বঙ্গবন্ধু জাতের ধানের আবাদে মহাখুশি খুলনা অঞ্চলের কৃষক

সর্বশেষ আপডেটঃ

নেওয়াজ শিপলু : এবারের বোরো আবাদের অন্যতম আকর্ষণ বঙ্গবন্ধু জাতের ধান। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট খুলনায় পরীক্ষামূলকভাবে এবারেই প্রথম বীজ সরবরাহ করেছে। দেওয়া হয়েছে বিনামূল্যে। স্থানীয় জাতের চেয়ে দ্বিগুণ উৎপাদন হবে এ আশায় মহাখুশিতে রোপন শুরু হয়েছে। এবারের সিংহভাগ জমিতে হাইব্রীড জাতের চাষ হচ্ছে। বঙ্গবন্ধু জাতের ধান ইতিমধ্যেই রোপন কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

ডিসেম্বরের প্রথমার্ধ্বে বোরো মৌসূমের শুরুতেই ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের আঘাতে বড় ধরণের ধাক্কা খায় দক্ষিণের কৃষক। ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কৃষক কোমর বেধে নেমেছে বোরো আবাদে। লক্ষ্য ১০ লাখ ৫৯ হাজার মেট্টিক টন ধান উৎপাদন। যার আনুমানিক মূল্য তিন হাজার কোটি টাকা। জেলাগুলো হচ্ছে খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট ও নড়াইল।

গত ৪-৬ ডিসেম্বর ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের আঘাতে উল্লিখিত ৪ জেলায় চারশ’ ৩৭ হেক্টর বোরো বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্যানুযায়ী ক্ষতির পরিমাণ দশ লাখ ৮১ হাজার পাঁচশ’ ১০ টাকা। জেলাগুলোতে দু’হাজার পাঁচশ’ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলাগুলো হচ্ছে খুলনার রূপসা, বটিয়াঘাটা, দিঘলিয়া, ডুমুরিয়া, দাকোপ, পাইকগাছা, নড়াইলের কালিয়া, লোহাগড়া, বাগেরহাটের ফকিরহাট, চিতলমারী, মোল্লাহাট, কচুয়া, শরণখোলা, সাতক্ষীরার শ্যামনগর, কালীগঞ্জ, তালা, কলারোয়া ও আশাশুনি।

এ মৌসূমে দক্ষিণের জেলাগুলোতে দুই লাখ ৪০ হাজার সাতশ’ ৮০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বোরো মৌসূমে এখানে দু’লাখ ৪০ হাজার চারশ’ ১০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়। এ মৌসূমে দশ লাখ ৫৯ হাজার একশ’ ৩৩ মেট্টিক টন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গেলো মৌসূমে দশ লাখ ৫৪ হাজার চারশ’ মেট্টিক টন বোরো ধান উৎপাদন হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৩৭ হাজার নয়শ’ ৫০ হেক্টর জমিতে রোপন সম্পন্ন হয়েছে। মোট লক্ষ্যমাত্রার ১৬ শাতাংশ। জানুয়ারির মধ্যে বাকি জমির রোপন শেষ হবে।

এবারে বোরোর উল্লেখযোগ্য অধ্যায় খুলনার ডুমুরিয়া, ফুলতলা ও বটিয়াঘাটা উপজেলায় বঙ্গবন্ধু নামের নতুন বীজ দিয়ে পরীক্ষামূলক আবাদ শুরু হয়েছে। তিন উপজেলার কৃষকদের মধ্যে বিনামূল্যে ৫০ কেজি বঙ্গবন্ধু বীজ বিতরণ করা হয়েছে। ৯০ দিনের মধ্যে বঙ্গবন্ধু জাতের ধান কাটা সম্ভব হবে। নতুন এ জাত অপেক্ষাকৃত চিকন ধান। বোরো আবাদের লক্ষ্যে খুলনার গুদামগুলোতে পাঁচ হাজার দু’শ ২৪ মেট্টিক টন ইউরিয়া, চার হাজার ছয়শ’ ২১ মেট্ট্রিক টন ড্যাপ, এক হাজার আটশ’ ২৭ মেট্টিক টন পিএইচপি এবং এক হাজার ৮৪ মেট্টিক টন এমওপি সার মজুদ করা হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খুলনার অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মহাদেব চন্দ্র সাহা জানান, বোরো মৌসূমের প্রথমে জাওয়াদের আঘাত ছাড়া আর কোনো বাধা-বিপত্তি দেখা দেয়নি। চালের ঘাটতি কমাতে সিংহভাগ জমিতে হাইব্রীড জাত চাষ করা হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে এ মৌসূমে রোগ-বালাই দেখা দিবে কম। তিনি জানান, শেষ সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য জেলার পাঁচশ’ ২২টি খাল পুন:খননের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

খুলনার রূপসা উপজেলার বাঁধাল গ্রামের কৃষক ওয়াহিদুজ্জামান মল্লিক জানান, পাঁচ বিঘা জমিতে আবাদ করেছেন। বীজতলায় ৯ কেজি হাইব্রীড জাতের বীজ ব্যবহার করেন। গেল বারের তুলনায় এবার ফলন ভালো হবে বলে তিনি আশাবাদী।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো খুলনার সূত্র জানান বোরো আবাদের জন্য কৃষি শ্রমিকরা দৈনিক চারশ’ থেকে সাড়ে চারশ’ টাকা মজুরি হিসেবে পাচ্ছেন। মহিলাদের ক্ষেত্রে এ মজুরি ৩২৩ টাকা।

(ঊষার আলো-এমএনএস)