পেঁয়াজের বাম্পার ফলনে মাগুরায় কৃষকের মুখে হাসি

সর্বশেষ আপডেটঃ
33
0

মাগুরা প্রতিনিধি : মাগুরা জেলায় এবছর পেঁয়াজের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসির ঝিলিক দেখা দিয়েছে। জেলার পেঁয়াজ চাষীরা তাদের জমি থেকে পেঁয়াজ তুলে বাজারে আনতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। জেলার চার উপজেলার মধ্যে শ্রীপুরে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে বেশি।
কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, এ বছর আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় জেলার কৃষকরা পেঁয়াজ চাষভাল হয়েছে। জেলায় মোট পেঁয়াজ চাষ হয়েছে ১০ হাজার ৫শ’ হেক্টর জমিতে। তার মধ্যে সদরে ১ হাজার ১৯০ হেক্টর, শ্রীপুরে ৬ হাজার ৩৫০ হেক্টর, শালিখায় ১ হাজার ১৪০ হেক্টর ও মহম্মদপুরে ১ হাজার ৮২০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়েছে। এবার হেক্টর প্রতি পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে ১৪ মেট্রিক টন। এ বছর জেলায় পেয়াঁজের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১.৪৭ মেট্রিক টন। জেলায় এবার বারী-১,ও বারী-৪, তাহের পুরী, লালতীর, সুপার ও কিং জাতের পেঁয়াজ চাষ করেছেন কৃষকরা। এবার ধারণা করা হচ্ছে বিঘা প্রতি ৮০ থেকে ৯০ মণ পেঁয়াজ পাবেন কৃষকরা।
শ্রীপুর উপজেলার মর্কদ্দমখোলা গ্রামের পেঁয়াজ চাষী রফিকুল ইসলাম জানান, এবার আবহাওয়া অনুকুলে থাকার কারণে জমিতে পেঁয়াজ চাষ ভালো হয়েছে। তিনি এবার ২ বিঘা জমিতে লালতীর জাতের পেঁয়াজের বীজ আবাদ করে সময়মতো সেচ ও সার দেয়ায় পেঁয়াজের উৎপাদন ভালো হয়েছে। ইতিমধ্যে জমি থেকে পেঁয়াজ তুলতে শুরু করেছেন। বীজ, সারসহ অন্যান্য খরচ দিয়ে তার ৫০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। এখন প্রতি মণ পেঁয়াজ ৯৫০ টাকা থেকে ১ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজার ঠিক থাকলে ১ থেকে দেড় লাখ টাকা মুনাফা হবে বলে আশা করছেন।
সদরের বেলনগর গ্রামের রিপন মোল্যা জানান, তিনি সুপার জাতের পেঁয়াজ চাষ করেছেন। এ জাতের পেঁয়াজের রং, আকার ও গঠন খুবই ভালো। এটি দেশি জাতের পেঁয়াজের মতো দেখতে। ফলন ভাল হয়েছে বাজারে দামও ভাল পাবেন বলে আশা করছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সুশান্ত কুমার প্রামানিক জানান, এবার আবহাওয়া ও পরিবেশ অনুকুলে থাকায় জেলায় পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। কোন প্রাকৃতিক দূর্যোগ না থাকার কারণে পেঁয়াজ চাষীদের কোন ক্ষতি হয়নি। বাজারে পেঁয়াজের দাম ভাল থাকায় কৃষকরা লাভবান হবেন। পেঁয়াজ চাষে উদ্ধুদ্ধ করতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে জেলার চাষীদের মাঝে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ করা হয়েছে।

(ঊষার আলো-এমএনএস)

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ