা ভাষায় এখন সার্টিফিকেট দিতে হচ্ছে।
করোনা মহামারির শুরুর দিকেই চীনে কাঁকড়া রপ্তানির বাজারে ধস নেমে আসে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হিসাবে, ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৩৫ মিলিয়ন ডলারের কাঁকড়া রপ্তানি হলেও পরের বছর ২০২০-২০২১ অর্থবছরে তা নেমে ১২ মিলিয়ন ডলারে চলে আসে।
হংকং, মিয়ানমার, ভিয়েতনাম, জাপান ও মালয়েশিয়াসহ আরও কিছু দেশে কাঁকড়া রপ্তানি হলেও মূল বাজার চীন। চীনের বাজার বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে সামগ্রিক রপ্তানি ৫০ শতাংশ কমে যায়।
(ঊষার আলো-এফএসপি)
