শিক্ষার্থীদের টিকা প্রদানে অব্যবস্থাপনা, ক্ষুব্ধ অভিভাবক

সর্বশেষ আপডেটঃ

ঊষার আলো প্রতিবেদক : খুলনা মহানগরীতে শিক্ষার্থীদের কোভিট টিকা প্রদানে অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। স্বাস্থ্যবিধি লংঘন করে হাজারো শিক্ষার্থীদের জড়ো করে নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এ টিকা প্রদান করা হয়। শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের অভিযোগ, করোনা প্রতিরোধে টিকা প্রদানের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টরা আরো ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। পর্য়াপ্ত নিরাপত্তা না রেখে টিকা প্রদান করা হচ্ছে। ঘন্টার পর ঘন্টা তাদের অপেক্ষা করতে হয়েছে। অনেকে বাড়িতে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে। কিন্তু কেউই এসবের দায় নিতে চাচ্ছেনা। ফলে সরকারের সময়পযোগী উদ্যোগের সাফল্য ম্লান হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ জানুয়ারি) সরেজমিন ঘুরে টিকা দানের অব্যবস্থাপনার চিত্র দেখা গেছে। সেখানে কোন লাইন, শৃঙ্খলা ও স্বাস্থ্যবিধির বালাই চোখে পড়েনি।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, বৃহস্পতিবার একই সাথে চারটি স্কুলের শিক্ষার্থীদের টিকা দিতে শের-এ-বাংলা রোডের নগর স্বাস্থ্য ভবনে দুপুর ১২টায় আসতে বলা হয়। এসব স্কুলের হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীদের একই সাথে কেন্দ্রে উপস্থিত হওয়ায় হ-য-ব-র-ল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। কোন সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা না থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে সামাজিক দূরত্বের কোন বালাই দেখা যায়নি। সেই সাথে ধাক্কাধাক্কিও ঘটেছে। ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থেকেও টিকার বুথ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেনি কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। সিটি কর্পোরেশনের এমন উদাসিনতা ও অব্যবস্থাপনায় রীতিমতো ক্ষুব্ধ অবিভাবকরা।

অভিভাবক শিরিন চৌধুরী বলেন, এভাবে কেন টিকা দিতে হবে তা আমার বোধগম্য নয়। যেহেতু সন্তানদের ব্যাপার তাই কর্তৃপক্ষের উচিত ছিল সঠিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নেয়ার। কর্তৃপক্ষের এমন উদাসিনতার কারণে বাচ্চাকে টিকা না দিয়েই ফিরে যাচ্ছি।

অপর অভিভাবক আমিরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, আমার সন্তানের সুরক্ষার জন্য টিকা দিতে এসে দেখলাম উল্টো চিত্র। টিকা কেন্দ্র ও আশপাশের যে পরিবেশ তাতে এখান থেকেই করোনা সংক্রমনের ভয়ে আমি ভীত। তাই সন্তানকে টিকা না দিয়েই বাড়িতে ফিরে যাচ্ছি।

কেসিসির স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. স্বপন কুমার হালদার অভিভাবকের বলেন, এ অব্যবস্থাপনার জন্য স্কুল শিক্ষকদের ওপর দোষ চাপান। তিনি বলেন, বিষয়টি শিক্ষকের দেখা উচিত ছিল। তারা সেটি না করায় তাদের কিছুই করার নেই।

আবার জেলা সিভিল সার্জন দপ্তর এ ঘটনার দায় নিতে চান না। তারা বলেছে, কেসিসি টিকা দানের ব্যবস্থা করেছে সুতরাং শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব তাদের।

অসহায় এক শিক্ষার্থীর বাবা বলেন, সব মিলিয়ে শিশুগুলো গিনিপিগ, আর অভিবাবকরা অসহায়। করোনা প্রতিরোধ কমিটির দায়িত্ব কি চার দেওয়ালের সীমাবদ্ধ। তিনি সামাজিক মাধ্যমে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে তাৎক্ষণিক ব্যাপারটি নিয়ে একটি স্ট্যাটাস দেন।

ফেসবুকে ক্ষুব্ধ অভিভাবকের স্ট্যাটাস দেখে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন সিটি কর্পোরেশনের সচিব আজমল হক। তিনি অভিভাবকের ফেসবুকে এক কমেন্টে লেখেন, এটাতো বাজে ব্যাপার। শিক্ষা কর্মকর্তা ও সিভিল সার্জন অফিসের খেয়াল রাখা দরকার। স্বাস্থ্য বিভাগ আরো সাবধান হোন। কখন কোন স্কুল আসবে তার সময় উল্লেখ করে তালিকা অনুযায়ী টিকা দিতে হবে। সকলকে সহনশীল হবার অনুরোধ করি।

(ঊষার আলো-এমএনএস)