ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সংঘর্ষে নিহত ৫

সর্বশেষ আপডেটঃ
30
0
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিজিবির টহল - ছবি বিবিসি বাংলা

ঊষার আলো ডেস্ক : ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সফরের প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সংঘর্ষে শনিবার পাঁচজনের মৃত্যুর খবর স্থানীয় হাসপাতাল সূত্র থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। সূত্র : বিবিসি বাংলা
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের একজন চিকিৎসাকর্মী বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, শনিবার (২৭ মার্চ ) বিকেলের দিকে পাঁচজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। এদের মধ্যে তিনজন মৃত ছিলেন। আহত দুজন হাসপাতালে ভর্তি হবার পর মারা যান বলে হাসপাতালের সূত্র থেকে জানানো হয়েছে।
শুক্রবারের বিক্ষোভে হতাহতের ঘটনার জেরে তুমুল উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে চট্টগ্রামের হাটহাজারী এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ কয়েকটি জায়গায় ইতোমধ্যেই বিজিবি মোতায়েনের কথা জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
শুক্রবার সেখানে থানা ও এসি ল্যান্ড অফিসসহ কয়েকটি সরকারি অফিসে হামলার ঘটনা ছাড়াও সহিংসতায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছে। নিহতদের কোন ধরণের ময়না তদন্ত ছাড়াই দাফনের দাবি জানাচ্ছে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা।
ওই ঘটনার জন্য হাটহাজারী থানার ওসির প্রত্যাহার, কোনো মামলা না করাসহ কয়েকটি দাবিতে শনিবার ভোর থেকে শিক্ষার্থীরা বিচ্ছিন্নভাবে রাস্তায় নেমে আসে।
স্থানীয় সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, মাদ্রাসার সামনে সড়কের একটি জায়গায় দেয়াল তোলার পাশাপাশি আরেকটি জায়গায় সড়ক কেটে দিয়েছে শিক্ষার্থীরা। এলাকায় উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করলেও এখন পর্যন্ত কোনো সহিংসতা বা সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়নি। তবে প্রশাসনের তরফ থেকে এসব বিষয়ে কেউ কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে স্থানীয় সাংবাদিক সেলিম পারভেজ জানিয়েছেন, সকাল থেকে ছোট ছোট মিছিল নিয়ে জড়ো হতে শুরু করেন মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা।
শুক্রবারের ঘটনা ও নরেন্দ্র মোদীর সফরের প্রতিবাদে বিকেলে ঢাকা সিলেট মহাসড়কে কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী অবস্থান নেয়। এসময় বিজিবি সদস্যরা তাদের দাওয়া করলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে জানাচ্ছেন মি. পারভেজ।
শুক্রবার ঢাকার বায়তুল মোকাররম এলাকায় সহিংসতার পর চট্টগ্রামের হাটহাজারী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সহিংসতা হয়। শহরের রেলস্টেশনের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে বিক্ষোভকারীরা। এখানে সহিংসতার জেরে একজনের প্রাণহানি ঘটে ।
সেখানকার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আব্দুর রহিম বিবিসিকে জানিয়েছেন যে শুক্রবারের ঘটনায় ১৪ জনকে আটক করেছেন তারা।
শনিবার দুপুরে রাজধানীর বাইরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বিক্ষোভ মিছিল বের করে হেফাজতে ইসলামের কর্মীরা।
ওদিকে শুক্রবারে হতাহতের প্রতিবাদে শনিবার সারাদেশে বিক্ষোভ ও রবিবার (২৮ মার্চ) হরতালের কর্মসূচির ডাক দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম।
অন্যদিকে যুবলীগও শনিবার (২৭ মার্চ) সারা দেশে মিছিল সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করে।
এদিকে মোদীর সফরের প্রতিবাদে ঢাকায় ভাসানী পরিষদ নামে একটি সংগঠন আজ প্রেসক্লাব এলাকায় সমাবেশ করেছে যেখানে অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, জাফরুল্লাহ চৌধুরী ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরসহ বেশ কয়েকজন বক্তব্য রাখেন।

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ