ঝুঁকিতে ডা. মুরাদের এমপি পদও, জামালপুর আ.লীগ থেকে অব্যাহতি

সর্বশেষ আপডেটঃ

ঊষার আলো রিপোর্ট : প্রতিমন্ত্রীর পর দল থেকেও বাদ পড়লেন ডা. মুরাদ হাসান এমপি। জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের পদ থেকে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তিনি জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন।
মঙ্গলবার (০৭ ডিসেম্বর) জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ বাকী বিল্লাহ সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

দল থেকে বাদ দেয়ার পর ঝুঁকিতে পড়তে পারে তাঁর সংসদ সদস্য পদও বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

জামালপুরের আওয়ামী লীগ নেতা মতিউর রহমান তালুকদারের ছেলে মুরাদ ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের টিকেটে জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী, মেস্টা ও তিতপল্যা) সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৮ সালে তিনি দ্বিতীয়বার সংসদ সদস্য হন।

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা আছে, কোনো নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরূপে মনোনীত হয়ে কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে তিনি যদি (ক) উক্ত দল হতে পদত্যাগ করলে অথবা (খ) সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করলে, সংসদে তার আসন শূন্য হবে।

এদিকে, সংবিধানের ৬৬(ঘ) অনুচ্ছেদে বলা আছে, কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য থাকার যোগ্য হবেন না যদি তিনি নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে দণ্ডিত হন।

সম্প্রতি খালেদা জিয়া ও তার নাতনি জাইমা রহমানকে নিয়ে ফেসবুক লাইভ আলোচনায় কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে ব্যাপক সমালোচনায় পড়েন ডা. মুরাদ। এরপর সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয় নায়িকা মাহির সঙ্গে তার আপত্তিকর ফোনালাপ। এর মধ্যেই আরেক ভিডিও আলোচনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের নেত্রীদের নিয়েও তিনি অপমানজনক বক্তব্য দেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলে দল ও দলের বাইরে।
এর জেরে সোমবার রাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুরাদ হাসানকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম থেকে ই-মেইলে পদত্যাগপত্র পাঠান মুরাদ হাসান।
অপরদিকে দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ এমপি ডা. মুরাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে আভাস দিয়েছেন। তিনি মঙ্গলবার (৭ ডিসেম্বর) সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের বলেন, মুরাদ হাসানকে এরইমধ্যে মন্ত্রিপরিষদ থেকে পদত্যাগ করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। দল থেকে বহিষ্কারের বিষয়ে দলের আগামী কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে সুপারিশ করা হবে।