আইসিইউ খালি নেই খুমেক হাসপাতালে

সর্বশেষ আপডেটঃ
30
0

৫০ শয্যার করোনার ও ৩০ আইসিইউ বেডের প্রস্তুতি চলছে

ঊষার আলো প্রতিবেদক : কয়েক মাস আগে থেকেই শীতে করোনার সংক্রমণ বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। সংক্রমণের দ্বিতীয় পর্যায় মোকাবেলার জন্য পর্যাপ্ত প্রস্তুতির কথা জানিয়ে আসছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। বাস্তবতা হচ্ছে, করোনাক্রান্ত রোগী বাড়ায় এখন সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতাল। চিকিৎসা, নার্স ও জনবল সংকট মিটাতে না পারলে পরিস্থিতি সামাল দিতে বেগ পেতে হবে। এমন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে খুমেক হাসপাতালে নতুন করে ৫০ শয্যা ও ৩০ আইসিইউ বেড উন্নীতকরণের জন্য কার্যক্রম চলছে।
এদিকে খুমেক হাসপাতালে গত এক সপ্তাহে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ৬৯ জন, মারা গেছেন ১১ জন। এছাড়া একই সময়ে আইসোলেশনে ভর্তি হয়েছেন ৮৭ জন এবং মারা গেছেন ৯ জন। গত ২৪ ঘন্টায় খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৭৭ জন। এর মধ্যে খুলনা জেলায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৫০ জন এর মধ্যে ১ জন রোগী মারা গেছেন। খুলনা জেলায় করোনা শনাক্তের হার ১২ শতাংশ। খুলনা জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির এপ্রিল মাসের সভা রোববার (১৮ এপ্রিল) সকালে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেনের সভাপতিত্বে জুম প্রযুক্তিতে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সিভিল সার্জন ডাঃ নিয়াজ মোহাম্মদ এ তথ্য তুলে ধরেন।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা: এটিএম মঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, খুমেক হাসপাতালে বর্তমানে ইউওলো জোন ও রেড জোন এবং আইসিইউ মিলে মোট ১০০ টি কোরানার শয্যা রয়েছে। দিনকে দিন করোনা রোগী শণাক্ত ও মৃত্যু সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন করো আরো করোনার ৫০ শয্যা ও ৩০ টি আইসিইউ বেড চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ওই সব ইউনিট প্রস্তুতির জন্য শ্রমিকরা কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, ওই ইউনিটগুলো প্রস্তুতি হলেই সেখানে নতুন করে নার্স, চিকিৎসক ও জনবল প্রয়োজন হবে। এমনতি জনবল সংকট রয়েছে হাসপাতালে। তারপরেও আমরা জনবল সংকটের মধ্যে দিয়ে রেগীদের স্বাস্থ্য সেবা দিয়ে যাচ্ছি।
খুলনা জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির এপ্রিল মাসের সভা সকালে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেনের সভাপতিত্বে জুম প্রযুক্তিতে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সিভিল সার্জন ডাঃ নিয়াজ মোহাম্মদ বলেন, জেলায় করোনা শনাক্তের হার ১২ শতাংশ। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে আইসিইউ ও রেড-ইয়োলো জোন মিলিয়ে ৮০জন রোগী ভর্তি আছেন। এখানে সম্প্রসারিত করোনা ওয়ার্ডের জন্য ১৫ জন ডাক্তারসহ প্রয়োজনীয় জলবল প্রদায়ন করা হয়েছে। আরটি-পিসিআর যন্ত্রে পরীক্ষার পাশাপাশি করোনা শনাক্তে খুলনায় কয়েক দিনের মধ্যে এন্টিজেন পরীক্ষা চালু হবে।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আরএমও ও করোনা ইউনিটের ফোকাল পার্সন ডা: সুহাস রঞ্জন হালদার বলেন, নতুন করে আইসিউই জোন-২ চালুর জন্য কার্যক্রম চলছে। এখানে ৩০-৪০টি আইসিইউ বেড চালু করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, আইসিইউ চালু করলেই তো হবে সেখানে চিকিৎসা, নার্স ও চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারি জনবল প্রয়োগ করতে হবে। প্রস্তুতির করার পর সেখানে জনবল দিতে না পারলে কোন কিছুই হবে ন
খুমেক হাসপাতালের সূত্র মতে, গত এক সপ্তাহে (১১ এপ্রিল -১৭ এপ্রিল )করোনা হাসাপাতালে করোনায় আক্রান্ত হয়ে রোগী ভর্তি হয়েছেন ৬৯ জন। এ সময়ে মারা যান ১১ জন। এছাড়া আইসোলেশনে ভর্তি হয়েছেন ৮৭ জন। এ সময়ে মারা যান ৯ জন।
খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সূত্র মতে, ১৭ এপ্রিল সকাল ৮টা থেকে ১৮ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘন্টায় খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় কোভিড-১৯ রোগী প্রমানিত সংখ্যা ৭৭ জন। এর মধ্যে খুলনা জেলায় আক্রান্ত সংখ্যা ৫০ জন। এ সময়ে খুলনায় মারা যান ১ জন রোগী। এছাড়া গত ২৪ ঘন্টায় বাগেরহাটে করোনায় আক্রান্ত ৩ জন, যশোরে ৪ জন, ঝিনাইদহে ৮ জন, কুষ্টিয়ায় ১ জন, মেহেরপুরে ২ জন এবং নড়াইলে ৯ জন।

(ঊষার আলো-এমএনএস)

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ